(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পিতার জন্মদিনে আজ জাতিকে একটা সুখবর দিতে চাই। আজ বাংলাদেশ জাতিসংঘ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে। আমাদের পাশের দেশগুলো এই স্বীকৃতি আগেই অর্জন করেছিল। আজ থেকে আমরা তা অর্জন করলাম। এর মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নপূরণে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম আমরা।

শনিবার (১৭মার্চ) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন শহরের সোনালীস্বপ্ন একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়ন্তী সাহা পিউ। সভাপতিত্ব করেন- শহরের এস এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আরাফাত হোসেন।

এসময় মঞ্চে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম এনডিসি, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এম বজলুল করিম চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি তার ভাষণ শেষে চিত্রাঙ্কন, ৭ই মার্চের ভাষণ, গল্প বলা, রচনা প্রতিযোগিতা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পরে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা দর্শক সারিতে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। দুপুর ১টায় প্রধানমন্ত্রী ফিতা কেটে বইমেলার উদ্বোধন ও শিশুদের আঁকা আমার ভাবনায় ৭ই মার্চ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

এর আগে, শিশু সমাবেশ মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেখ রাসেল স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা শিশু গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার দুইজন মহিলার হাতে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এর মধ্যেই তিনি দেশের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। আরেকটু সময় পেলে এই বাংলাদেশকে আরও আগেই উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করতে পারতেন। কিন্তু তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমরা দুই বোন বিদেশে ছিলাম বলেই বেঁচে গিয়েছি। বিদেশে আমরা দুই বছর রিফিউজির জীবন যাপন করেছি। তারপরেও আমার বাবার স্বপ্ন পূরণে রাজনীতিতে এসেছি। সব সময় দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের জন্য নিরন্তর কাজ করতে গিয়ে একটানা দুই বছরও আমার বাবা কারাগারের বাইরে থাকতে পারেননি। এতেই বোঝা যায় তিনি কী গভীরভাবে বাংলার মানুষকে ভালোবাসতেন। এমনকি পরিবারের চেয়ে দেশের মানুষকে তিনি বেশি ভালোবাসতেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর লেখা কারাগারের রোজনামচা ও অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার বিষয়টি বোঝা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের জাতির ভবিষ্যত হিসেবে উল্লেখ করে তাদের নিয়মিত লেখাপড়া করার পরামর্শ দেন।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের মন কোমল। এসময় তারা যা দেখবে, তাদের যা শেখানো হবে সেটাই তারা করবে। তাই তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে সেগুলো খেয়াল রাখবেন। ‘কোনো শিশু যেন বিপথে না যায়, তারা যেন কোনো জঙ্গিমূলক কাজে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার একমাত্র চাওয়া বাংলাদেশের মানুষ সুন্দর জীবন পাবে, তারা শান্তিতে ঘুমাতে পারবে, তিন বেলা পেটভরে খেতে পারবে। আজ আমাদের জন্য একটি সুখবর আছে। জাতির পিতার জন্মদিনে এ সুখবরটা আপনাদের দিচ্ছি। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো আগেই উন্নয়নশীল দেশ ছিল। আমরা তাদের থেকে পিছিয়ে ছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জাতির জনকের আন্দোলন-সংগ্রাম-ত্যাগ-তিতীক্ষার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পর জাতির জনক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করেন। তিনি চেয়েছিলেন, উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। কিন্তু, মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন তিনি। আরেকটু সময় পেলে বাংলাদেশ বহু আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতো। কিন্তু জাতির জনককে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। পঁচাত্তরের কালরাতে তাকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়।

শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের কর্ণধার। তারাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই আমি চাই, একটিও পথশিশু থাকবে না। তারা পড়াশোনা করবে, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিবে। মন ও শরীর ভাল থাকবে। মানুষের মতো মানুষ হবে।

অভিভাবক, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা শিশুদের খবর রাখবেন। তারা কোথায় যায় কী করে এসব বিষয়ে খবর রাখতে হবে। যাতে শিশুরা কোনো খারাপ কাজে জড়িয়ে বিপথগামী না হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিশুদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। আমরা শিশুদের বিনামূল্যে বই ও বৃত্তি দিচ্ছি। শিশুদের মায়েদের ভাতা দিচ্ছি। ৮০ হাজার প্রতিবন্ধীকে বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। যাতে তারাও মূলধারা থেকে পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশকে ভিক্ষকমুক্ত করার জন্য কাজ করছি। তাদের পুনর্বাসন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গৃহহীনদের বাড়ি-ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় এসে দেশ গড়ার কাজ শুরু করি। কিন্তু ২০০১ সালে আমরা নির্বাচনে জয়ী হতে না পারায় দেশ আবার পিছিয়ে যায়। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকায় বিশ্বের সাথে তাল-মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। -ডেস্ক