(দিনাজপুর২৪.কম) মুক্তিযুদ্ধকে সরকার পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে মন্তব্য করে বিএনপি নেতারা বলছেন, পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দেয়া তথ্যে রাজাকারের তালিকা জনগণ মেনে নেবে না।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত র‌্যালির উদ্বোধনের আগে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন দলের নেতারা। এসময় বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিজয় র‌্যালি বের করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

র‌্যালির শুরুতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির নেতারা দাবি করেন, বেগম জিয়াকে কারাবন্দি রেখে বিজয় আনন্দ বেমানান। বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে সবাইকে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান দলটির শীর্ষ নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় যদি আমরা ব্যর্থ হয়ে থাকি। ইনশাআল্লাহ, আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করবো।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই যে স্বৈরাচার বসে আছে, এই স্বৈরাচারে পতন ও বিএনপি নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হবেন, এটাই হোক আমাদের বিজয় দিনের শপথ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সম্প্রতি প্রকাশ করা রাজাকারের তালিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই রাজাকারের তালিকা করেছে সরকার।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এতো দিন ধরে বলে আসছেন, যে রাজাকারদের তালিকায় ভুল আছে। কারণ এটা পাকিস্তানিদের তৈরি করা। আর এখন আপনারা পাকিস্তানিদের তৈরি এই তালিকা দিয়ে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করছেন, এটা তো হতে পারে না। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধকে একটা প্রডাক্ট হিসেবে ব্যবহার করছে। এছাড়া রাজাকারদের তালিকা বাদ দিয়ে, তারা এখন মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকারের তালিকায় নিয়ে আসছে। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

পরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিলটি নাইট এঙ্গেল ও কাকরাইল মোড় হয়ে শান্তিনগর দিয়ে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। -ডেস্ক