স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে ত্রাণের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকা খেটেখাওয়া মানুষেরা কর্ম করতে পারছেন না। ফলে ক্ষুধার যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে তারা গতকাল চাঁদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সামনে রাস্তা অবরোধ করে সরকারের কাছে খাবার চাইলো ক্ষুধাত্ত মানুষেরা। ক্ষুধার যন্ত্রনায় অনেকে অপুষ্টিতে ভুগছেন। এছাড়াও ভাড়াটিয়ারা বাড়িভাড়া, কিস্তি, বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়া, অফিস ভাড়ার টেনশনে অনেকে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন।
সূত্র মতে, দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় একই অবস্থা। জেলায় সরকারি ত্রাণ পায়নি বেশির ভাগ দিনমজুর, হোটেল শ্রমিক, মটর শ্রমিক, নির্মান শ্রমিক, হকার, সংবাদপত্র হকার, রিস্কা ও ভ্যান চালক সহ মধ্যবিত্তরা। সুধী মহলের প্রশ্ন তাহলে সরকারি ত্রাণ গেলো কোথায়? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অসহায় পরিবার জানান, বিভিন্ন ওয়ার্ডে এবং মহল্লায় যাদের কিছু ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে তারা নিজেদের লোকদের দিয়েছে। আবার কিছু জায়গায় ত্রাণ বিতরণেও দলীয়করণ অনিয়ম করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যাঁরা অনলাইনে ত্রাণের জন্য আবেদন করেছিল অনেকেই ত্রাণ পাইনি বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র মতে, জেলা প্রশাসকের অনলাইনে ৪ হাজার লোকের আবেদনের পর অনলাইন সার্ভিসটি বন্ধ করে দেয়া হয়। অনলাইনে এখন পর্যন্ত কিছু সংখ্যক অসহায় পরিবার ত্রাণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মাহুতপাড়া তুঁত বাগানের সামনে ভ্যানচালক হালিম, বালুডাঙ্গার মজিবর, দপ্তরিপাড়ার হামিদ এ প্রতিনিধিকে বলেন, স্যার আমরা মুর্খ মানুষ অন্যের মোবাইল থেকে ডিসি অফিসে আবেদন করে দিয়েছে এবং কিছু মানুষ সরাসরি জাতীয় পরিচয়পত্র মোবাইল নম্বরসহ জমা দিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন প্রকার ত্রাণ পাইনি। মিস্ত্রিপাড়া, পুলহাট, দিনাজপুরের দিনমজুর বিধবা বুলবুলি পাখি। তিন মেয়ে নিয়ে তার সংসার। তিনিও অনলাইনে আবেদন করে কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি। এ্যাজমা রোগী পাখি। তার চিকিৎসার জন্য তিনি কি করবেন ভেবে কুল পাচ্ছেন না। তিনি বলেন আমি কার কাছে যাবো? কে দেবে আমাকে সহায়তা? দিনাজপুরে লকডাউনের কারণে বেড়ে গেছে চুরির ঘটনাও। ইতোমধ্যে মর্ডাণমোড়ে ক্লাসিক কম্পিউটার শো-রুম, লালবাগ এলাকার মেসার্স জিনিয়ার্স এন্টার প্রাইজের প্লাস্টিক কারখানায় বড় ধরনের চুরি সংঘটিত হয়েছে। চুরি যাওয়া মালামাল কোতয়ালী পুলিশ এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেননি।
মধ্যবিত্ত পরিবার পাহাড়পুরের একজন হলেন ফজলার রহমান। তিনি মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পরিবারের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ত্রাণের আশায় নিজ জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জমা দিতে যান কিন্তু ডিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার পরিচয়পত্রটি গ্রহণ করেননি এবং বলেন কোন ত্রাণ নেই।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তাঁকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
মাঠে নেই জনপ্রতিনিধিরা : দু’একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অসহায় মানুষদের ত্রাণ সহায়তা দিলেও মাঠে দেখা মিলছে না স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এমনটি অভিযোগ মিলেছে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা এবং গ্রামে। একজন দিন মজুর বলেন, ভোটের সময় সকলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে আসে। কিন্তু এখন দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা প্রায় ১ মাস যাবত ঘরবন্দি হয়ে আছি ঘর থেকে বের হতে পারছি না। একবেলা খেয়ে-না খেয়ে দিনাতিপাত করছি কিন্তু জনপ্রনিধিরা আর আমাদের খবর নিচ্ছেন না। যারা ভোটে হেরে গিয়েছে তারাও একদিনও আমাদের খবর নেয়নি। আমরা বেঁচে আছি নাকি মারা গিয়েছি।
মধ্যবিত্তরা বাঁচবে না মরবে : কথায় আছে বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। মধ্যবিত্তদের জন্য কোন সু-খবর নেই। তাদের খোঁজও কেউ নিচ্ছে না বলে কথা বলতে বলতে কেঁদেই ফেললেন একজন মধ্যবিত্ত। এক মধ্যবিত্ত বলেন, লজ্জা ফেলে ত্রাণের জন্য যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু সেখানে ছবি তোলে আমাদের অপমান করা হচ্ছে। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমরা কি মানুষ না! আমরা কেন না খেয়ে থাকবো, সমাজ কি চোখে দেখে না! আমরা বর্তমানে অসহায়, কিন্তু ভিক্ষুক না। লকডাউনে থাকা অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
মধ্যবিত্তের তালিকায় রয়েছে সংবাদিক, এ্যাডভোকেট, ছোট ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র, পল্লী চিকিৎসক, অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি চাকুরিজীবিসহ অনেকে। তাদেরও অবস্থা করুন। অবস্থা এমনই যে, ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।
ক্ষুধার যন্ত্রনায় জর্জরিত দিনাজপুরবাসী সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যেন দ্রুত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দিনাজপুরে ত্রাণ এবং চিকিৎসার জন্য জরুরি ঔষধ, নগদ টাকা সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সহায়তা চেয়েছেন।