(দিনাজপুর২৪.কম) দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে যতই কঠোর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীরা ভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য নিত্যু নুতন পদ্ধতি ব্যবহার করে আমদানি করছে। শুধু তাই নায়, এসব মাদক পাচারকারীরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে হেরোইন, মরফিন, আফিম ও ইয়াবার বিকল্প মাদক খাদ্যদ্রব্য হিসেবে আমদানি করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া থেকে আন্তর্জাতিক একটি মাদকবিরোধী সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভিন্ন ধরনের মাদকসহ মো. নাজিম (৪৭) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। ইতিহাদ বিমানের একটি ফ্লাইটে নওশীন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় মাদকের চালানটি আনা হয়েছিল। পরে আটক নাজিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শান্তিনগরের নওশীন এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০০ কেজি পরিমাণ খাট উদ্ধার করা হয়। জব্দ হওয়া মাদকদ্রব্য সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ফজলুর রহমান খান বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। আর মামলটি তদন্ত করছে ইনপেক্টর মনিরুজ্জামান।
মাদক দ্রব্যনিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, হর্ন অব আফ্রিকা ও আবর উপ-দ্বীপাঞ্চলে জন্মায় গুল্মজাতীয় এই মাদক। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘কাথা ইডুলিস, যদিও স্থানীয়ভাবে একে খাট, কাট, খাত, ঘাট, চাট, অ্যাবিসিনিয়ান টি, সোমালি টি, মিরা, অ্যারাবিয়ান টি ও কাফতা নামেও ডাকা হয়। খাটে অ্যালকালোইড ক্যাথিনন নামক এক ধরনের উদ্দীপক উপাদান থাকে। যে কারণে উত্তেজনা বাড়ে, ক্ষুধা কমে যায় এবং শরীরের উষ্ণতায় তারতম্য ঘটে। আমেরিকান কোকো পাতা, এশিয়ান পানের মতোই স্থানীয়দের মধ্যে হাজার বছর ধরে এই নেশাদ্রব্যের শুকনো পাতা চিবিয়ে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। অপরদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এর প্রস্তাবিত নতুন কিছু কেমিক্যালসহ মাদক হিসেবে ব্যবহৃত সকল দ্রব্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পুরনো আইনের বিভিন্ন ধারা, উপধারা ও বিধিতে সংশোধনীর প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। আর এই আইনের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পুরনো আইনটিকে যুগোপযোগী করে আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ খসড়া আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বিবেচনাধীন রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘এমন বস্তু যাহা এ আইনের তফসিলে উল্লিখিত কোনো মাদকদ্রব্যের রাসায়নিক গঠনের অনুরূপ গঠনবিশিষ্ট বস্তু না হওয়া সত্ত্বেও আসক্তি সৃষ্টিকারী মনোদৈহিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিতে উক্ত বস্তুর মতো একইভাবে কাজ করে। এ আইনের তফসিলের অন্তর্ভুক্ত হয়নি এমন বস্তু যার রাসায়নিক সংগঠন এ আইনের তফসিলের অন্তর্গত কোনো মাদকের রাসায়নিক সংগঠনের অনুরূপ এবং যার আসক্তি সৃষ্টিকারী মনোদৈহিক কার্যক্রম একই রকম হলে তা মাদক হিসেবে গণ্য হবে। পুরনো আইনেও দেহ তল্লাশির কথা রয়েছে। এক্ষেত্রে মলমূত্র পরীক্ষা ছাড়াও এক্সরে করার নিয়মও রয়েছে। আবার আলট্রাসনোগ্রাম, এন্ডোসকপি, কোলনস্কপি শব্দগুলো নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। এভাবেই বিভিন্ন ধারা উপধারায় সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সুত্র জানায়, প্রস্তাবিত আইনের তফসিলে ‘ক’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য দেখানো হয়েছে ‘অপিয়াম পপি গাছ, অপিয়াম পপি ফল, কিংবা অপিয়াম পপির অঙ্কুরোদগম উপযোগী বীজ। আবার কোকা গাছ বা কোকাগুল্ম, কোকা পাতা বা কোকা উদ্ভূত সকল মাদকদ্রব্য। শতকরা ০.১-এর অধিক কোকেনযুক্ত যেকোনো পদার্থ অথবা কোকেনের যেকোনো ক্ষার। আর অপিয়াম ফল নিঃসৃত আঁঠাল পদার্থ, পরিশোধিত বা অপরিশোধিত কিংবা তৈরিকৃত যেকোনো ধরনের আফিম, কিংবা আফিম সহযোগে তৈরি আসক্তি সৃষ্টিতে সক্ষম যেকোনো পদার্থ। ’মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একসূত্র জানায়, এসিটাইল মেথাডল, ফেন্টানাইল, এসিটাইল-আলফা-মিথাইল ফেন্টানাইল, আলফা-মিথাইল ফেন্টানাইল, আলফেন্টানাইল, বেটা-হাইড্রোক্সি ফেন্টানাইল, বেটা-হাইড্রোক্সি, ৩-মিথাইলফেন্টানাইল, লোফেন্টানাইল, ৩-মিথাইল ফেন্টানাইল, সুফেন্টানল, আলফামিথাইল থায়োফেন্টানাইল, ৩-মিথাইল থায়োফেন্টানাইল, রেমিফেন্টানাইল, সুফেন্টানাইল, থায়োফেন্টানাইল, এসিটাইল মেথাডল, আলফা এসিটাইল মেথাডল, বেটা এসিটাইল মেথাডল। তাছাড়া, আলফামেথাডল, বুপ্রেনরফিন, কোকেন, ক্লোরোকোডাইড, এট্রোফাইন, হেরোইন, এসিটাইলডিহাইড্রে কোডিন, হাইড্রোকোডন, ডাই হাইড্রোকোডন, কোডিন, হাইড্রোমরফিন, কিটামিন, মেট্রাজাইনিন, মেট্রাফাইলিন, মেথাডন, বেনজাইল মরফিন, মরফিন, ন্যালবুফাইন, নরকোডিন, নরমরফিন, নোজকাপেইন, প্যাপাভারিন, প্যাপাভেরিটাম, ফেনইথাইলামিন, পেন্টাজোসিন, পেথিডিন, পেথিডিন হাইড্রোক্লোরাইড, পেথিডিন ইন্টারমিডিয়েট এ, পেথিডিন ইন্টারমিডিয়েট বি, পেথিডিন ইন্টারমিডিয়েট সি, থিবেইন, অ্যামফিটামিন, বেনজফিটামিন, লেফিটামিন, মেথামফিটামিন। আবার মিথাইল অ্যামফিটামিন, মেথামফিটামিন রেসিমেট, ব্রোলামফিটামিন, (ডিওবি), ডেক্সামফিটামিন, ইটিলামফিটামিন, লেভাবফিটামিন, টেনামফিটামিন, অ্যাসিটরফিন, অ্যালাইলপেডাইন। এ্যালফামেপ্রোডাইন, অ্যালফাপ্রোডাইন, এনিলেরিডাইন, অ্যাসসিট্রোফাইন, বেটাএসিটাইলমেথাডল, ডাইমেফেপটানল, বেটামেপ্রোডাইন, বেটামেথাডল, বেনজিথিডাইন, বেনজাইলমরফিন বেটাপ্রোডাইন, বেজিট্রামাইড, ক্যানাবিস রেসিন, চরস বা হাশিশ, হাশিশ তেল, ক্যাথিনোন, মেথক্যাথিনন, ক্লোনিটাজিন, কোডোক্সিম, ডিমেরাল, ডেসোমরফিন, ডেক্সট্রোমোরামাইড, ডেক্সট্রোপ্রোপক্সিফেন, ডায়াম্প্রোমাইড, ডাই-ইথাইলথায়ামবিউটিন, ডায়ফিনক্সিন, ডাই-হাইড্রোকোডিন, ডাই-হাইড্রোএটরফিন, ডাই-হাইড্রোমরফিন, ডাইমেনোক্সাডল, ডাই-মিথাইলথায়ামবিউটিন, ডাই-অক্সাফেটিল