(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশের ব্লগাররা তাদের বিরুদ্ধে হুমকির বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পরও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির এশিয়া পরিচালক ব্রাড এডামস এ অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার সংস্থাটির নিজস্ব সাইটে ‌এই বিবৃতি দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ব্লগার নিলয় চৌধুরীর মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, সবার নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্প্রতি ব্লগারদেরকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না হানার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এ.কে.এম. শহীদুল হক খান। তার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে এই বিবৃতিতে। এইচআরডব্লিউ বলছে, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়কে হত্যার হুমকি দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নিতে পুলিশের ব্যর্থতা কিংবা খুনিদের ধরতে না পারার বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিয়ে, পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া আইন অনুসারে অপরাধ। যারা মুক্ত চিন্তার লেখক তাদের অনুরোধ করছি, আপনারা সীমা অতিক্রম করবেন না। কারও ধর্মীয় অনুভূতি বা বিশ্বাসে আঘাত হতে পারে এমন কিছুই লেখা উচিত নয়। সংগঠনটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, এটা খুবই হতাশাজনক। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার হুমকি থাকা সত্ত্বেও ব্লগারদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাই নয়, উল্টো তাদের লেখালেখিতে সেল্ফ সেন্সরশিপ বা আত্ম-নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিচ্ছে। দ্রুত তদন্তকাজ শেষ করার নিশ্চয়তা দেওয়ার পরিবর্তে পুলিশের শীর্ষ কর্তাব্যক্তির এমন বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, সরকারের মনে রাখা উচিত, ধর্মীয় স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবিধান সমুন্নত রাখা এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়াও তাদের দায়িত্ব।
 বাংলাদেশে এই বছরে চারজন ব্লগারের হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ইসলামবিরোধী এবং নাস্তিক অভিযোগে চিহ্নিত করে উগ্র মৌলবাদীরা যে ৮৪ জন ব্লগারের তালিকা তৈরি করেছিল তাতে এই চারজনেরই নাম ছিল। সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট ঢাকার গোরানে নিজের বাসায় প্রবেশ করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়ে ‘নীলয় নীল’ নামে পরিচিত ব্লগার নিলয় চৌধুরীকে। -ডেস্ক