(দিনাজপুর২৪.কম) নিউইয়র্কে পাকিস্তানের বৃহত্তম ব্যাংকিং সেবা প্রতিষ্ঠান হাবিব ব্যাংকের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, ঋণ খেলাপসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ব্যাংকটিকে ২২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানাও করেছে দেশটি। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে জরিমানার এই অর্থ দিতে হবে।

হাবিব ব্যাংকের কার্যক্রম স্থগিতের মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান সেনাদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল পাকিস্তান। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মিত্র’ হিসেবে পকিস্তানের যে পরিচিতি আছে এবং দেশটিকে যে সামরিক সাহায়তা দেওয়া হয়, তা স্থগিত করে দেওয়া হবে। তবে সৃষ্ট জটিলতা খুব দ্রুতই সমাধান হবে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাবিব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, সম্মতি আদেশে সব অভিযোগই বাতিল হয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ প্রমাণিত নয় এবং তাদের আনা সব অভিযোগই খারিজ হয়ে যাবে, বলেন ওই কর্মকর্তা।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের খবরে বলা হয়, হাবিব ব্যাংক ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক শাখার লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। ব্যাংকটি আশা করছে সৃষ্ট জটিলতা কেটে গেলেই নতুন করে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। ২০০৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী হাবিব ব্যাংক তাদের ‘ঘাটতি পূরণে’ ব্যর্থ হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (ডিএফএস)।

সংস্থাটির মতে, ২০১৬ সালে হাবিব ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ব্যাংকের সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি মোকাবিলায় ঘাটতি ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি সম্মতি রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ২০১৫ সালের নির্দেশনা মানতে ব্যাংকটি ব্যর্থ হয়েছে। ডিএফএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০৬ সালের চুক্তি ভঙ্গ করেছে হাবিব ব্যাংক। এই ব্যাংকের কার্যক্রম স্থগিতের মধ্য দিয়ে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে যে, এই ধরনের আচরণ কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না।

ডিএফএসের তত্ত্বাবধায়ক মারিয়া টি ভুলো বলেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সহযোগিতা করে এমন কোনো ঝুঁকি ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড ডিএফএস মানবে না। আর এ ধরনের সুযোগ খোলা রাখা মার্কিন নাগরিক ও গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। হাবিব ব্যাংককে তার দুর্বলতাগুলো সংশোধনের জন্য বারবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকটি তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

করাচিভিত্তিক হাবিব ব্যাংকের ২০১৬ সালের আয় ছিল ১০০ কোটি ডলার। এর মোট সম্পদ দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ডিএফএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৭৮ সালে নিউইয়র্কে হাবিব ব্যাংককে লাইসেন্স দেওয়া হয়। -ডেস্ক