বিউটিরেট, ডাই-ফেনক্সিলেট, ডাইপিপানন, ড্রটিবানল, একজোনিন, এরগোমেট্রিন, ইথাইলমিথাইল-থায়ামবিউটিন, ইথাইলমরফিন, ইটিসাইক্লিডিন, এটোনিটাজেন, এটক্সিরিডাইন, এটরফিন, ইটিপটামিন, ফুরিথিডাইন, হাইড্রোকোডন বাইটারট্রেট, হাইড্রোমরফোন, হাইড্রোক্সিপেথিডিন, আইসোমেথাডন, কিটোবেমিডোন। লেভোমেথরফ্যান, লেভোমোরামাইড, লেভোফিনাসিলমরফ্যান, হাইড্রোমরফিনল, লেভোরফ্যানল, মেপারডাইন, মেসকালাইন, মেটামেপ্রোডাইন, মেটাজছিন, মেথাডন ইন্টারমেডিয়েট, মেথক্যাথিনোন, মেথিলাডিহাইড্রোমরফিন, মেথিলডেসরফিন, মেটোপন, এমএমডিএ, মোরামাইড, মরফেরিডাইন, মরফিন মেথোব্রোমাইড এবং অন্যান্য পেন্টাভেলেন্ট ডেরাইভেটিভস নাইট্রোজেন মরফিন, মরফিন-এন-অক্সাইড, এমপিপিপি, মাইরোফিন, নালোক্সোন, নালট্রাক্সোন, নিকোকোডিন, নারকোডিন, নারকোটিন, নিকোডিকোডিন, নিকোমরফিন, নোরাসাইমেথাডল, নরলিভরফ্যানল, নরমেথাডন, নরপিপানন, অমনোপন, অরিপাভাইন, অক্সিকোডন, অক্সিমরফন, প্যারা-ফ্লুরোফেন্টানিল, প্যারাহেক্সাইল, পিইপিএপি ফেনাডক্সন, ফেনামপ্রমাইড, ফেনাজসিন, ফেনোমরফ্যান, ফেনোপেরিডিন, ফলকোডিন, পিমিনোডিন, পিরিট্রামাইড, প্রোহিটাজিন, প্রোপেরিডিন, প্রোপিরাম, সিলোসিন, সিলোটসিন, রেসিমেথরফ্যান, রেসিমোরামাইড, রেসিমোরফ্যান, রেমিফ্যান্টানিল, রোলিসাইক্লিডিন, টেনোসাইক্লিডিন, টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল, থেবাকন, টিলিডাইন, ট্রাইমেপেরিডাইন। আরেক সূত্র জানায়, প্রিকারসর কেমিক্যালস : ক বা খ শ্রেণির কোনো মাদকদ্রব্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বা উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হয় এমন প্রিকারসর কেমিক্যালসগুলোও তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসিটিক অ্যানহাইড্রাইড, এন-এসিটাইল এনথ্রানিলিক এসিড, এফিড্রিন, এরগোমেট্রিন, এরগোটামিন, আইসোস্যাফরোল, লাইসারজিক এসিড, মিথাইল এনিডাইওক্সিফেনাইল-২-প্রোপানন, নরেফিড্রিন, পিপারোনাল, পটাশিয়াম পারমাংগানেট, সিউডো এফিড্রিন, স্যাফরোল, এসিটোন, আপান, এএনপিপি, এনপিপি অ্যানথ্রানিলিক এসিড, ইথাইল ইথার, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, মিথাইল-ইথাইল-কিটোন, ফিনাইলাসিটিক এসিড, পিপারিডিন, সালফিউরিক এসিড, টলুইন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সংশ্লিস্ট একজন কর্মকর্তা জানান, মাদকদ্রব্য সরবরাহ, চাহিদা হ্রাস, অপব্যবহার ও চোরাচালানসহ মাদকের ভয়াবহতা প্রতিরোধে যা যা করা দরকার তার সবই নতুন আইনে করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার নতুন ধরনের মাদকজাতীয় বস্তু উদ্ধারের ব্যাপারে  জানান, এইগুলো উদ্ধার বাংলাদেশে এটিই প্রথম। এর আগে কখনো উদ্ধার হয়নি। এগুলো বাংলাদেশে আর কখনো দেখা যায়নি। তবে যেহেতু বাংলাদেশে প¦ার্শবর্তী কোনো দেশেও উৎপাদন হয় না। আর বিভিন্ন দেশ ঘুরে এগুলো আনা হয়েছে। তাই আমরা সন্দেহ করে এসব বস্তু আমদানির সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে বলে জানান তিনি। -ডেস্ক