(দিনাজপুর২৪.কম) আসন্ন ঈদে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে ৮৬টি বাড়তি কোচ সংযোজনের ঘোষণা দেয় পূর্বাঞ্চল রেল। পুরনো ও জরাজীর্ণ কোচ সংস্কার এবং মেরামত করেই সেগুলো সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ জন্য চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেল ওয়ার্কশপে চলছে কোচ মেরামতের কাজ। কিন্তু ১৫ মে থেকে ১২ জুলাই মোট ৫৯ দিনের মধ্যে কোচগুলো মেরামত করে লাইনে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২৩ জুন পর্যন্ত (৩৯ দিন) ওয়ার্কশপে কোচ মেরামত করা হয়েছে মাত্র ৩৭টি! অথচ পরিকল্পনা অনুযায়ী হাতে সময় রয়েছে মাত্র ২১ দিন। তাই অল্প সময়ের মধে অবশিষ্ট ৪৯টি কোচ মেরামত করে লাইনে দেওয়া সম্ভব কি-না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়তলী রেল ওয়ার্কশপে লোকবল সংকট রয়েছে। আবার যেসব কর্মী রয়েছেন তাদের বড় একটি অংশ দক্ষ নয়। এ অবস্থায় দিনে একটির বেশি কোচ মেরামত শেষ করা যাচ্ছে না। সে হিসেবে ২১ দিনে ৪৯টি কোচ মেরামত করা প্রায় অসম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, হাতে যে সময় রয়েছে তাতে বড়জোর ২১ থেকে ২২টি কোচ মেরামত করা যাবে। সে হিসেবে সব মিলিয়ে ৫৮ থেকে ৫৯টির বেশি কোচ পাওয়া যাবে না ওয়ার্কশপ থেকে।

ওয়ার্কশপে মোট ৮৬টি কোচ মেরামতের জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ডিভিশনে চলাচলকারী আন্তঃনগর কোচে ১৮টি, মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনে ২৮টি এবং ঢাকা ডিভিশনে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনে ১৭টি ও মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনে ২৩টি কোচ সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঈদে চারটি স্পেশাল ট্রেন চালানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তাতেও পর্যাপ্ত কোচ সংযোজনের বিষয়টি নির্ভর করছে ওয়ার্কশপ থেকে চাহিদা অনুযায়ী কোচ পাওয়া নিয়ে।
পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মো. মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘৮৬টি কোচ মেরামত করতে টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে আমরা প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে ৩৮ দিনে মাত্র ৩৭টি কোচ মেরামত করা সম্ভব হয়েছে বলে স্বীকার করেন ওয়ার্কশপের প্রধান এ কর্মকর্তা।
ইতিমধ্যেই ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির তারিখ ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই থেকে অগ্রিম টিকিট দেওয়া হবে। প্রথমদিন দেওয়া হবে ১৩ জুলাইয়ের টিকিট। এদিন থেকে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে বাড়তি কোচ নিয়ে চলাচল করবে বিভিন্ন আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন।

রেলের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা গেছে, ওয়ার্কশপের বিভিন্ন শপে পুরোদমে চলছে কোচ মেরামতের কাজ। কোনো শপে চলছে ডেন্টিংয়ের কাজ, আবার কোনোটিতে চলছে পেইন্টিংয়ের কাজ। কারিগররা ব্যস্ত নিজ নিজ কাজ নিয়ে।
ওয়ার্কশপের এক প্রকৌশলী জানান, প্রশাসনিক হিসাব অনুযায়ী ওয়ার্কশপে জনবলের সংখ্যা এক হাজার ৭৮০ জন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাজ করেছেন এক হাজার ১৬৮ জন। যা মঞ্জুরিকৃত জনবলের চেয়ে ৬১২ জন কম। আবার বর্তমানে যে লোকবল রয়েছে তার বড় একটি অংশ সংশ্লিষ্ট কাজে দক্ষ নয়। ফলে কাজে তার প্রভাব পড়ছে। তারপরও মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া টার্গেট অনুযায়ী পুরনো কোচ চলাচলের উপযোগী করতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়ার্কশপের কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীরা।
ঈদে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে রেলের দুই অঞ্চলে মোট ১৬৯টি অতিরিক্ত যাত্রীবাহী কোচ সংযোজনের উদ্যোগ নেয় রেল মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ৮৬টি কোচ রেলের পূর্বাঞ্চলে ও অবশিষ্ট ৮৩টি কোচ সংযোজন করা হবে পশ্চিমাঞ্চলে। এ জন্য পশ্চিমাঞ্চলের সৈয়দপুর ওয়ার্কশপেও মেরামত করা হচ্ছে ট্রেনের পুরনো কোচগুলো। (ডেস্ক)