1. dinajpur24@gmail.com : admin :
  2. dinajpur24@gmail.com : akashpcs :
  3. self@unliwalk.biz : brandymcguinness :
  4. ChristineTrent91@basic.intained.com : christinetrent4 :
  5. Dinah_Pirkle28@lovemail.top : dinahpirkle35 :
  6. cruz.sill.u.s.t.ra.t.eo91.811.4@gmail.com : howardb00686322 :
  7. azegovvasudev@mail.ru : latricebohr8 :
  8. kenmacdonald@hidebox.org : moset2566069 :
  9. news@dinajpur24.com : nalam :
  10. NonaShenton@miss.kellergy.com : nonashenton3144 :
  11. vaughnfrodsham2412@456.dns-cloud.net : reneseward95 :
  12. Sonya.Hite@g.dietingadvise.club : sonya48q5311114 :
  13. jcsuave@yahoo.com : vaniabarkley :
সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশ :
নতুন রুপে আসছে দিনাজপুর২৪.কম! ২০১০ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের পুরনো নিউজ পোর্টালটির জন্য দেশব্যাপী সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা প্রয়োজন। সারাদেশে সংবাদকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা এখনই প্রয়োজনীয় জীবন বৃত্তান্ত সহ সিভি dinajpur24@gmail.com এ ইমেইলে পাঠান।

