(দিনাজপুর২৪.কম) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এনে এবার এসএসসির যেসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলো বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত এবং এ ফাঁস রোধে একটি আইন প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়ারও আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় ছয় নম্বরে রয়েছে এ রিটটি। আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকাসহ তিন আইনজীবী।

জানতে চাইলে আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, বুধবার রিট করেছি আমরা। আজ শুনানি হতে পারে। কোর্টের কার্যতালিকায় রয়েছে। রিট আবেদনে প্রশ্নফাঁসের কারণে এবার যেসব পরীক্ষা হয়েছে সেগুলো বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশনা জারির আবেদন করেছি। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত এবং এ ফাঁস রোধে একটি আইন প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়ার আর্জিও জানিয়েছি।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরে এসএসসির যতগুলো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে তার সবক’টির প্রশ্নই ফাঁস হয়েছে। এসব অভিযোগে ছাত্র-শিক্ষকসহ অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সবগুলো প্রশ্নই পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ফাঁস হয় এবং সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে প্রশ্ন ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ৫ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিলেও ফাঁস বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ গত রোববার পরীক্ষার দিন আড়াই ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়ে পরে সোমবার সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হয়।

এসএসসিতে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে করণীয় নির্ধারণে গত ৪ ফেব্রুয়ারি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়। রোববার ওই কমিটির প্রথম সভা শেষে তিনি জানান, প্রশ্ন ফাঁসে ব্যবহৃত ৩০০ মোবাইল ফোন নম্বর চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এসব মোবাইল নম্বরের মালিকদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানেও নেমেছে। -ডেস্ক