(দিনাজপুর২৪.কম) সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের উৎপত্তি চীনে। গেলো বছর ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত করা হয়।

এই অদৃশ্য ভাইরাস থেকে সেরে উঠার পর্যায়েও পুরুষের বীর্যের মধ্যে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পেয়েছেন একদল চীনা গবেষক।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চীনে ভাইরাসটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার সময় শাংকুই মিউনিসিপ্যিাল হসপিটালে চিকিৎসাধীন ৩৮ জন পুরষকে পরীক্ষা করে এই ফল পাওয়া গেছে।

নতুন এই ভাইরাসটি যৌন মিলনের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে বলে আশংকা তৈরি করেছে নতুন এই গবেষণা।

জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেন নামের একটি সাময়িকীতে ছাপা এক প্রতিবেদনে গবেষক দল জানান, পরীক্ষিতদের মধ্যে ১৬ শতাংশের মতো পুরুষের বীর্যের মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।

এদের এক চতুর্থাংশই তখন মারাত্মক সংক্রমণের পর্যায়ে এবং প্রায় ৯ শতাংশ সেরে উঠার পর্যায়ে ছিলেন বলে গবেষকরা জানান।

বেইজিংয়ে চাইনিজ পিপল লিবারেশন আর্মি জেনারেল হসপিটালের দিয়ানজেং লি ও তার সহকর্মীরা লিখেছেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এমনকি সেরে উঠার পর্যায়েও পুরুষের বীর্যের মধ্যে আমরা সার্স-সিওভি-২ এর অস্তিত্ব পেয়েছি।

পুরুষের প্রজনন ব্যবস্থায় প্রতিস্থাপনে সক্ষম না হলেও ‘সেখানে পূর্ণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকায়’(প্রিভিলেজড ইমিউনিটি)’ ভাইরাসটি টিকে থাকছে বলে তারা মনে করছেন।

তবে এটা খুব আশ্চর্যজনক কিছু নয়, অনেক ভাইরাসই পুরুষের প্রজনন ব্যবস্থায় টিকে থাকতে পারে।

এর আগে পুরুষের বীর্যে ইবোলা ও জিকা ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে, এমনকি রোগী সেরে উঠার কয়েক মাস পরও।

তবে করোনাভাইরাস এভাবে ছড়াতে পারে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে বলেই যে তা সংক্রামক হবে এমন মনে করার কোনো কারণ নেই।

এদিকে, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে চীনের উহান প্রদেশে গিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল।

সেই সময়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাদুড় বা ওই জাতীয় প্রাণীর শরীরেই করোনাভাইরাসের উৎপত্তি। কিন্তু তারপর এ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক শুরু হয়। -ডেস্ক