প্রকাশনায় পথিকৃতের কথা

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
  • ০ বার পঠিত

ড. এম. আমানুল্লাহ (দিনাজপুর২৪.কম) সিকদার আবুল বাশারের সাথে আমার পরিচয় ২০০০ সালে। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে এম.ফিল. গবেষণা করছি। আলাউদ্দিন আল আজাদের বই পত্রের প্রয়োজন। ‘বাংলাদেশের ছোটগল্পে শ্রেণিদ্বন্দ্ব’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ রচনায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, শওকত ওসমান, সরদার জায়নউদ্দীন, আবু ইসহাক, হাসান আজিজুল হক প্রমুখের গল্পের সাথে আলাউদ্দিন আল-আজাদের শ্রেণি চেতনামূলক গল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আলউদ্দিন আল-আজাদের (১৯৩২-২০০৯) সাথে আমার পরিচয় ছিল। তাঁর গল্প নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে উত্তরার বাসা রতœদ্বীপে বসে। আজাদ স্যার আমাকে ‘গতিধারা’র স্বত্তাধিকারী সিকদার আবুল বাশারের সন্ধান দিয়ে বললেন, ‘আমার বই গতিধারা প্রকাশ করেছে।’ আমার সামনে সিকদার আবুল বাশারকে ফোন করে আমার প্রয়োজনের কথা বললেন।
আমি বাংলাবাজারে ‘গতিধারা’ প্রকাশনীতে গেলাম। প্রথম দেখায় বাশার সাহেবকে খুব বিদগ্ধ মনে হলো। চোখে মুখে একটা রোদন ভরা অভিক্ষেপের ছাপ লক্ষ্য করলাম। তখনও আলাউদ্দিন আল-আজাদের রচনাবলী অন্য কোথাও প্রকাশ পায়নি। বিচ্ছিন্নভাবে দু’চারটা প্রকাশিত হয়েছে মাত্র। আমি সাহিত্যের ছাত্র, স্কুলজীবন থেকে কবিতা লিখি। বাংলা সাহিত্যে অনার্স, মাস্টার্স করে কলেজে বাংলাসাহিত্য পড়াই, সঙ্গত করণে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রতি দুর্বল মানুষের সান্নিধ্য আমার ভালো লাগে। বাশার ভাইয়ের মধ্যে এসব উপাদানের উপস্থিতি আমাকে আকর্ষণ করল। বলতে গেলে আবুল বাশার সাহেবের সাথে আমার আলোচনা জমে গেল।
আলাউদ্দিন আল-আজাদকে তখন সিকদার আবুল বাশারের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছি। আমার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে বেশিরভাগ প্রকাশক বাণিজ্যের ব্যাপারে আগ্রহী। তাদের কাছে পড়–য়া, গবেষক, শিক্ষক বা সৃজনশীল ব্যক্তি ও কর্মের কোনো স্থান নেই। তারা চায় ব্যবসা-বাণিজ্য। যেনতেন প্রকারে কোনো জনপ্রিয় লেখকের বই প্রকাশ করে টাকা উপার্জন তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। যেটা প্রকাশনাশিল্পের ক্ষেত্রে ভীষণ ক্ষতিকর।
সিকদার আবুল বাশার এ ক্ষেত্রে বিরল ব্যতিক্রম। তিনি আলাউদ্দিন আল-আজাদের রচনাবলী ৫০% কমিশন দিয়ে শিশুর মতো সরল মিস্টি করে বললেনÑ আপনি শিক্ষক, গবেষক, ‘গবেষকদের জন্য কিছু করতে পারলে আমি আনন্দ পাই।’ বুঝতে পারলাম এটা শুধু তার কথার কথা নয়। মনেপ্রাণে শিল্প সাহিত্যকে ভালো না বাসলে এমন উক্তি মানুষ করতে পারে না।
ব্যক্তিগতভাবে মননশীল ব্যক্তিকে পছন্দ করি। যার ভিতরে নিজস্ব জীবনদর্শন ও শিল্প-সাহিত্যের বোধ থাকে তাকে বেশি পছন্দ করি, ফলে সেই ব্যক্তির নাড়ি-নক্ষত্র সব জানার চেষ্টা করি। বিশেষ করে জন্ম, শৈশব, কৈশোর, শিক্ষা, বেড়ে ওঠাসহ অনেক কিছু জানার আগ্রহ হয়। সেই সূত্রে আবুল বাশার সম্পর্কে বিভিন্ন লেখা থেকে তথ্য নিয়ে অবগত হলাম কবি জীবনানন্দ দাশের পরিবারের মতো বরিশাল অঞ্চলের সিকদার পরিবারও শিক্ষা দীক্ষায় সমৃদ্ধ ছিল। চিত্রশিল্পের মেধা নিয়ে বাশার জন্মেছিলেন। ভর্তিও হয়েছিলেন ঢাকা আর্ট কলেজে। ডানপিঠে ও দুষ্ঠু প্রকৃতির হওয়াতে ধরা বাধা ছকে ছবি আঁকা তার ধাতে সয়নি।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরোয়া না করে পড়ার আনন্দে বিভোর হয়ে একসময় গ্রন্থ প্রকাশনার জগতে প্রবেশ করলেন। অনেক ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে এসেছেন ক্রমাগত। ‘গতিধারা’ থেকে প্রকাশিত ‘গ্রন্থের’ প্রচ্ছদ দেখলে বুঝা যায় বাশারের শিল্পবোধের গভীরতা। বাশার নিজেই শিল্পসুষমায় ভরে তোলেন বইয়ের প্রচ্ছদপিষ্ঠ।
তার পিতামহ, পিতা, পিতৃব্যসহ অনেকেই প্রাগ্রসর চিন্তার অধিকারী ছিলেন। সে গতির ধারাবাহিকতা বাশার ভাই বজায় রেখেছেন। বাংলাদেশের জনপদ ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের ব্যাপারে আবুল বাশারের অর্জন ও কর্মপ্রচেষ্টা আমাকে বিস্মিত করেছে। যখনই তার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে তিনি বলেছেনÑ ‘বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও জনপদের ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রকাশ করা উচিৎ। আপনারা ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিষয়ে লেখেন।’ তিনি নিজে ‘ঝালকাঠি জেলার ইতিহাস’, ‘পটুয়াখালী জেলার ইতিহাস’ রচনা করে ও ‘দি ডিস্ট্রিক্ট অব বাকেরগঞ্জ : ইটস হিস্টরি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস’ গ্রন্থের অনুবাদ করে তার প্রমাণ দিয়েছেন।
প্রকাশনাশিল্পে আবুল বাশারের কৃতিত্ব অনেক। স্বীকৃতি পেয়েছেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে টানা- ২০০১, ২০০২, ২০০৩ সালে। বাংলা একাডেমি অমর একুশে বইমেলায় সেরা মানের গ্রন্থ প্রকাশনার জন্য ২০০৮ সালে বাংলা একাডেমি সম্মাননা অর্জন করেছেন।
