(দিনাজপুর২৪.কম) নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেস এবং অনিয়মের দায়ে বহিষ্কৃত ৯ পরিচালকের নামে থাকা সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও শেয়ার জব্দের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। গতকাল সোমবার বিএফআইইউ থেকে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশনা পাঠানো হয়। আর পরিচালকদের শেয়ার জব্দের নির্দেশ দিয়ে পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও পরিচালকদের শেয়ার জব্দের নির্দেশ দিয়েছি।’

রবিবার পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিনই মামলার শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে পিপলস লিজিংয়ের নামে থাকা সব অ্যাকাউন্ট ও অনিয়মের দায়ে বহিষ্কৃত ৯ পরিচালকের নামে থাকা শেয়ার ও তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া অবসায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার একজনকে অবসায়ক নিয়োগের আদেশ দেন আদালত।

জানা যায়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান খানকে অবসায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ৫৭০ কোটি টাকা বের করে নেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকরা। এর বড় অংশই বের করা হয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সামসুল আলামিন গ্রুপের নামে। গ্রুপের ২০ প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকজন পরিচালকের নামে অনিয়ম করে বের করা হয় ১৪০ কোটি টাকা। এ ছাড়া পরিচালক মতিউর রহমান, খবির উদ্দিন, ইউসুফ ইসমাইল, বিশ্বজিত কুমার রায়ও নামে-বেনামে টাকা বের করে নেন। পিপলসের সাবেক চেয়ারম্যান এম মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিষ্ঠানটির ১২৩ কোটি টাকার জমি নিজের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে নিলেও পরে তা ছেড়ে দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এসব অনিয়ম বের হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরিচালক সামসুল আলামিন, নার্গিস আলামিন, হুমায়রা আলামিন ও খবির উদ্দিনকে অপসারণ করা হয়। আর চেয়ারম্যান এম মোয়াজ্জেম হোসেন স্বেচ্ছায় পদ ছাড়েন।-ডেস্ক