(দিনাজপুর২৪.কম) পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হয় না, তা বলে কি একলাফে এত টাকা দাম বেড়ে যাবে- গতকাল  এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজধানীর মোহনপুরের একটি মুদি দোকানের একজন ক্রেতা। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও ৩০ টাকায় এককেজি দেশি পেঁয়াজ কিনেছি। আর এখন দাম ৫০ টাকা। দেশটি কি মগের মুল্লুক নাকি? কেবল ওই ক্রেতাই নন, হঠাৎ পেঁয়াজের দাম এত বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ রাজধানীর অন্য বাসিন্দারাও।

কল্যাণপুরের মধ্যপাইকপাড়ার বাসিন্দা বিউটি খাতুন বলেন, পৃথক দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বামী-স্ত্রী মিলে চাকরি করি। কতই বা বেতন পাচ্ছি। মাসে কমপক্ষে চারকেজি পেঁয়াজ লাগে। প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকায় কিনলে দেখা যাচ্ছে প্রতিমাসে পেঁয়াজ বাবদই ২০০ টাকা চলে যাবে। অন্যান্য নিত্যপণ্যও তো কিনতে হয়। তাছাড়া আরও তো কত খরচ। এ অবস্থা চলতে থাকলে সংসার চালানো তো কঠিন।

গতকাল ফকিরাপুল, আরামবাগ ও মতিঝিল এলাকার মুদি দোকান ঘুরেও দেখা গেছে নিত্যপণ্যের মধ্যে পেঁয়াজের দামই হঠাৎ একলাফে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। আরও কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও একলাফে এত নয়। যেমন সয়াবিন তেল আগে বিক্রি হতো প্রতি লিটার ১০৫ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। মুদি দোকানদাররা বলছেন, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম। তাই পেঁয়াজের দাম এত বেড়েছে। তবে এ অজুহাতে রাজধানীতে পেঁয়াজ ও অন্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম বেশি হওয়াকে মেনে নিচ্ছেন না ক্রেতারা। তারা বলছেন, সিন্ডিকেট করেই পেঁয়াজের দাম এত বাড়ানো হয়েছে। বন্যা আর বৃষ্টির দোহাই দিয়ে বাজার থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। এর খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে।

ফকিরাপুলের খুচরা ব্যবসায়ী আবদুর রশীদ  বলেন, পেঁয়াজের সিজন শেষ হতে যাচ্ছে বলে দাম বেড়েছে। পেঁয়াজের নতুন সিজন কয়েক মাস পর। সিজন শুরু হলে দাম কমবে বলে তিনি জানান।

মতিঝিলের আরেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম বাড়ার অন্য কারণ দেখছেন। তিনি বলছেন, সামনে ঈদ, এই ঈদকে সামনে রেখে আড়তদাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ঈদের পর দাম কমবে বলে তিনি মনে করেন।

বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও মেসার্স জননী ভাণ্ডারের মালিক হাজী মো. মহসিন উদ্দিন বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার জন্য পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ভারত থেকে বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজ সময় মতো আসতে পারছে না। বৃষ্টি কমে গেলে দাম কমবে। কবে দাম কমতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বৃষ্টি না হলে দু-চার দিনের মধ্যেই দাম কমবে।

রহমতগঞ্জ পাইকারি বাজারের আল-আমিন ট্রেডার্সের ম্যানেজার  বলেন, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে বাংলাদেশের বাজারেও দাম বেড়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদের কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়েনি। ভারতের পেঁয়াজের বাজারের উপর বাংলাদেশের বাজার অনেকটা নির্ভরশীল। ভারত পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে বলে বাংলাদেশেও বেড়েছে। ঈদের আগে পেঁয়াজের দাম কমবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা নির্ভর করবে ভারতের বাজারের উপর। ভারতের বাজারে যখন দাম কমবে তখন আমাদের বাজারেও কমবে। এখন ঢাকার পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা।

এদিকে দুসপ্তাহের ব্যবধানে শাক-সবজিসহ আরও কিছু নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। সব থেকে কাঁচামরিচে দাম বেড়েছে বেশি। দেড়শ টাকা কেজি কাঁচামরিচ। প্রতিকেজি সবজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা এবং শাকে আটিপ্রতি বেড়েছে কমপক্ষে ১০ থেকে ২০ টাকা। চালে আমদানি শুল্ক কমানো ও ভারত থেকে আসায় শুরুতে ২ টাকা কমলেও এখন আবার ২ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে মিনিকেট চাল কেজিতে ৫০ পয়সা বেড়েছে। -ডেস্ক