(দিনাজপুর২৪.কম) যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য প্রথম ১০০ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মধ্যে বোঝা যায় নতুন প্রশাসনের নীতি কী ধরনের হবে? ‘এ প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা আসে ১৯৩৩ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের মাথা থেকে। তারপর থেকে এটি নিয়মে পরিণত হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের পর শুরু হয়েছে জো বাইডেন পর্ব। বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ডেমোক্র্যাট বাইডেনকে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ১০০ দিনেই বাইডেন বেশ কিছু নির্বাহী আদেশ জারির কাজ শুরু করছেন। এই আদেশগুলো প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবলে জারি করা নির্বাহী আদেশ, যার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
এই তালিকায় সবার উপরে আছে দুটি বিষয়। প্রথমত বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাতিলের বিষয়। তার পূর্বসূরী ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরাপত্তা হুমকির কারণ দেখিয়ে প্রধানত যেসব মুসলিম দেশ থেকে আমেরিকায় ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, সেগুলো প্রত্যাহার। আর দ্বিতীয়টি হল প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আবার যোগদান। এছাড়াও নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে যে বিষয়গুলোর দিকে তিনি অবিলম্বে নজর দিতে চান বলে জানা যাচ্ছে সেগুলো হলÑ করোনাভাইরাস মহামারির মোকাবেলা, আমেরিকানদের মাস্ক পরানো।
তার প্রথম একটি পদক্ষেপ হবে দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত ভবনে এবং আন্তঃরাজ্য ভ্রমণের সময় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে নির্বাহী আদেশ জারি করা।
তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর যারা এতদিন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার বিরোধিতা করে এসেছেন, তারা যে হঠাৎ করে তাদের মনোভাব বদলাবেন এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। আর সারা দেশে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার জন্য আদেশ জারি করার কোন আইনগত পথ প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় কার্যত দেয়া নেই।
তবে প্রথম দিনে জারি করা নির্বাহী আদেশে তিনি ফেডারেল অফিসগুলোতে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন।

১০০ দিনে ১০০ মিলিয়ন ডোজ টিকা
মি. বাইডেন টিকাদান প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চার করতে চান। তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো তার ক্ষমতায় প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে দশ কোটি মানুষকে করোনার টিকার অন্তত প্রথম ডোজ দিয়ে দেয়া।
এছাড়াও দ্রুত কোভিড পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু ও তা উন্নত করতে এবং জাতীয় স্তরে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং পিপিই-র সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যকর রাখার জন্যও তিনি নির্বাহী পদক্ষেপ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আবার যোগদান
আমেরিকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নাকচ করে দেবার প্রতিশ্রুতিও তার কার্যতালিকায় রয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাহী আদেশ এরই মধ্যে জারি করেছেন তিনি
গ্রীষ্মে মি. ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন আমেরিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। তার অভিযোগ ছিল চীনে এই ভাইরাস প্রথম ধরা পড়ার পর সংস্থাটি কোভিডের বিস্তার ঠেকাতে এবং সংস্থায় “জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় সংস্কার” আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

ভাড়াটে ও বাড়ির মালিকদের জন্য ছাড়
মি. বাইডেনের প্রশাসনিক টিমের সদস্যরা বলেছেন বাসা ভাড়া না দিতে পারার জন্য ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ বা বাড়ি কেনার বন্ধকের অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে বাড়ি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা মি. বাইডেনের রয়েছে। মহামারি শুরু হবার পর এই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল।
এছাড়াও সরকারের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে শিক্ষার্থীদের দেয়া ঋণের কিস্তি সুদসহ পরিশোধের প্রক্রিয়াও এখন বন্ধ রাখা হয়েছে। সেটিও চালু রাখতে চান মি. বাইডেন।
মি. বাইডেনের টিম আরও জানাচ্ছে “শ্রমজীবী পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেবার ব্যাপারেও অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের” জন্য ক্যাবিনেট সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তিনি নির্দেশ দেবেন এমন পরিকল্পনা রয়েছে।

১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার করোনাভাইরাস অর্থনীতি
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিপর্যস্ত আমেরিকান অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের জন্য গত সপ্তাহে মি. বাইডেন ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন যে “মানুষের দুঃসহ মাত্রার দুঃখকষ্ট যে একটা সংকটময় পরিস্থিতে পৌঁছেছে, তা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে এবং এখন নষ্ট করার মত সময় হাতে নেই”।
এই প্যাকেজ কংগ্রেস অনুমোদন করলে তা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে বলে মি. বাইডেন মনে করছেন। স্কুল নিরাপদে খোলার জন্যও এই প্যাকেজে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। মি. বাইডেন তার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে নিরাপদ পরিবেশে স্কুল আবার চালু করতে আগ্রহী।
গত ডিসেম্বরে কংগ্রেস ৯০০ বিলিয়ন ডলারের যে আর্থিক প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল এটা তার ওপর বাড়তি প্রণোদনা প্যাকেজ।
রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা এই বিলের কিছু অংশের বিরোধিতা করতে পারেন এমন সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ মহামারির প্রভাব সামাল দিতে আমেরিকা যে ঋণ নিয়েছে তার বোঝা এর ফলে আরও বাড়বে। পরিকল্পিত এই বিল পাশ হতে হলে মি. বাইডেনের জন্য রিপাবলিকানদের সমর্থনের প্রয়োজন হবে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে, যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই অল্প ব্যবধানের।

