রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদ। -পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়াসহ নানা অভিযোগে সিলগালা করে দেওয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদ সম্পর্কে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

গতকাল মঙ্গলবার থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকে মো. শাহেদের বহু ছবি শেয়ার করেছেন যেখানে তাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা গেছে। এমনকি বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতার সঙ্গেও তার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘বাংলাদেশের হর্তা-কর্তা ব্যক্তিদের সাথে সে ছবি তুলেছে। এটা আসলে তার একটা মানসিক অসুস্থতা। এই ছবি তোলাকে কেন্দ্র করেই সে প্রতারণা করতো।’

মো. শাহেদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতারকদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা যখন যার নাম পারে তখন সেটা বেঁচে নিজের জীবনকে অগ্রগামী করার চেষ্টা করে।’

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদ বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণাই ছিল তার প্রধান ব্যবসা।’

করোনাভাইরাস পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, নিয়ম বহির্ভূতভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় এবং মেয়াদপূর্তির পরও লাইসেন্স নবায়ন না করায় মঙ্গলবার রিজেন্ট হাসপাতাল বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অথচ এই হাসপাতালটি সরকার করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করেছিল।

তার আগে গত সোমবার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই নেগেটিভ বা পজিটিভ রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ‌র‌্যাব। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

সোমবার অভিযানের সময় রিজেন্ট থেকে আট কর্মচারীকে ধরে এনেছিল র‌্যাব। মঙ্গলবার করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। -ডেস্ক