(দিনাজপুর ২৪.কম) সমাজের মূল স্রোতের বাইরে থাকা অটিস্টিক বা প্রতিবন্ধীরাও এখন থেকে গার্মেন্টস কারখানায় নিয়োগ পাবেন। এ জন্য তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে কারখানায় কাজ করার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএতে আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা আসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে ও গ্লোবাল অটিজম বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন সায়মা হোসেন পুতুল উপস্থিত থাকবেন।

বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম দিনাজপুর ২৪.কমকে বলেন, অটিস্টিকরা সমাজের নিগৃহীত শ্রেণী। তাদেরকে সুন্দর ভবিষ্যত দেয়া ও সমাজের মূল স্রোতে আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। এ জন্য তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তবে কী প্রক্রিয়ায় শ্রম শক্তিতে নিয়ে আসা যায় সেটি নিয়ে কাল (আজ বৃহস্পতিবার) বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, সায়মা হোসেন পুতুল ছাড়াও বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার বেনোয়ে পিয়েরে লারামে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অটিজম বিশেষজ্ঞ ও তাদের প্রতিনিধি ছাড়াও গার্মেন্টস কারখানার মালিকরা উপস্থিত থাকবেন। এতে সায়মা হোসেন পুতুলের অটিজমের উপর একটি তথ্যবহুল বক্তব্য ও উপস্থাপনা থাকবে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবন্ধীদের কারখানায় নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে বিজিএমইএ থেকে কারখানা মালিকদের অনুরোধ করা হবে। প্রতিটি কারখানা মালিকই যাতে অন্তত ৩ জন করে প্রতিবন্ধীকে নিজস্ব কারখানায় নিয়োগ দেন সেটি নিশ্চিত করতে সংগঠনটি চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন এস এম মান্নান কচি। তিনি বলেন, আমরা কারখানা মালিকদের কাছ থেকে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের বিষয়ে কমিটমেন্ট নেব।
উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার সচল গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় ৩৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছে। এসব কারখানার কয়েকটিতে বর্তমানে স্বল্প সংখ্যক শারীরিক প্রতিবন্ধী কাজ করছেন। যদিও এর পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান বিজিএমইএ’র কাছে নেই। তবে এর সঙ্গে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরাও যাতে একই সুযোগ পান সেই লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিজিএমইএ’র এমন উদ্যোগকে অবশ্য বেশ কিছু কারখানা মালিক ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তবে তারা বলছেন, এটি যাতে লোক দেখানো না হয়। বরং প্রকৃত অর্থেই যাতে তাদের মূল স্রোতে আনা যায় সে জন্য এ উদ্যোগটি ফলপ্রসূ করতে কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।(ডেস্ক)