(দিনাজপুর২৪.কম) ক্যাসিনো কাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গন। যার ধাক্কায় টলে উঠেছিল বিসিবিও। বেশ কিছুদিন নিস্তব্ধ থাকার পর গতকাল বেশ সরগরম হয়েছে মিরপুর স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়। কয়েকজন পরিচালকের পা পড়েছে বিসিবিতে।

বিপিএলের টিম স্পন্সর হতে আবেদন করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। বিপিএল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, পিছিয়ে যাচ্ছে বিপিএলের সপ্তম আসর। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৬ ডিসেম্বর মাঠে গড়াচ্ছে না বিপিএল। প্রাথমিকভাবে ৭-১০ দিন পেছানোর আভাস মিলেছে। তবে বিপিএলের সদস্য সচিবের কথায় স্পষ্ট, আগামী জানুয়ারিতে বিপিএল শুরু করতে চায় বিসিবি। বিপিএল পেছানোর বিষয়ে গতকাল ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘এখানে অনেক বিষয় আছে। ব্রডকাস্টের বিষয়ও আছে। তারা চায় বছরের শুরুতে বেশি বেশি খেলা। তাছাড়া ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সিরিজ আছে জাতীয় দলের। আমরা আগের সময়েই করতে পারি। কিন্তু ভালো একটা সময় নিয়ে করার চিন্তা করছি।’

তাই প্লেয়ার্স ড্রাফট পিছিয়ে যাচ্ছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে ড্রাফট। বিসিবির এই পরিচালক জানিয়েছেন, প্রায় ৩৯০ জন বিদেশি ক্রিকেটার বিপিএল খেলতে আগ্রহ দেখিয়ে ড্রাফটে নাম দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিপিএল নিয়ে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, প্রতিটি দলের জন্য বিদেশি হেড কোচ, ফিজিও, ট্রেনার নিয়োগ দিবে বিসিবি। দেশীয় কোচরা সহকারী হিসেবে থাকতে পারেন। প্রতি দলে একজন করে টিম ডিরেক্টর থাকবেন। বিসিবির পরিচালকরাই হবেন টিম ডিরেক্টর। বিপিএল এবার হতে পারে দুটি ভেন্যুতে।

দেশীয় ক্রিকেটারদের গুরুত্ব দেওয়া হবে এবারের আসরে। মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘টুর্নামেন্টটা করার প্রধান কারণ- বাংলাদেশের খেলোয়াড় বের করে আনা। তবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা যদি পজিশন মতো ব্যাটিং করতে না পারে, বোলিং করতে না পারে, তবে এই টুর্নামেন্টের স্বার্থকতা কমে যাবে।’

প্রতিটি দলে লেগ স্পিনার থাকা বাধ্যতামূলক করে দিচ্ছে বিসিবি। মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘প্রতিটি দলে একজন লেগস্পিনার খেলাতেই হবে, এবং তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ৪ ওভার বোলিং করাতেই হবে।’

এছাড়া বিদেশি কোটায় আসা পেস বোলাররা হতে হবে একেকজন গতিদানব। অন্তত ১৪০ কিমি. গতিতে বোলিং করেন এমন পেসারই বিপিএলে রাখতে চায় বিসিবি। গতকাল বিসিবি কার্যালয়ে এসে দলের স্পন্সরশিপের জন্য কথা বলে গেছে ছয়টি প্রতিষ্ঠান। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, ডেল্টা স্পোর্টস লিমিটেড (আখতার গ্রুপ), লেভেল থ্রি ক্যারিয়ার লিমিটেড, টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিমিটেড, সাগর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মাইন্ড ট্রি ও জিনস ম্যানুফেকচারিং কোং লিমিটেড। তবে দলের স্পন্সর হতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান নাকি ৮-৯টি। আগামী সপ্তাহে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত হবে কোন কোন প্রতিষ্ঠান স্পন্সর হতে পারছে। আগের মতোই সাতটি দল থাকবে এবারের আসরে। তবে কয়েকটি দল বিসিবির অর্থায়নেও পরিচালিত হতে পারে। কারণ আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের ওপর সন্তুষ্ট হওয়া, ভরসা করার মতো অবস্থা না পেলে স্পন্সর করবে না বিসিবি। জানা গেছে, গতকালই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে স্পন্সর হওয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছে বিসিবি।-ডেস্ক