-ছবি সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবনে (ইউএস ক্যাপিটল) বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা ভবনের জানালা ভাঙচুর করে। সেইসঙ্গে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ উগ্র জনতাকে হটাতে পুরো ভবন অবরুদ্ধ করে ফেলে। এ সময় ক্যাপিটলের অভ্যন্তরে গুলিতে আহত এক মহিলা মারা গেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের নামে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের আগ্রাসী তাণ্ডবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয় অনুমোদন হয়নি। তাণ্ডবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন (ইউএস ক্যাপিটল) পুলিশ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। অবরুদ্ধ পার্লামেন্ট ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনপ্রণেতাদের সরিয়ে নিচ্ছেন। সংঘর্ষের কারণে ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা বুধবার কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে বসেন। অধিবেশনে ট্রাম্প সমর্থক কয়েকজন আইনপ্রণেতা নির্বাচনের ফল বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ঠিক এমন সময়ে ট্রাম্প সমর্থকেরা ক্যাপিটল ভবনে নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।

-ছবি সংগ্রহীত

একপর্যায়ে ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়েন ট্রাম্প সমর্থকরা। তারা ক্যাপিটালের ভেতরে ভাঙচুর শুরু করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ। ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখানে গোলাগুলিও হয়েছে। ক্যাপিটলের অভ্যন্তরে একজন মহিলা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একটি সূত্র অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছে যে পরে তিনি মারা গেছেন। এ ছাড়া বেশ কজন ক্যাপিটল পুলিশ অফিসার সামান্য আহত হয়েছেন।

কংগ্রেসের অধিবেশন চলাকালে হোয়াইট হাউজের সামনে র্যালিতে জড়ো হন হাজার হাজার ট্রাম্প সমর্থক। সেই সমাবেশের বক্তব্যে নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই হাল ছাড়ব না, আমরা কখনোই পরাজয় স্বীকার করব না। আমরা জালিয়াতি রুখে দেব।’ এরপই ট্রাম্প সমর্থকরা পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে ঢুকে সন্ত্রাসীরা কর্মকাণ্ড শুরু করে।

বক্তব্যে বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সমর্থকদের বলেছেন, নির্বাচন চুরি নিয়ে তাদের বেদনা প্রেসিডেন্ট অনুধাবন করতে পারছেন। তবে শান্তির স্বার্থে তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত।

-ছবি সংগ্রহীত

এদিকে, আইনপ্রণেতারা বাইডেনের জয় অনুমোদনের আগেই তাণ্ডবের কারণে অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়। এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

পার্লামেন্ট ভবনের তাণ্ডবকে গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত হিসেবে দেখছেন বাইডেন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রকে এক ‘অভূতপূর্ব লাঞ্ছনা’র মধ্যে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনাকে বিক্ষোভ নয়, সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। -ডেস্ক রিপোর্ট