(দিনাজপুর২৪.কম) মেয়েদের লিপস্টিক, জিনস, ছোট পোশাকই ধর্ষণে উসকানি দেয়। এর ফলেই তারা ধর্ষণের শিকার হয়। নির্ভয়ার ধর্ষণের জন্য দায়ী তিনিই ছিলেন। অত রাতে পরপুরুষের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার কী দরকার ছিল? ছাত্রী-ছাত্রীদের এমন শিক্ষাই দিলেন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তবে শিক্ষিকার এ শিক্ষার সঙ্গে একেবারেই সহমত হয়নি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা। বিষয়টি অভিভাবক ও প্রধানশিক্ষককে প্রমাণ সহ জানিয়েছে তারা। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে।

রায়পুরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের বায়োলজির শিক্ষিকা স্নেহলতা শাঙ্খোয়ার এমন ধারণা পোষণ করেন। অভিযোগ, ক্লাসরুমে প্রায়ই এমন মন্তব্য করে থাকেন তিনি। সম্প্রতি দাবি করেন, যে সমস্ত মেয়েরা সুন্দর নয় তাঁরাই লিপস্টিক লাগায়। জিনস পরে। শরীর লাগোয়া ছোট পোশাক পরে। এমন মেয়েদের তো ছেলেরা চরিত্রহীন ভাববেই। তাদের সহজলভ্যও মনে করবে। মেয়েরা বড্ড নির্লজ্জ হয়ে গিয়েছে। কেন নির্ভয়া এমন পুরুষের সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন যিনি তাঁর স্বামী ছিলেন না? এই বিষয়টি এত মাথাব্যথারই বা কী ছিল? এমন ঘটনা তো দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় হয়েই থাকে। নির্ভয়ার মায়ের নিজের মেয়েকে অত রাতে বাইরে বের হতে দেওয়া উচিত ছিল না।

এখানেই থেমে যাননি স্নেহলতা তিনি বলতে থাকেন, ২০১২ সালে নির্ভয়া ধর্ষণের মতো ঘটনায় ছেলেদের কোনও দোষ নেই। যে মেয়েদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটে তারা অভিশপ্ত হয় এবং এটা তাদের জন্য একটা শাস্তি। মেয়েরা দেখালে ছেলেরা তো ভাববেই তারাও যৌনতা চাইছে। মেয়েটির মনেও ইচ্ছা রয়েছে। এমন মেয়েরাই চরিত্রহীন হয়। ভরা ক্লাসরুমে যখন এমন কথা শিক্ষিকা বলে চলেছিলেন অনেক পড়ুয়াই তা রেকর্ড করে নেন। অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে সেই অডিও ক্লিপও জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানশিক্ষক ভগবান দাস আহিরে। অবিলম্বে এমন শিক্ষিকাকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। -ডেস্ক