(দিনাজপুর ২৪.কম) সহিংসতা ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে কংগ্রেসের ডাকে আজ মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে আধাবেলা (সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) হরতালে এখনও পর্যন্ত তেমন সাড়া মেলেনি। কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সরকারি বাস রাস্তায় নেমেছে, যদিও বেসরকারি যানবাহন কিছুটা কম। ট্যাক্সির সংখ্যাও স্বাভাবিক।

 শহরতলির দমদম ক্যান্টমেন্ট, কাঁচড়াপাড়া, নৈহাটি, কাঁকিনাড়া, জিয়াগঞ্জসহ একাধিক স্টেশনে অবরোধের কারণে কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। অন্য দিনের মতো মেট্রো চলাচল এখনও (বেলা ১২টায়) স্বাভাবিক আছে বলে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গেছে।

কলকাতা বিমানবন্দর থেকে উড়ান পরিষেবায় কোন প্রভাব পড়েনি। ব্যারাকপুর এবং আসানসোলে শিল্পাঞ্চলেও হরতালের কোন প্রভাব পড়েনি। শ্রমিকরা অন্যদিনের মতোই এদিনও কাজে যোগ দিয়েছে। কলকাতার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভেও হরতালের তেমন প্রভাব পড়েনি বলে খবর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল, কলেজও খুলেছে।

কংগ্রেসের ডাকা এই হরতালের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকারও এর মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আজ মঙ্গলবার সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থায় কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। না এলে কাটা যাবে একদিনের বেতন।

তবে হরতালকে কেন্দ্র করে এদিন সকালেই বহরমপুর জেলায় কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ বাধে। সকালে হরতালের সমর্থনে জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের সামনে যখন কংগ্রেসের কর্মীরা জড়ো হন ঠিক সেসময়ই পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এমনকি তাদেরকে লাঠি পেটা করারও অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এরপরই রাস্তায় নামে রাজ্যটির কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী, দলীয় অনুগামীদের নিয়ে ঢুকে পড়েন জেলা প্রশাসনিক ভবনে। গায়ের জামা খুলে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘ক্ষমতা থাকলে পুলিশ গুলি চালাক’। এই ঘটনা ছাড়া রাজ্যে তেমন কোন সংঘর্ষ কিংবা সহিংসতার কোন খবর নেই। (ডেস্ক)