-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) পিরোজপুর সদর উপজেলার এসিল্যান্ড বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রামানন্দ পালের সরকারি বাসায় ঢুকে তার স্ত্রী অদিতি বড়ালকে ছুরিকাঘাত করে জখম করেছে এক দুর্বৃত্ত।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে পিরোজপুরে জেলা প্রশাসনের কৃষ্ণনগরস্থ সরকারি ডরমেটরি ভবনে এই হামলার সময় অদিতি বাসায় একাই ছিলেন। রামানন্দ পাল তখন ছিলেন কর্মস্থলে।

এ নিয়ে চারবার অদিতি বড়ালের ওপর দুর্বৃত্তের হামলার ঘটনা ঘটল। ছুরিকাঘাতে আহত অদিতিকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর বাসায় নেওয়া হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকিল সরোয়ার জানান, ছুরিকাঘাতে অদিতি বড়ালের পেটে সামান্য জখম হয়েছে। বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি আশঙ্কামুক্ত।

হামলার খবর পেয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খানসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান।

অদিতি বড়াল বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কালিদাস বড়াল ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হ্যাপি বড়ালের মেয়ে। আদিতি বড়ালের বাবা কালিদাশ বড়াল দুর্বৃত্তের গুলিতে মারা যান।

এর আগে গত বছরের ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় একইভাবে এক দুর্বৃত্ত অদিতি বড়ালকে পিরোজপুরের ওই সরকারি বাসায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা করা হলেও পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. জিয়াউল হক জানান, দুপুর ১টার দিকে এক ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটদের সরকারি কোয়ার্টারে অদিতি বড়ালের বাসায় গিয়ে দরজা খুলতে বলে। তিনি দরজা খুললে ওই দুর্বৃত্ত তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং হামলাকারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি জানার সাথে সাথে আমরা হাসপাতলে গিয়েছি। তার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ বিভাগকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, রামানন্দ পাল বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে চাকরিরত থাকার সময় ২০১৮ সালের ৩ জুলাই তার স্ত্রী অদিতি বড়ালকে আরও একবার দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতের শিকার হন। এছাড়া বাগেরহাটে থাকাকালেও হামলার শিকার হন তিনি। -ডেস্ক