মো. আফজাল হোসেন (দিনাজপুর২৪.কম) ট্রেনের টিকেট না পাওয়ায় পার্বতীপুর স্টেশনের টিকেট কাউন্টারে হামলা চালিয়ে বুকিং সহকারীদের মারধর ও কম্পিউটার ভাংচুর করেছে জুয়েল ইসলাম (৪৫)। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী বুধবার গভীর রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে পার্বতীপুর রেল স্টেশনে। পুলিশ জুয়েলকে টিকেট কাউন্টার থেকে আটক করে। এ ঘটনায় বুকিং সহকারী মাহবুবুর রহমান গতকাল ১ লা মার্চ বৃহস্পতিবার রেলওয়ে থানায় মামলা করেছেন। জুয়েলের বাড়ী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বড় চন্ডিপুর গ্রামে। তার পিতার নাম নুরুল ইসলাম। সে ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ভাতিজা ও বিএনপি দলীয় কর্মী বলে জানা গেছে।
হামলার স্বীকার বুকিং সহকারী মাহবুবুর রহমান জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে জুয়েল ইসলাম টিকেট কাউন্টারে এসে ঢাকা যাওয়ার জন্য আন্তঃনগর একতা ট্রেনের টিকেট চান। কাউন্টারে থাকা অপর বুকিং সহকারী সাইফুল বিশ্বাস আসন নাথাকায় আসন বিহীন টিকেট নিতে বলেন ওই যাত্রীকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুয়েল পিছনের দরজা দিয়ে বিনা অনুমতিতে কাউন্টারে প্রবেশ করে তাদের দু’জনকে কিল ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে টিকেট বিক্রিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও প্রিন্টার ভাংচুর করে টিকেট বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিতে এগিয়ে আসেন। স্টেশনে টহলরত পুলিশ এগিয়ে এসে জুয়েলকে কাউন্টার থেকে আটক করে। কম্পিউটার ও প্রিন্টার ভাংচুরের কারনে ১ ঘন্টা টিকেট বিক্রি বন্ধ থাকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ বিএনপি কর্মী জুয়েল ইসলাম বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত। নিয়মিত মাদক সেবন করে সে তার ইউনিয়নে দাপটের সহিত চলাফেরা করে। চেয়ারম্যানের ভাতিজার হওয়ার সুবাদে ইউনিয়নের গরীব দুঃখী মানুষকে বিভিন্ন ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। কয়েক মাস আগেও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে পার্বতীপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। সেই সময় পুলিশ স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষায় মাদক সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও অদৃশ্য কারনে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে প্রতিদিন মাদক সেবন করে রেলওয়ে এলাকায় বিচরণ করে থাকে।
পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ওসি মীর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকারী কাজে বাধা ও কম্পিউটার ভাংচুর করে বুকিং সহকারীদের মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামীকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।