(দিনাজপুর২৪.কম) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে তো হচ্ছেই। কোনোভাবেই বন্ধ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তির কল্যাণে তা রোধ করা যেনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা আগেই এসব প্রশ্নপত্র ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমোসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে যাচ্ছে।

আজ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল ৯টা ৩ মিনিটে ‘বিডি ও বিশ্বপরিচয় (২০০ টাকা)’ নামে হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে এই বহু নির্বাচনী অভীক্ষার ‘খ’ সেট প্রশ্নপত্রটি ফাঁস হয়। শনিবার পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে এসএসসির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরীক্ষার বহু নির্বাচনী প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা শেষে আজকের পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে এর হুবহু মিল পাওয়া গেছে। এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আগের ১০টি বিষয়ের বহু নির্বাচনী অভীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস একইভাবে হয়।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা সত্ত্বেও এবারের এসএসসি ও সমমানের কোনো পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে নানা ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার পরও কোনো ব্যবস্থায় কাজে আসেনি।

গত বৃহস্পতিবার এ ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘বিদ্যমান পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়।’ তাই প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ২০১৯ সাল থেকে নতুন পদ্ধতিতে এসএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে।

শিক্ষা সচিব, ‘পরীক্ষার বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তনে আমি নিজে কাজ করছি। একটি উপায় আমরা অবশ্যই বের করবো এবং বিশেষজ্ঞদের এ কাজে সম্পৃক্ত করবো। নতুন পদ্ধতিতে আগামী বছর থেকে পরীক্ষা নেয়া হবে। যে পদ্ধতি নিয়ে জনমনে আর কোনও প্রশ্ন থাকবে না।’

এমসিকিউ পদ্ধতি তুলে দেয়া হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা সচিব বলেন, ‘এমসিকিউর অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তা কতটুকু ভালো উদ্যোগ সে বিষয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে। এই পদ্ধতিটি খুবই ঝামেলা করছে। এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমি মনে করি, প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে এমসিকিউ অনেকাংশে দায়ী।’

এদিকে, একের পর এক প্রশ্ন ফাঁসের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সবখানে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই প্রকাশ্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগও দাবি করেছেন।গত বুধবার দায়িত্বে অবহেলা ও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগ দাবি করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আখন্দ।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত ও রোধে দুইটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একটি রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই কমিটি গঠন করেন। দুইটি কমিটির মধ্যে প্রশাসনিক কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ। আর ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বিচারিক তদন্ত কমিটি। প্রত্যেক কমিটির সদস্যসংখ্যা পাঁচজন করে।

এর আগে, একই বেঞ্চ প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। শিক্ষাসচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব, আইনসচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের ড্রাফটিং উইংয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, তথ্যপ্রযুক্তিসচিব, বিটিআরসির সচিব-চেয়ারম্যান, বিটিসিএল প্রধান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-চেয়ারম্যান, ঢাকা-রাজশাহী, কুমিল্লা-যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল সিলেট, দিনাজপুর উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে।

সম্প্রতি এক ব্যক্তি রিটটি করেন। রিটকারীর আইনজীবী ছিলেন জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিচারিক তদন্ত কমিটি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত খুঁজে বের করবেন। আর প্রশাসনিক কমিটি প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করবেন। তিনি বলেন, দুটি কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে ৩০ দিন সময় দেয়া হয়েছে।

রুলের জবাব দুই সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে- শিক্ষাসচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব, আইনসচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের ড্রাফটিং উইংয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, তথ্যপ্রযুক্তিসচিব, বিটিআরসির সচিব-চেয়ারম্যান, বিটিসিএল প্রধান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-চেয়ারম্যান, ঢাকা-রাজশাহী, কুমিল্লা-যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল সিলেট, দিনাজপুর উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে। -ডেস্ক