তার আরেকটি বৈশিষ্ট্য আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে সেটা হলোÑ ‘দৃঢ় চেতা মনোভাব’, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অনড় থেকে এগিয়ে যাবার প্রভুত প্রতীতি। একেবারে গভীর বিশ্বাস থেকে তিনি সত্য সুন্দরের পথে এগিয়ে যাবার বাসনা ব্যক্ত করেন। যা আমার মতো কিছুটা নৈরাশ্যবাদী লেখককে প্রেরণা দেয়।
সিকদার আবুল বাশার জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারের প্রত্যাশা করেন না। তার মতে জাতি আজ উল্টো দিকে চলেছে, সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লোক কম। যারা বড় বড় পদে আছেন তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা নেই। কেবল প্রভাব প্রতিপত্তি, যশ-খ্যাতির জন্য বেশিরভাগ মানুষ কাজ করে। বাশার ভাই কাজ করেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রকাশনা জগতের পথিকৃত চিত্তরঞ্জন সাহা নামের সাথে সিকদার আবুল বাশারের নাম এসে যায়। এমনকি তাকে পিছনে ফেলে আবুল বাশার এগিয়ে যাবার সামর্থ রাখেন। ভবিষ্যৎ বলে দেবে ব্যক্তির অর্জন ও অবস্থান। যখনই তার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে তখনই তাকে কর্মব্যস্ত দেখেছি। শিল্পীরা সাধারণত একটু কর্মকুড়ে হয়, কিন্তু বাশার ভাই কর্মযোগী। চোখ মুখে একটা সাধনার সৌম্য-ক্ষুধা লক্ষ্য করার মতো।
বাশার ভাই মনে করেন ধন-সম্পদ রেখে যাবার চেয়ে সৃষ্টিশীল কর্ম রেখে যাওয়াই মানুষের কর্তব্য। মানুষের সম্পদ তার পরবর্তী প্রজন্ম ভোগ করে মাত্র; মানুষকে মনে রাখে না। অথচ মানুষের সৃষ্টি তার মৃত্যুর পরেও মানুষ মনে রাখে। মানুষকে সৃষ্টিশীল হতে প্রেরণা দেয়।
মিডিয়ায় তার উপস্থিতি কম। কারণ জানতে চাইলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন- যা করা উচিৎ তা করছি না। যার যে অবস্থানে থাকা উচিৎ সে সেখানে নেই। তথাকথিত রাজনীতির নামে মাৎস্যন্যায়ির কাল চলছে। মাসল-মানির দৌরাতেœ্য সত্য-সুন্দরের স্বপ্ন খেয়ে ফেলেছে রাঘববোয়ালরা।
বাশার ভাই বিশ্বাস করেন সস্তা জনপ্রিয় ধারার সহিত্যিকরা ইতিহাসের পাতায় থাকবেন না। জনপ্রিয়তার কেনা বেচায় মহৎ কিছু থাকে না, থাকে ক্ষণিকের ঝলক। সত্যের আলোয় তা মিলিয়ে যায় আঁধারে; সত্য জয়ী হয়ে এগিয়ে যায়। সত্যের পথে শত্র“ থাকে, বাধা দিয়ে বিনাশ করতে চায়। তাই বলে থেমে গেলে চলবে না। শত্র“র শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার মধ্যে থাকে গতি। সে গতিতেই এগিয়ে যায় সভ্যতার কারিগর বাশার ভাইয়ের মতো অকুতোভয় সৈনিকরা।
বাশার ভাই কথায় নয়, কাজে এগিয়ে গেছেন অনেক দূর। তার প্রতিষ্ঠিত ‘গতিধারা’ প্রকাশনী থেকে সহস্রাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে- প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, কবিতা, লোকসাহিত্য, ভাষাতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, দর্শন, রাজনীতি, অভিধান, স্মৃতিকথা, ভ্রমণ প্রভৃতি।
‘গতিধারা’র সবচেয়ে বড় কৃতিত্ত্ব – বাংলাদেশের আঞ্চলিক ইতিহাস গ্রন্থের প্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসসমৃদ্ধ বই প্রকাশ কৃতিত্বকে আরো বড় অবস্থানে নিয়ে গেছে। গবেষক, লেখকের কোনো জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত পেতে দৌড়াতে হবে না। ‘গতিধারা’য় খোঁজ করলে প্রায় সব জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের তথ্য পেয়ে যাবেন যা বাশার ভাইয়ের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। কারণ লেখক অনেক আছেন আমাদের দেশে। লেখাও কম নয়। কিন্তু ইতিহাস-ঐতিহ্যসমৃদ্ধ লেখা বেশি পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে অন্যান্য প্রকাশকরা আগ্রহ দেখান না। বাশার ভাই এ দিকটাকে ভীষণ গ্ররুত্ব দিয়ে লেখকদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
বিশেষ করে নবীন লেখকদের মননশীল বই প্রকাশের ক্ষেত্রে তার অবদান অনেক। কারণ বাশার ভাই এ কাজে এগিয়ে না আসলে এ ধারার বিকাশ ঘটতো না। জেলাওয়ারী ইতিহাসগ্রন্থ প্রকাশ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার গুরুদায়িত্ব পালন করে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সম-সাময়িক প্রচার, প্রপাগান্ডায় বাশার যৎকিঞ্চিত থাকলেও মহাকালের যাত্রায় তার স্থান থেকে যাবে কবি কামিনী রায়ের স্মৃতিধন্য ঝালকাঠির জনপদ পেরিয়ে আরো অনেক দূর অনেক জায়গায়। সিকদার বংশের অন্যান্য ক্ষণজন্মা পুরুষ, বিশেষ করে এম. ফজলুর রহমানের মতো একজন গুণী ব্যক্তির সাথে সিকদার আবুল বাশারকে স্মরণ করতেই হবে। তা না হলে গুণীর গুণ স্বীকারের আকালে এ দেশে গুণী জন্মাবে না। আমার মতে এম. ফজলুর রহমানের চেয়ে সিকদার আবুল বাশারের পরিচয়ের পরিধি ব্যাপক ও বি¯তৃত। যা ‘গতিধারা’র গতিকে আরো বিস্তৃত করবে নিশ্চয়।

ড. এম. আমানল্লাহ : কবি, গবেষক ও সরকারী অধ্যাপক বাংলা বি.সি.এস. শিক্ষা, শিক্ষা ভবন, ঢাকা।

নিউজট শেয়ার করুন..

এই ক্যাটাগরির আরো খবর