(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) স্বাভাবিক পাঠদানের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবে খোলা হবে এখনো দিন-তারিখ চূড়ান্ত করেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। তবে পাঠদানের প্রস্তুতির জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করাই হবে শিক্ষা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষাবিদরাও করোনাপরবর্তী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নের সক্ষমতা যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এলাকা চিহ্নিত করে ‘রেড’, ‘গ্রিন’ জোনে ভাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সে অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে গ্রিন জোনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগে চালু করার পক্ষে তিনি।

দেশে করোনা সংক্রমণের ১০ মাস পার হলেও এখনো পরিস্থিতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুকূলে নয়। চলতি জানুয়ারি মাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরই সিদ্ধান্ত আসবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে। সংক্রমণ রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাস্থ্যবিধি প্রণয়ন করেছে শিক্ষা প্রশাসন।

ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা যায় কিনা এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথসভা করেছে সম্প্রতি। ভার্চুয়াল এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দিন-তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে পাঠদানের প্রস্তুতির জন্য একটি পরিকল্পনা নিয়েছে উভয় মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতিসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পুনরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে হলে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন এসব বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

কবে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির পরামর্শমতে খোলার তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে পাঠদানের প্রস্তুতি আগেই নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কক্ষগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে সেগুলোর ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব জানতে চাইলে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য প্রণয়নকৃত গাইডলাইন অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোয় স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন ও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষতা আগে যাচাই করা দরকার। সরকারের পরিকল্পনাগুলো যথাযথ বাস্তবায়নে যথাযথ মনিটরিং থাকতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন করাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক সঙ্গে খোলা যাবে না। আগে বড়দের (বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তা পর্যবেক্ষণ করে পর্যায়ক্রমে কলেজ, মাধ্যমিক স্কুল সবশেষে শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এখনো প্রতিদিনের সংক্রমণের হার অনেক বেশি। আবার এটিও ভাবতে হবে আর কতদিন বন্ধ থাকবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তের আগে সরকারকে মহামারী সংক্রমণ রেড, গ্রিন জোন ম্যাপিং করতে হবে। সারাদেশের গ্রিন জোনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগে খোলা যেতে পারে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাস্থ্যবিধি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আগে মহামারী প্রতিরোধক মাস্ক, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্ট্যাক্ট থার্মোমিটার সংগ্রহ করে জরুরি কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। শিক্ষক, শিক্ষাদান কর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে। সকাল ও দুপুরে পরীক্ষার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং ‘প্রতিদিনের প্রতিবেদন’ ও ‘শূন্য প্রতিবেদন’ পদ্ধতি চালু করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বহিরাগত শিক্ষাদান কর্মীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। যাদের শরীরের তাপমাত্রা বেশি পাওয়া যাবে, তাদের প্রবেশ নিষেধ। শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ এবং পাঠাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় বায়ু চলাচল ব্যবস্থা থাকতে হবে।

শ্রেণিকক্ষ, সর্বসাধারণ কর্তৃক ব্যবহৃত হয় এমন জায়গাসহ অন্যান্য জায়গার মেঝে ও ঘরের দরজার হাতল, সিঁড়ির হাতল এবং যেসব বস্তু বারবার ব্যবহৃত হয়, সেসব বস্তুর তলপৃষ্ঠ ঘন ঘন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। খাবার থালাবাসন (পানির পাত্র) পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা এবং প্রতিবার পরিবেশনের পরে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য খাবার থালাবাসন (পানির পাত্র) জীবাণুমুক্ত করতে হবে। দূরে দূরে বসে খাবার গ্রহণ এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব থালাবাসন বা ওয়ানটাইম থালাবাসন ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বরের আবর্জনা পরিষ্কার এবং আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র জীবাণুমুক্ত করতে হবে। শিক্ষাদান কর্মীদের পারস্পরিক শারীরিক যোগাযোগ কম এবং অনলাইন শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্বাভাবিক অবস্থা না আসা পর্যন্ত কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ জমায়েত বা ক্রিয়াকলাপের আয়োজন করা যাবে না। শিক্ষাদান কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা মাস্ক ব্যবহার করা। হাত ধোয়াসহ অন্যসব স্বাস্থ্যবিধি শক্তিশালী করা। শিক্ষক, শিক্ষাদানকর্মী বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোভিড ১৯-এর সন্দেহভাজন কোনো কেস থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং যারা এ কেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের দ্রুত শনাক্ত ও কোয়ারেন্টিন করতে হবে। -ডেস্ক রিপোর্ট