ট্রাম্পের কর সুবিধা বাতিল
মি. বাইডেন তার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনায় শুধু কোভিড মোকাবেলার জন্য অর্থ সহায়তার প্রস্তাবই রাখেননি। মি. ট্রাম্প যে কর ছাড় দিয়েছেন তা বাতিল করার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছেন।
মি. ট্রাম্প তার ক্ষমতার প্রথম দিকে ২০১৭ সালে যে কর ছাড় অনুমোদন করেন, মি. বাইডেনের টিম বলছে সেটা শুধু ধনী আমেরিকানদের পকেট ভারী করেছে। ছোটখাট ব্যবসায়ীরা এই ছাড়ের সুবিধা মোটেও পাননি, এই সুবিধা ভোগ করেছেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা।
মি. বাইডেন ব্যবসায়ে বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের ওপরও কর বসানোর পরিকল্পনা দিয়েছেন। তার নতুন কর নীতিকেও কংগ্রেসের অনুমোদন পেতে হবে।

প্যারিস চুক্তিতে ফিরে যাওয়া
মি. বাইডেন বলেছেন ক্ষমতা গ্রহণ করার পর প্রথম দিনই তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আমেরিকাকে আবার ফিরিয়ে নিয়েছেন। এই চুক্তিতে বিশ্ব নেতারা পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে রাখার অঙ্গীকার করেছিলেন, যেটা ছিল শিল্পায়নের আগের বিশ্বের তাপমাত্রা। তারা অঙ্গীকার করেছিলেন সম্ভব হলে তাপমাত্রা তারা ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নামিয়ে আনার চেষ্টা করবেন।
মি. ট্রাম্প ২০১৫ সালে সম্পাদিত ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন। আমেরিকা ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা বিশ্বের প্রথম দেশ।
মি. বাইডেন বলেছেন তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঠেকানোর জন্য আমেরিকা তার উদ্যোগ আরও বাড়াবে এবং প্রেসিডেন্ট পদে তার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে তিনি বিশ্ব জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবেন।
তিনি বলেছেন ২০৫০ সালের মধ্যে আমেরিকার কার্বন নিঃসরণের মাত্রা যাতে শূণ্যে নামিয়ে আনা যায় তার জন্য এবছরই তিনি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন।

অন্য পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা
কানাডার আলবার্টা প্রদেশ থেকে মনটানা আর সাউথ ডাকোটার মধ্যে দিয়ে টেক্সাস পর্যন্ত তেলের পাইপলাইন বসানোর এক বিতর্কিত প্রকল্পও তিনি ক্ষমতা হাতে নেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বাতিল করে দেবেন এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিস্টোন এক্সএল নামে তেল ও গ্যাস পাইপলাইন বসানোর এই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেবার জন্য ২০১৭ সালে একটি নির্বাহী আদেশে মি. ট্রাম্প সই করার পর থেকে বিরোধীরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে আসছেন গত কয়েক বছর ধরে।
যানবাহনের কার্বন নিঃসরণের মাত্রা শিথিল করে ট্রাম্প প্রশাসন যে আইন পাশ করেছিল সেটি নিয়েও নতুন করে চিন্তাভাবনার কথা বলেছেন মি. বাইডেন। তিনি বলেছেন গাড়ি ও ভারী যানবাহনের কার্বন নির্গমনের ক্ষেত্রে শিগগিরি কঠোর বিধিনিষেধ আনা হবে।
তেল ও গ্যাস থেকে মিথেন দূষণের মাত্রা নিয়ে মি. বাইডেন প্রশাসন কঠোর বিধিনিষেধ জারির পরিকল্পনা করছে এবং তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র ইজারা দেবার ব্যাপারেও নীতির পরিবর্তন তার প্রশাসন আনতে যাচ্ছে।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাতিল
২০১৭ সালে জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করার মাত্র সাতদিনের মাথায় মি. ট্রাম্প কিছু দেশ থেকে আমেরিকায় ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। মি. ট্রাম্পের যেসব নীতি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমেই বাতিল করেছেন মি. বাইডেন। সাতটি মূলত মুসলিম প্রধান দেশ থেকে আমেরিকায় ভ্রমণের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, পরে আদালতে এই বিধান চ্যালেঞ্জ করে মামলা চলার পর তালিকায় কিছু রদবদল করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, ভেনেজুয়েলা এবং উত্তর কোরিয়া।

