(দিনাজপুর২৪.কম) নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গাড়ি ছেড়ে হেঁটে অন্য এক গাড়ি করে যেতে বাধ্য হলেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। কারণ, গাড়িচালকের লাইসেন্স না পেয়ে সেটিতে আটকে দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। ঢাকা ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে মন্ত্রীর গাড়ি আটকায় ছাত্ররা। এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ‘আমরা এখন ধানমন্ডি ১৫-তে ইবনে সিনার সামনে, আমরা একটা গাড়ি ধরেছি, সেটা হচ্ছে মন্ত্রীর। গাড়িরচালকের কোনো লাইসেন্স নেই। আমরা মন্ত্রী স্যারের সঙ্গে কথা বলছি।

এসময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা মন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, স্যার অ্যালাউ করল ক্যান? যে চালকের লাইসেন্স নেই, তাকে কেন গাড়ি চালাতে অনুমতি দিয়েছেন তিনি? আমরা স্যারের কাছে তা জানতে চাই। এরপর মন্ত্রী সাদা রঙের গাড়িটি থেকে নেমে যান। এসময়ে উল্লাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘এই তালি হবে, তালি হবে। শিক্ষার্থীরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, শাবাশ… শাবাশ…’

মন্ত্রী গাড়ি থেকে বের হয়ে হাঁটা শুরু করলে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে স্লোগান দিয়ে ওঠে, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’

ভিডিওতে দেখা যায়, এরপর মন্ত্রী কালো রঙের আরেকটি গাড়িতে উঠে নিজের গাড়িটি সেখানে ফেলে রেখে যান। ছাত্ররা বিভিন্ন রাস্তায় সকল বাস, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না তা পরীক্ষা করছে। যাদের লাইসেন্স আছে তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর যাদের লাইসেন্স বা গাড়ির কাগজপত্র নেই সেগুলোকে পুলিশ দিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রীর গাড়ি কেউ বাদ যাচ্ছে না। সবাইকে গাড়ি থামিয়ে তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষা চলছে। মিন্টো রোডের সামনে আন্দোলনকারী ছাত্ররা একজন মন্ত্রীর গাড়ি থামিয়ে তার গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না পরীক্ষা করে ঠিক থাকায় সেটি ছেড়ে দয়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার বিকালে পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আমার গাড়িতে সমস্যা হয় নাই। আমার গাড়িটি ছিলো ব্যক্তিগত। কিন্তু চালক ছিলো সরকারি। গাড়িতে ওঠার আগে স্টাফরা তাকে চার-পাঁচবার জিজ্ঞেস করেছে, কাগজপত্র সব ঠিক আছে কি-না, চালক জানায়, ‘যে সব ঠিক আছে।’

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, ‘আমার গাড়ি ছাত্ররা আটকায়। চালকের কাগজপত্র দেখতে চায়। কিন্তু দেখাতে পারেনি। চালক বলল যে, লাইসেন্সের কাগজপত্র রিনিউ করতে জমা দিয়েছে। এরপর ছাত্ররা তার কাছে স্লিপ চাইলেও সে দেখাতে পারেনি। এরপর আমি আমার গাড়ি চেঞ্জ করে ফেলি। অন্য গাড়িতে করে অফিসের দিকে চলে আসি।’ আমাকে সাহায্য করেছে শিক্ষার্থীরা। -ডেস্ক