পেট্রোল সংকটে দিনাজপুর সহ উত্তরবঙ্গ

এম.এ সালাম (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেল হেড অয়েল ডিপোতে পেট্রোলের মজুদ আশংকাজনক হারে কমে যাওযায় উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় পেট্রোলের সরবরাহ প্রায় শূণ্যের কোটায় নেমে এসেছে। এ ডিপোতে দৈনিক পেট্রোলের চাহিদা এক লাখ ৮০ হাজার লিটার। কিন্তু বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে মাত্র এক লাখ ৮০ হাজার লিটার ডিপোতে পেট্রোল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। ডিপোর একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারের রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড হতে সড়ক পথে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে পেট্রোল সরবরাহ দেয়া হতো। পেট্রোল বাংলার আওতাধীন তিন কোম্পানী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড একদিন পর পর ট্যাংকলরীতে করে ৪ লাখ ৫ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ করতো। ডিপো থেকে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর সহ ৮ জেলা ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা ৪৫০ পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল সরবরাহ করা হতো। এতে এ অঞ্চলের পেট্রোলের চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হতো। প্রায় মাস খানিক ধরে রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে হঠাৎ করে পেট্রোল আসা কমে যাওয়ায় ডিপোতে পেট্রোল সংকট দেখা দিয়েছে। অয়েল ডিপোর ইনচার্জ আজম খান বলে, যেখানে আগে তিন কোম্পানী মিলে সপ্তাহে একশ লরী পেট্রোল আসতো, সেখানে সপ্তাহে আসছে মাত্র ৩০ লরী পেট্রোল। বর্তমানে গ্যাস ফিল্ড থেকে যে পরিমান পেট্রোল আসছে তাই আমরা ডিলার ও এজেন্টেদের সরবরাহ করছি।
দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সধারন সম্পাদক মোঃ রওশন আলী সরকার বলেন, পাবর্তীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে প্রায় মাস খানিক ধরে পেট্রোলের সংকট চলছে। আমার চাহিদার ৪ ভাগের মাত্র ১ ভাগ পেট্রোল সরবরাহ পাচ্ছি। ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এবং দিনাজপুর, পেট্রোল সংকট চরমে। ইতিমধ্যে অনেকে পেট্রোল পাম্প বন্ধ রেখেছেন। দ্রুতই পেট্রোলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পেট্রোল সংকট চরম আকার ধারন করবে। তিনি বলেন, পেট্রোল সংকটের ব্যাপারে বগুড়ায় তিন কোম্পানীর এজিএমদের সাথে আলোচনা হয়েছে। তারাও সংকটের কোন সুরাহা দিতে পারেনি। এদিকে পেট্রোল নিতে আসা ট্যাংকলরীগুলো টার্মিনালে ৫/৭ দিন অপেক্ষা করেও পেট্রোল না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
সুধী মহল মনে করছেন হঠাৎ করে উত্তরবঙ্গ থেকে পেট্রোল উধাও হওয়ার ঘটনা ভাল নয়। দাম বেড়ে যেতে পারে পেট্রোলের এমনটি মনে করছেন তারা। পেট্রোল সংকট দ্রুত না কাটলে সিন্ডিকেট করে কেউ যেন পেট্রোলের দাম না বাড়িয়ে দেয় এ জন্য সুধী মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।