মো. নুরুন্নবী বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) হিলি স্থলবন্দরের পানি নিস্কাশনের সুষ্ঠ ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পণ্যবাহী ট্রাক। ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। ৫ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়েছেন।  দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম স্থলবন্দর হিলি। ব্যস্ততম বন্দর এলাকায় পানি নিস্কাশনের সুষ্ঠ ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন অসংখ্য মানুষ। অবিরাম বৃষ্টির ফলে বন্দরের চারমাথা, সিপি রোড, হাসপাতাল, সোনারপট্টি, চুড়িপট্টি, বাসষ্ট্যান্ড ও উপজেলা পরিষদ রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব রাস্তার কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্ঠি হয়েছে। এছাড়া হাকিমপুর ডিগ্রী কলেজ, বাংলাহিলি পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ, বাংলাহিলি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাংলাহিলি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, অগ্রণী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ধরন্দা ও সিপি রোডের বেশ কয়েকটি গুদাম এবং শতাধিক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত পণ্যবাহী ট্রাকসহ সকল যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
হাকিমপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান জানান, একমাত্র ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর বৃষ্টির পানিতে কলেজটি ডুবে থাকে। এর ফলে লেখা-পড়া মারাত্মক ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় বিল্ডিংও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কয়েকজন ব্যবসায়ি জানান, বন্দরে প্রতি বছরই এই সমস্যা হচ্ছে। সরকার রাজস্ব পেলেও বন্দরের রাস্তাঘাট উন্নয়নে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।
বন্দরের কাষ্টমস সহকারি কমিশনার (এসি) মো. সাইফুর রহমান জানান, বৃষ্টিতে বন্দরের রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আবার ব্যবসায়িরাও একারণে পণ্য কম আমদানি-রপ্তানি করছেন। হিলি বন্দর দিয়ে গম, ভুট্টা, ভুসি, খৈল আসে। বেহাল রাস্তা-ঘাটের কারণে পণ্যবাহী ট্রাক ফেসে যাওয়ায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, অল্প বৃষ্টিতেই প্রতি বছর স্থলবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি ডুবে যাচ্ছে এবং এসব রাস্তায় পানি জমে থাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায়ও ব্যাহত হয়। স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নাগরিকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। সোমবার দিনাজপুর জেলা সমন্বয় কমিটির সভা আছে। সেখানে হিলি স্থলবন্দরের রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা উপস্থাপন করা হবে।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, হিলি স্থলবন্দর এলাকায় গড়ে উঠেনি ড্রেনেজ ব্যবস্থা। আর একারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। রাস্তাগুলো ভাঙ্গাচোরা হলেও সংস্কারও করা হয়নি দীর্ঘদিন ধরে। ফলে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পথচারীসহ যানবাহনগুলো চলাচল করছে। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত সহ যেকানো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।