(দিনাজপুর২৪.কম) লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী। তবে রাজস্ব আয়ের এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব। এ জন্য আগামী মাস থেকেই রাজস্ব আদায়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করা হবে। আজ বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। গত কয়েক বছরের মতো এদিনও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের চারজন মন্ত্রী মুহিতের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন। মুহিতের ডানপাশে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আর বাঁ পাশে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নানকে বসিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মুহিত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মাহবুব আহমেদ, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রী বলেন, গত বছরে রাজস্ব আদায় ছিল নিম্নমুখী। কিন্তু আপনারা যদি আগের বছরে দেখেন সেটা সব সময় দুই ডিজিটের বেশি ছিল। গতবারে কম হয়েছে। আমি সাত বছর ধরে এই মন্ত্রণালয়ের আছি। গত সাত বছরে রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন নতুন অফিস হয়েছে, জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় অফিস হবে। ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর আদায়ের প্রস্তাব করেছি। কালো টাকা সাদা করার বিধান বাজেটে কতদিন থাকবে?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সরকার যত দিন আছে ততোদিন অপ্রদর্শিত আয় সাদা করার আইন বলবৎ থাকবে। বর্তমানে নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। এটা নিয়ে অহেতুক প্রশ্ন করার কোনো প্রয়োজন নেই। এটা সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে বিশ্বের সবগুলো দেশ থেকেই বাংলাদেশ তুলনামূলক পিছিয়ে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমাদের হ্যাবিটটা চেইঞ্জ করা দরকার। রাজস্বের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ আমরা সব সময় সরকার কী সেবা দিল তা নিয়ে হৈ চৈ করি, দাবি করি। কিন্তু সরকার সেবা দিতে গেলে যে রাজস্ব প্রয়োজন সেটা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাই না। তাই একটু রাজস্ব বেশি দিলে মন্দ হয় না। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা পৃথিবীর সব দেশের চেয়ে কম রাজস্ব আদায় করি। একটি না দুইটি দেশ আমাদের নিচে আছে। মোবাইল ফোনে কথা বলার উপর ট্যাক্স কমানো হবে কি?- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই খাত থেকে আগে যেমন ট্যাক্স আসতো, এখন তেমন আসছে না। তবে মোবাইল ফোনে যারা কথা বলেন, তাদের জন্য এ বৃদ্ধি তেমন কিছু না বলে আমি মনে করি। এতে তাদের জন্য অতিরিক্ত কোন প্রভাব পড়বে না।

-ডেস্ক