(দিনাজপুর২৪.কম) প্রশিক্ষণ দিয়ে পোশাক খাতে ১৫ লাখ দক্ষ শ্রমিকের চাকরি দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কীভাবে পরিচালনা করা হবে তা নির্ধারণে আট সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। এর নাম দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা কমিটি। তৈরি পোশাক খাতের প্রশিক্ষণ প্রদান নীতিমালা-২০১৯ সামনে রেখে সম্প্রতি এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান কাজ হচ্ছে পোশাক খাতে দক্ষ শ্রমিকদের চাকরির ব্যবস্থা করা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, পোশাকের ফ্যাশন, ডিজাইন, বৈচিত্র্য এবং গুণগত মানের বিষয়টি অনেকাংশে দক্ষ শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে থাকে। এ কারণেই পোশাক খাতকে প্রশিক্ষণ প্রদান নীতিমালা-২০১৯ আলোকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক ও সিএমসি প্রধানকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য প্রতিনিধিরা হলেন প্রতিনিধি বস্ত্র সেল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রতিনিধি শ্রম অধিদফতর, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রতিনিধি বস্ত্র অধিদফতর, প্রতিনিধি বেপজা, প্রতিনিধি বিজিএমইএ, প্রতিনিধি বিকেএমইএ, উপপরিচালক সিএমসি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো।

জানা যায়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সংক্রান্ত সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বাছাই সংক্রান্ত কাজ করবে। প্রশিক্ষণার্থী শ্রমিক কর্মচারী নির্বাচনপূর্বক নিবন্ধন প্রক্রিয়া নির্ধারণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। নিবন্ধিত শ্রমিকরা কে কোন সময় কোন প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করবে তা সুনির্দিষ্ট উল্লেখ করে প্রস্তুতকৃত তালিকা সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করতে হবে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণয়ন করা মডিউল সংশোধন, সংযোজন এবং অনুমোদন করবে। সরকার প্রদত্ত তহবিল ব্যবহারপূর্বক প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পর্কে উপযুক্ত সময়ে পত্র-পত্রিকায় ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায়

পর্যাপ্ত প্রচারের ব্যবস্থা করাও কমিটির অন্যতম দায়িত্ব। প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন কাজ পর্যালোচনার জন্য কমিটিকে প্রতি দুই মাসে ন্যূনতম একটি সভা করতে হবে। তবে প্রয়োজনে যেকোনো সময়ে সভা আহ্বান করতে পারবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন দফতর, সংস্থার প্রতিনিধিকে কমিটির সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করতে পারবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, দক্ষতা বিবেচনায় গ্রেডের ভিত্তিতে পোশাক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করে থাকেন উদ্যোক্তারা। মজুরি কাঠামো অনুযায়ী সাতটি গ্রেডের ভিত্তিতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) এ সংক্রান্ত এক সমীক্ষায় বলা হয়, মজুরি কাঠামোর গ্রেড ৭ ও ৬-এ অদক্ষ শ্রমিকের হার সবচেয়ে বেশি। এ শিল্পের মজুরি কাঠামোর ১ ও ২ গ্রেড বাদে বাকি সবগুলোই নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ বেশি। গ্রেড-৭ এ নারী-পুরুষ মিলিয়ে অদক্ষ শ্রমিকের হার ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গ্রেড-৬ এ ১৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ শ্রমিক অদক্ষ। গ্রেড-৪ ও ৫ এ রয়েছে আধা দক্ষ নারী-পুরুষ শ্রমিক। এর মধ্যে গ্রেড-৪ এ ২১ দশমিক ৯২ শতাংশ শ্রমিক আধা দক্ষ। আর গ্রেড-৫ এ ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ শ্রমিক আধা দক্ষ। গ্রেড-১ থেকে ৩ এ অদক্ষ নারী-পুরুষ শ্রমিকের হার সবচেয়ে কম। রফতানির শীর্ষে থাকা এ খাতটি সামনের দিকে আরো এগিয়ে নিতে হলে অদক্ষ শ্রমিকের দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা জোর দিয়ে সুপারিশ করা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এছাড়া পোশাক খাতের উদ্যোক্তারাও বলে আসছেন, এ শিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা অদক্ষ শ্রমিক। বেকারের সংখ্যা বাড়ছে ঠিকই কিন্তু দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ শিল্পে বর্তমান ৪০ লাখ নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ খাতে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সুযোগ কেবল দক্ষ শ্রমিকদের জন্য। ২০২১ সালের মধ্যে শুধু পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এটা পূরণ করতে হলে অবশ্যই দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ শিল্পে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ৫০ লাখ ২৭ হাজার ৪৬৩ জনে। ওই সময় আরো ২১ লাখ শ্রমিককে নতুন করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক পরিণত করতে হবে।

জানা যায়, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে কাজ করছে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ—সিবাই। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে অধিকতর মূল্য সংযোজনের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিবাই উদ্বোধন করেন। তবে ২০১৬ সালের জুলাইতে ঢাকার আশুলিয়ায় প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ৫ হাজার ৭৬৩ শ্রমিক বিভিন্ন কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছে। এছাড়া ইউসেপ, মুসলিম এইড এবং বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ১০টি পোশাক কারখানায় এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং বা ইবিটি সেন্টার স্থাপন করেছে সিবাই।-ডেস্ক