1. dinajpur24@gmail.com : admin :
  2. dinajpur24@gmail.com : akashpcs :
  3. self@unliwalk.biz : brandymcguinness :
  4. ChristineTrent91@basic.intained.com : christinetrent4 :
  5. cruz.sill.u.s.t.ra.t.eo91.811.4@gmail.com : howardb00686322 :
  6. azegovvasudev@mail.ru : latricebohr8 :
  7. kenmacdonald@hidebox.org : moset2566069 :
  8. news@dinajpur24.com : nalam :
  9. vaughnfrodsham2412@456.dns-cloud.net : reneseward95 :
  10. Sonya.Hite@g.dietingadvise.club : sonya48q5311114 :
  11. jcsuave@yahoo.com : vaniabarkley :
সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
নতুন রুপে আসছে দিনাজপুর২৪.কম! ২০১০ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের পুরনো নিউজ পোর্টালটির জন্য দেশব্যাপী সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা প্রয়োজন। সারাদেশে সংবাদকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা এখনই প্রয়োজনীয় জীবন বৃত্তান্ত সহ সিভি dinajpur24@gmail.com এ ইমেইলে পাঠান।

পাহাড়ে বেঁচে থাকার লড়াই, আরও লাশ

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৭ জুন, ২০১৭
  • ১ বার পঠিত

(দিনাজপুর২৪.কম) টানা বর্ষণে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত রাঙামাটিতে আরও দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ১১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। আর পাঁচ জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫৭ জনে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শুক্রবার সকালে ওই দুইজনের লাশ উদ্ধার করেন।
ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট গতকাল উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এ সময় রাঙামাটি সদর উপজেলার পশ্চিম মুসলিম পাড়া থেকে মজিবুর রহমান (১২) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরদিকে সকাল সাড়ে দশটায় কাপ্তাই লেক এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের ঘটনায় নিখোঁজ সেনাসদস্যসহ ১০৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনো বিভিন্ন স্থানে অনেকে মাটিচাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে পাহাড় ধসের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি জেলা। পাহাড় ধসের কারণে রাঙামাটির সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। যাত্রী ও পণ্যবাহী কোনো যানই সেখানে যেতে পারছে না। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ প্রায় শেষের দিকে। যা-ও পাওয়া যাচ্ছে তার দামও আকাশছোঁয়া। একদিকে স্বজনহারাদের আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে চলছে জীবিতদের বেঁচে থাকার লড়াই।
রাঙামাটির বাজারে সব ধরনের মাছ-মাংস, শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মজুদ শেষের দিকে। কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় এতদিন এ জেলার মানুষ অন্য জেলা থেকে আসা মাছের ওপর নির্ভরশীল ছিল। দুর্যোগের কারণে গরু-মহিষ জবাইও বন্ধ রয়েছে। ফলে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।
সরবরাহ না থাকায় শহরের বাজারগুলোয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। শুক্রবার দুপুরে শহরের প্রধান তিনটি বাজার বনরূপা, তবলছড়ি, রিজার্ভ বাজার ঘুরে এ অবস্থা দেখা গেছে।
বনরূপা বাজারে বাজার করতে আসা রুহুল আমিন বলেন, ‘৬০-৭০ টাকায় প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ১৫-২০ টাকায় বিক্রি করা হতো। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আলাদত পরিচালনা করায় দাম কিছুটা কমেছে। গাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে সব জিনিসের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি।’
বাজার করতে আসা সাইদুল বলেন, ‘আগে মরিচ ছিল ৬০ টাকা, আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ২০-২৫ টাকা তা এখন দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। কিছুই করার নাই খেতে তো হবে।’
বনরূপা বাজারে তরকারি বিক্রি করতে আসা কমনি চাকমা বলেন, ‘বৃষ্টিতে সব ডুবে যাচ্ছে। আর আমরা তো অনেক সময় তরকারি কিনে বিক্রি করি। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় রানীহাটের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সবজি আনতে পারছি না। এখন যা আসছে তাও আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কেনার দাম বেশি থাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।’
মুদি দোকানি মো. সোলাইমান বলেন, ‘আমাদের আগের যা মজুদ আছে সেগুলো বিক্রি করছি। যা আরও দু-একদিন চলবে। এরপর কী হবে জানি না। আমরা আগের দামে পণ্য বিক্রি করছি। কোনো পণ্যের দাম বাড়াইনি।’
যোগাযোগ বন্ধ থাকায় রাঙামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ যান চলাচলও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। শুক্রবার বিকালে তেলের দোকান ও পাম্পগুলো খোলা থাকলেও তাদের কাছে কোনো জ্বালানি তেল নেই বলে জানিয়েছে।
শহরের সিএনজি চালক বিজয় ধর বলেন, ‘তেল তো কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। যেকোনো সময় গাড়ি বন্ধ করে দিতে হবে। তেল আসতে পারে নাই, তাই জ্বালানির খুব সংকট। সরকার যদি জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা করে না দেয় তাহলে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।’
জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী মেসার্স মিন্টু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মালিক আব্দুল সাত্তার মিন্টু বলেন, ‘আমার স্টকে আর কোনো তেল নাই। আমরা ছোট ব্যবসায়ী এক সপ্তাহের মজুদ রাখতে পারি। চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তেল আনা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ ব্যবস্থায় কাপ্তাই হয়ে নৌপথে তেল আনতে যে খরচ পড়বে তা বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। যদি জেলা প্রশাসন আমাদের এই ব্যাপারে সহযোগিতা করেন তাহলে আমরা চেষ্টা করব।’
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাত হোসেন বলেন, ‘যেভাবে রাস্তা ভেঙে গেছে তা ঠিক করতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা ও যৌথবাহিনী একসঙ্গে কাজ করছি। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি-কাপ্তাই, রাঙামাটি-বান্দরবান সব রাস্তার একই অবস্থা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম রাস্তা চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হবে।’
রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন থাকায় ৫৭ বছর পর কর্ণফুলী নদী দিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে দুটি লঞ্চ কাপ্তাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। একইভাবে দুটি লঞ্চ কাপ্তাই থেকে রাঙামাটির উদ্দেশে ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, ‘যদি কোনো ব্যবসায়ী পণ্য আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো সহযোগিতা চায় আমরা অবশ্যই দেব। বৃহস্পতিবার রাতে তেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের যে বাড়তি খরচ হবে তা আমরা যাচাই-বাছাই করে বিক্রির অনুমোদন দেব।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে রাস্তাটি ভেঙে গেছে তা মেরামত করতে সময় লাগবে কিন্তু মানুষের যাতায়াতের জন্য যত দ্রুত সম্ভব পাশে বিকল্প রাস্তা তৈরিতে কাজ চলছে। বাজার মনিটরিংয়ে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
টানা চারদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার পর রাঙামাটি শহরে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে আবারও বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আশ্রয় শ্রন্দ্রগুলোয় লোকজনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার লোক অবস্থান নিয়েছে। -ডেস্ক

নিউজট শেয়ার করুন..

এই ক্যাটাগরির আরো খবর