(দিনাজপুর২৪.কম) সাবেক সুন্দরী মিস বাংলাদেশ পরিচয়দানকারী সেলিব্রেটি মডেল জাকিয়া মুনের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা দামের একটি অবৈধ গাড়ি আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। গত সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে টার্কিশ হোপ স্কুলসংলগ্ন মুনের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া পোরশা মডেলের গাড়িটির মালিক প্যাসিফিক গ্রুপের কর্ণধার ব্যবসায়ী শফিউল আজম মহসিন। গাড়িটি উদ্ধারের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন মুন। মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসা উদ্ধার হওয়া এ গাড়ি প্রসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান গত রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ব্রিটিশ রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে বাংলাদেশে আনা এ গাড়িটি দীর্ঘদিন নজরদারিতে রেখেছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সন্ধ্যায় আমরা সূত্র মারফত নিশ্চিত হয়ে গাড়িটি উদ্ধার করেছি। এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ সূত্রমতে, পোরশা মডেলের আটক এ গাড়িটিতে হলুদ নম্বর প্লেট ছিল। যেখানে নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে— এসএফ ০৫ এইউএম। গাড়িটি উদ্ধারের সময় মুন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বাধা দেন। মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা গাড়িটি আটকের পর কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গত রাতে মডেল জাকিয়া মুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওটা আমার গাড়ি নয়। আমার গাড়ি আমার কাছেই আছে।’ জানা গেছে, বিদেশি পর্যটকদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিদেশ থেকে গাড়ি আনার যে সুযোগ রয়েছে, তারই অপব্যবহার করে এসব দামি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু নিয়ম অনুসারে এসব গাড়ি পর্যটকদের জন্য ‘কার্নেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধায় বাংলাদেশে এনে আবার বাইরে ফেরত নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা না করে দেশের ভিতরে এসব গাড়ি ব্যবহার করে আসছেন অনেক ধনকুবের। এ ধরনের দেড় শতাধিক গাড়ি বাংলাদেশে এখনো আছে বলে জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের গাড়ি ব্যবহার করে ধরা পড়লে পণ্যটি বাজেয়াপ্ত করা হবে। সেই সঙ্গে পণ্যমূল্যের ১০ গুণ পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। এ ছাড়া অপরাধীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে এবং ফৌজদারি আইনেও বিচার করা হবে। এর শাস্তি ১২ বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা দুটিই হতে পারে। এর আগে সোমবার মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আমদানি করা ৩ কোটি টাকা দামের বিএমডব্লিউ এক্স—ফাইভ মডেলের একটি গাড়ি রাজধানীর গুলশান থেকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এমন তিন শতাধিক বিলাসবহুল গাড়ি ২০১০ থেকে ২০১৩ সালে ‘কার্নেট ডি প্যাসেঞ্জার’ সুবিধায় দেশে প্রবেশ করে। এর মধ্যে দেড় শতাধিক গাড়ি জাল দলিল ও ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ব্যবহার হচ্ছে। এসব গাড়ি ও মালিকদের খুঁজছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।-ডেস্ক