বিষ্ণুপদ রায়, পীরগঞ্জ (দিনাজপুর২৪.কম) অভ্যন্তরীর দন্ডের জেরে ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার এইচ কে হাই স্কুল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে কলেজের সাইন বোর্ড ভাংচুড় এবং বেঞ্চ ও টেবিল বের করে নিয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানের হাই স্কুল শাখার কতিপয় শিক্ষক কর্মচারী। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে শনিবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়রা জানায়, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নে ১৯৯৩ সালে স্থাপিত এইচ কে হাই স্কুলে ২০০২ সালে কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের আনুমোদন নিয়ে এইচএসসি বিএম শাখা চালু করা হয়। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এইচ কে হাই স্কুল এন্ড বিম কলেজ নামে রুপান্তরিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানে শুরু থেকেই আঃ বারী প্রধান শিক্ষক এবং পরবর্তীতে যোগ্যতা থাকায় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে আছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে এমপিও ভুক্ত হয়। শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ক্রমে নিয়মিত কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছিল। ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ঠিক ঠাক ভাবেই চলে। এরপর ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে গত বছরের ২৮ এপ্রিল অনুমোদনের জন্য দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাঠায় অধ্যক্ষ আব্দুল বারী। এরই মধ্যে স্কুল শাখার কয়েকজন শিক্ষকের সাথে অধ্যক্ষের মতানৈক্য দেখা দেয়। শিক্ষকরা অধ্যক্ষকে প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত করতে নানা কৌশল গ্রহন করে। তারা অভিযোগ করেন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে। অভিযোগের কারণে দিনাজপুর বোর্ড কর্তৃপক্ষ নির্বাচিত ঐ কমিটি অনুমোদন দেননি। এতে প্রতিষ্ঠানে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক রবীন্দ্র নারায়ন ভট্টাচার্য পরামর্শে গত ২০ জুন শিক্ষকদের পক্ষ থেকে হাই কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। পিটিশনে একই মাঠে এইচ কে হাই স্কুল এন্ড বিএম কলেজের তথ্য গোপন করে শুধু এইচ কে হাই স্কুলের কথা উল্লেখ করা হয় এবং এর কোন পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পাচ্ছে না বলে দাবী করা হয়। হাই কোর্ট ২৫ জুন একজন জৈষ্ঠ্য শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দিয়ে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করার জন্য নির্দেশনা দেন।  এতে সহকারী শিক্ষক তৈমুর রহমান স্কুলে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে অনুমোদনের জন্য জমা দেয়। বোর্ডের পরিদর্শক রবীন্দ্র নারায়ন ভট্টাচার্য গোপনে তা অনুমোদন করিয়ে দেন। কমিটি অনুমোদনের পর রিট পিটিশন এবং নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জানতে পারেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আঃ বারী। এ বিষয়ে খোজ খবর নেয়ার জন্য অধ্যক্ষ ঢাকায় গেলে গত ২৯ জুলাই অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় স্কুল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত তৈমুর রহমান সহ কয়েকজন শিক্ষক। তারা প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে সাটানো হাই স্কুল এন্ড বিএম কলেজ লেখা সাইবোর্ডটি খুলে ভেঙ্গে ফেলে এবং এইচ কে উচ্চ বিদ্যালয়ের সাইবোর্ড সেটে দেন। এছাড়াও কলেজের অন্যান্য কক্ষ থেকে টেবিল ও বেঞ্চ বের করে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে কলেজ শাখার শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে স্কুল শাখার কয়েক জনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।
এ বিষয়ে স্কুল শাখার শিক্ষক কামাল জানান, কোর্টের আদেশে স্কুল শাখা আলাদা হয়েছে। আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজেই এখানে কলেজের সাইন বোর্ড থাকবে কেন ?।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আঃ বারী জানান, একই মাঠে স্কুল এন্ড কলেজ হওয়ায় এর প্রধান হবে একজনই। তিনি বিধি মোতাবেক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্কুল এন্ড কলেজের তথ্য গোপন করে আমাকে অন্ধকারে রেখে হাই কোর্টে ভুয়া কাগজ পত্র দাখিল করে কমিটি গঠনে একটি নির্দেশনা নিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক। যেটি নীতিমালা বর্হিভূত। তিনি প্রকৃত বিষয়টি কোর্টকে জানানোর ব্যবস্থা নিয়েছেন।
নব গঠিত কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক বিপ্লব জানান, সাইন বোর্ড খুলা বা তালা লাগানো বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এটা স্কুলের লোকজন ঠিক করেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন তিনি।
পরিদর্শনে যাওয়া পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম জানান, তিনি সাইবোর্ডটি পুনরায় লাগিয়ে দেওয়ার জন্য স্কুলে শিক্ষকদের বলেছেন।