(দিনাজপুর২৪.কম) রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ সফরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা একটা কঠিন সময় অতিক্রম করছি। একটি আগ্রাসী শক্তি আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করেছে। মিয়ানমার তার নাগরিকদেরকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করছে। বারবার বলা হচ্ছে, মিয়ানমার সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে ভারত ও চীন সরকার। তাই তাদের কাছে গিয়ে বোঝাতে হবে, এটা আমাদের ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ঠিক হবে না। সংগঠনের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক আলোচনায় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, কূটনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এই জন্য সরকারকে দ্রুততার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকেই বিভিন্ন দেশে যেতে হবে। রোহিঙ্গা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ ও তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব প্রদানে মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই বাধ্য করতে হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা ভয় পাচ্ছে। তারা বলে যাচ্ছেÑ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে অস্ত্র ও জঙ্গি আসছে। যা আমাদেরকেও উৎকণ্ঠিত এবং আতঙ্কিত করছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে প্রথমে সরকারের অবস্থান ছিল নিশ্চুপ। এ সরকার কাদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত জানি না। কিন্তু ে ব্যবস্থাগুলো আগেই নেয়া উচিত ছিল সেটা সরকার নিতে পারেনি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় এতো মানুষ ঢুকে পড়েছে। এই রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের সমস্ত মানুষকে উৎকন্ঠিত ও আতঙ্কিত করে তুলেছে। মির্জা আলমগীর সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দেখেছেনÑ মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের কী ভয়াবহ চিত্র, কী মর্মান্তিক, কী পাশবিক। ছোট ছোট শিশুরা-মায়েরা নদী পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। তাদের কোন কাপড়-চোপড় নেই। খাওয়া, মাথা গোঁজা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই। আরাকানে মিয়ানমার সরকার পোঁড়ামাটিনীতি অনুসরণ করছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার পরিস্থিতিতে ওই দুইদেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমান সেই সময়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তিনি চতুর্দিকে সেই কূটনৈতিক কৌশলে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে দুই দেশের মধ্যে রিপ্রেটট্রিয়েট এগ্রিমেন্ট হয়েছিল। সেই চুক্তিপত্রে পরিস্কার বলা আছে, যে সব বার্মিজ নাগরিক এদেশে এসেছে তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতেও যদি কোন দিন কোন সমস্যার সৃষ্টি হয় তাহলে এই এগ্রিমেন্টের ওপর ভিত্তি করে তাদেরকে আবার ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ওই চুক্তির ভিত্তিতে ওই সময়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। মির্জা আলমগীর বলেন, সরকার এ সমস্ত কিছুই করছে না। তারা উল্টো ভয় পাচ্ছে যে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে নাকি জঙ্গিরা চলে আসছে, অস্ত্র আসছে। আমি বলব, মূল বিষয়টাতে আসুন। মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করুন যেন তারা হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের মতো আর কোনও নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। যে সরকার নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনও নিরপেক্ষ হতে হবে। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও মহিলা দলের প্রতি আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব। সেই সঙ্গে সারা দেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করার তাগিদ দেন তিনি। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি আবদুল হাই শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ হেলেন জেরিন খান, ঢাকা জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, সাবেক এমপি রওশন আরা ফরিদ, নারায়নগঞ্জের রহিমা শরীফ মায়া ও চট্টগ্রামের জেলী চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। -ডেস্ক