বিষ্ণুপদ রায় (দিনাজপুর২৪.কম) সীমান্তবর্তী উপজেলা ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় অন্যান্য উপজেলার তুলনায় শীতের প্রকোপ এখানে অনেক বেশি দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সুর্য্যরে দেখা মিলছে না। রাতভর বৃষ্টির মতো পড়ছে কুয়াশা। তীব্র ঠান্ডার সঙ্গে হিমেল বাতাসের কারণে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। আর এতে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীত নির্বাচনের জন্য উষ্ণ কাপড়েরর দোকান ভীড় জমাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় সূর্য্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেনা সাধারণ মানুষ। রাতভর টুপটাপ শব্দে বৃষ্টির মত ঝরছে কুয়াশা। সন্ধা নামার সাথে সাথেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। এদিকে ঘন কুয়াশায় বিঘিœত হচ্ছে যান চলাচল। দিনের বেলায় সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করছে। অপরদিকে প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারনে কাজ করতে অসুবিধা হওয়ায় অনেকটা বিপাকে পড়েছেন উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষেরা। বিপাকে পড়েছে স্কুল কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থীরা। সেই সাথে শীতে জড়ো-সড়ো হয়ে গেছে গবাদী পশুও। কেউ কেউ আবার খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীত বস্ত্র বিতরণ করার কথা জানানো হলেও শীতার্তদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান মেম্বাররা তাদের কোনদিন কোন কম্বল দেয় না। আতœীয় স্বজন ও কর্মীদের মাঝে গোপনে বিতরণ করে। সাধারণ মানুষ খবরই পায় না, কখন শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। উপজেলার নারায়নপুরের আব্দুল মানিক, শুভ, লাইসুর, নুর ইসলাম জগথা গ্রামের রহমান আলী, সিরাজুল ইসলাম সহ অনেকে বলেন, তাদের এলাকায় গরিব লোকজনের সংখ্যাই বেশি। অথচ এখানে তারা কোন শীত বস্ত্র পান না। জনপ্রতিনিধিরা তাদের পরিচিত জনদের রাতের আধারে শীত বস্ত্র দিচ্ছেন বলে তারা শুনেছেন।
তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসন হতে ইতোমধ্যে ৮ হাজার কম্বল পেয়েছেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে সেই সাথে আরো শীতবস্ত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তাছাড়া ইউএনও এবং তিনি নিজেও রাতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতণর করছেন। আশা করি এ উপজেলার কোন মানুষ শীতে কষ্ট পাবেনা।