(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশ যাওয়ার আবেদনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষর করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ঢাকার বাইরে আছেন।তিনি ঢাকায় ফিরে স্বাক্ষর করলে প্রধান বিচারপতির দেশের বাইরে যেতে আর কোনো বাধা থাকবে না।বুধবার (১১ অক্টোবর) বিকেল তিনটার দিকে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, প্রধান বিচারপতি নিজেই ছুটি নিতে পারেন। কিন্তু বিদেশ যেতে হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন হয়। আর এ অনুমোদনের জন্য ফাইলটি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বঙ্গভবনে যাওয়ার নিয়ম।আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি যে আবেদন করেছেন সেখানে আজ প্রধানমন্ত্রী ও আমি স্বাক্ষর করেছি। কিশোরগঞ্জ থেকে ফিরলে রাষ্ট্রপতি তাতে স্বাক্ষর করবেন। স্বাক্ষর হয়ে গেলে তার বিদেশ যেতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

এক মাসের ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করতে চান। বিষয়টি উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির কাছে একটি চিঠি পাঠান তিনি।আবেদনে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত, শারীরিকভাবেও অসুস্থ। বিদেশে তার বিশ্রামের প্রয়োজন। বিস্বস্ত সূত্রে একথা জানাগেছে।

প্রসঙ্গত, এ ধরনের ছুটি আদালত থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে আসে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যায়। এখান থেকে অনুমোদনের পর ছুটি মঞ্জুর সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপরই কেবল বিদেশে যাওয়া যায়। ইতিপূর্বে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রাষ্ট্রপতিকে লেখা প্রধান বিচারপতির ছুটি সংক্রান্ত একটি চিঠি পড়ে শোনান।

পরে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ওই চিঠি তিনি তুলে ধরেন এবং গণমাধ্যম কর্মীদের চিঠির ছবি তোলার অনুমতি দেন। চিঠিতে লেখা হয়েছিল ‘অসুস্থতাজনিত কারণে ৩ অক্টোবর ২০১৭ খ্রি. হতে ১ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত ৩০ দিনের ছুটির আবেদন।’

চিঠিতে আরও লেখা রয়েছে, ‘মহাত্মন, আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমি গত বেশ কিছুদিন নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছি। আমি ইতোপূর্বে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিলাম। বর্তমানে আমি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক সুস্থতার জন্য বিশ্রামের একান্ত প্রয়োজন।

ফলে আমি আগামী ৩ অক্টোবর ২০১৭ খ্রি. হতে ১ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত ৩০ দিনের ছুটি ভোগ করতে ইচ্ছুক। এমতাবস্থায় আগামী ৩ অক্টোবর ২০১৭ খ্রি. হতে ১ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত ৩০ (ত্রিশ) দিনের ছুটির বিষয়ে মহাত্মনের সানুগ্রহ অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। চিঠির নিচে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার স্বাক্ষরযুক্ত। তবে এই চিঠি নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।

গত ১০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি দেশের বাইরে ছুটিতে ছিলেন। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। এরপর অক্টোবরে এক মাসের ছুটির আবেদন করেন। ছুটির কারণ হিসেবে তিনি ‘অসুস্থতা’র কথা উল্লেখ করেন।

সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘দীর্ঘ এক মাস অবকাশ শেষে কোর্ট খোলার পর প্রথম দিন থেকেই তিনি ছুটিতে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তার অবর্তমানে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে প্রধান বিচারপতির ওই ছুটির মাঝেই তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান পূজা দিতে। এরপর তার ছুটি নিয়ে বিএনপি নেতারা নানা অভিযোগ তোলে। তারা বলেন, প্রধান বিচারপতিকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরপর প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসে ৫ বছরের ভিসার জন্য আবেদন করেন। একদিনেই তিনি ৩ বছরের ভিসা পেয়ে যান। এরপরই মিডিয়ায় চাউর হয় তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি। তবে এই ছুটির প্রজ্ঞাপন হলে অস্ট্রেলিয়া যেতে তার কোনো বাধা থাকবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশের পর থেকে মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি। জাতীয় সংসদেও তাঁর সমালোচনা করা হয়। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে তার একটা দূরত্ব তৈরি হয় । -ডেস্ক