নাগরিকত্ব প্রদান
অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে মি. বাইডেনের আরেকটি বড় প্রতিশ্রুতি হল তিনি দায়িত্ব নেবার পর প্রথম দিকেই কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করবেন, যার মাধ্যমে নথিবিহীন এক কোটি দশ লাখের ওপর অভিবাসীকে নাগরিকত্ব দেবার পথ প্রশস্ত হবে। বহু শিশু অভিবাসী তাদের বাবা মায়েদের থেকে আলাদা হয়ে শিবিরে কঠিন জীবন যাপন করছে
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে মি. বাইডেন ঘোষণা করেছেন যে আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্তে যে ৫৪৫ জন অভিবাসী শিশু তাদের বাবা-মায়েদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে তাদের একত্র করার জন্য তিনি একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করবেন।

সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ রদ
মি. ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের আরেকটি বহুল আলোচিত প্রকল্প – আমেরিকা আর মেক্সিকোর মাঝখানে দেয়াল তোলা- সেই নির্মাণ কাজও বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মি. বাইডেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেছেন এই প্রকল্প “অর্থের অপচয়” এবং “যেখানে প্রকৃত হুমকি মোকাবেলায় অর্থের প্রয়োজন এই প্রকল্পের কারণে সেসব ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছে না”। শপথ নেয়ার পরপরই জারি করা নির্বাহী আদেশে তিনি এই প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাইডেন প্রশাসন বলেছে সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের বদলে অভিবাসনের বৈধতা যাচাইয়ের কর্মসূচি গড়ে তোলার জন্য তারা কেন্দ্রীয় তহবিল বরাদ্দ করতে আগ্রহী।

বর্ণবাদ ও ফৌজদারি বিচারে সংস্কার
কোভিড, অর্থনীতি এবং জলবায়ুর পর চতুর্থ স্থানে রয়েছে বর্ণবাদের সমস্যা। মি. বাইডেন বলেছেন তিনি দ্রুত এই সমস্যা মোকাবেলার কাজ শুরু করবেন। আবাসন, স্বাস্থ্যসেবাসহ যেসব ক্ষেত্রে বর্ণবৈষম্য প্রকট সেসব ক্ষেত্রকে তিনি অগ্রাধিকার দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রথম ১০০ কার্যদিবসের মধ্যে মি. বাইডেন পুলিশ বিভাগের সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি পুলিশের কার্যকলাপের ওপর নজরদারির জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি সংস্থা গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এলজিবিটি সুরক্ষা
এলজিবিটি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের সুরক্ষার অঙ্গীকার করেছেন মি. বাইডেন। তিনি বলেছেন হিজড়া, তৃতীয় লিঙ্গ ও সমকামীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে তিনি তহবিল বরাদ্দ করবেন। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেবার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা তিনি প্রত্যাহার করবেন এবং স্কুলে ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে বৈষম্য বন্ধে নির্দেশাবলী জারি করবেন। এ বিষয়ক নির্বাহী আদেশও তিনি এই মধ্যে জারি করেছেন।

আমেরিকান মিত্রদের প্রতি আশ্বাস
নতুন প্রেসিডেন্ট বলেছেন আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর সাথে তিনি দ্রুত যোগাযোগ করবেন, বিশেষ করে যাদের সাথে গতকয়েক বছরে আমেরিকার সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে এবং “আমেরিকা তাদের পেছনে রয়েছে” এই প্রতিশ্রুতি তাদের দেবেন।
মি. বাইডেন বলেছেন, আমেরিকা “আবার বিশ্বে নেতৃত্ব দেবার জন্য যে তৈরি সেটা তাকে প্রমাণ করতে হবে, শুধু ক্ষমতার দৃষ্টান্ত দেখিয়ে নয়, বরং দৃষ্টান্ত দিয়ে ক্ষমতাকে প্রমাণ করতে হবে।”
তিনি বলেছেন, ওভাল অফিসে তার প্রথম কার্যদিবসে তিনি ন্যাটো জোটের সাথে যোগাযোগ করবেন এবং এই বার্তা দেবেন যে “আমরা আবার ফিরে এসেছি এবং আমাদের ওপর আবার আপনারা ভরসা রাখতে পারেন।”
মি. ট্রাম্পই প্রথম প্রেসিডেন্ট নন, যিনি ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশকে প্রতিরক্ষা খাতে আরও অর্থ ব্যয়ের জন্য চাপ দিয়েছেন। কিন্তু মি. ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে বারবার ন্যাটোকে হুমকি দিয়েছেন অন্য সদস্যরা যথেষ্ট অর্থ না দিলে আমেরিকা এই জোট থেকে বেরিয়ে যাবে। মি. বাইডেন এখন সেই ক্ষত সারিয়ে তোলার চেষ্টা করবেন। সূত্র : বিবিসি