(দিনাজপুর২৪.কম) উত্তরের হাড়কাঁপানো শীতে সূর্য উঁকি দিতে শুরু করেছে সবেমাত্র। কুয়াশা ভেজা সবুজ ঘাসের মাঠ। দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মাঠে শিক্ষক শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের সরব উপস্থিতি। ১ ফেব্রুয়ারি শনিবার দিনাজপুর আঞ্চলিক ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রথম আলো ফিজিক্স অলিম্পিয়াড উৎসব। উৎসবকে ঘিরে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে উৎসবের আমেজ। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের এই আয়োজনের প্রধান সহযোগী প্রথম আলো। আর ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিজ্ঞান চিন্তা ও কিশোর আলো।
সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর বিধান চন্দ্র হালদার। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আব্দুল ওয়াদুদ মন্ডল, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি এর পরিচালক বিকাশ চন্দ্র হালদার, দিনাজপুর স্কুল অব লিবারেটর এর অধ্যক্ষ জিয়াউল হক সিজার, দিনাজপুর প্রথম আলো বন্ধু সভার উপদেষ্টা ইব্রাহীম খলিল প্রমুখ।
উৎসবের উদ্বোধনকালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রফেসর বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, ‘এধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদেরকে পড়াশুনামুখী করেছে। সেইসাথে শিক্ষার্থীদের মাঝে একধরণের বিজ্ঞানভীতি ছিলো তা দূর করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ঘুম হতে জেগে ওঠা হতে শুরু করে ঘুমাতে যাবার পূর্ব পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বিজ্ঞান। বিশেষ করে পদার্থ বিজ্ঞানের সম্পর্কটা অত্যান্ত নিবিড়। বিজ্ঞান চর্চা বর্তমান সময়ে মানবজাতিকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে গেছে। বিশেষত সমাজ থেকে কুসংস্কার দূরীভুত করে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে বিজ্ঞানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শিক্ষার্থীদেরকে পড়াশুনার পাশাপাশি গবেষনা কাজে মনযোগী হবার আহবান জানান তিনি। এই ধরণের ধারাবাহিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিন উপমহাদেশে আরো বিজ্ঞান গবেষক তৈরী হবে এজন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
এবার দিনাজপুর আঞ্চলিক ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রথম আলো ফিজিক্স অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন যথাক্রমে এ ক্যাটাগরিতে ৬৫জন, বি ক্যাটাগরিতে ৩০৪জন এবং সি ক্যাটাগরিতে ১৯৩জন। পরীক্ষায় অংশ নেন তিন ক্যাটাগরিতে মোট ৪৯৭জন পরীক্ষার্থী। দুপুরে সকল বিজয়ীদের মাঝে সনদপত্র ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।