(দিনাজপুর২৪.কম) গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নৈশকোচ দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ এবং রংপুর মেডিক্যালে আরো দুজনসহ ১৮ জন নারী-পুরুষ ও শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিহত ১৮ জনের মধ্যে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৪ জনের পরিচয় মিলেছে। নিহতরা হলেন- রংপুর গঙ্গাচড়া উপজেলার জয়দেবপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে এমদাদ আলী (৩৫), গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বড় গোপালপুর গ্রামের মৃত কজিমুদ্দিনের ছেলে ইউনুস আলী (৫৪), নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের নীলখানের ছেলে মিনারুল খান (২০), কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা সদরের হাসপাতাল মোড়ের আব্দুল মান্নানের ছেলে মাসুদ রানা (৪৫), কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর (মিরপুর) উপজেলার হোসেনাবাদ গ্রামের মৃত বাহার প্রামাণিকের ছেলে আব্দুর রশিদ (৬৫), পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার গোমস্তাপুর গ্রামের মো. আতাউর রহমানের ছেলে জহিরুল ইসলাম (২৩), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিন্নাফোর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে রুবেল হোসেন (২৬), একই জেলার আলোবাদিয়া গ্রামের জোরহান আলীর ছেলে শাহজাহান আলী (৪৭), দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে আকতারুল (৩৫), ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেহনমটরাহাট গ্রামের মৃত আব্দুস সোবাহানের ছেলে আব্দুর রহিম(২৯), একই গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক (২৪), একই জেলার হলড়া গ্রামের আব্দুস শুকুরের ছেলে ইসমাইল হোসেন রুবেল (২৭), পারপূজা গ্রামের ফজির উদ্দিনের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৫) ও হরিপুর উপজেলার অজীন চন্দ্রের ছেলে বিশ্বনাথ (৩৫)।
আহতদের মাধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা সদরের সুমন (৩৫), মঞ্জুর (৩৫), ঠাকুরগাঁওয়ের নূর আলম (৩৫), মমতা বেগম (৩৫), নীলফামারীর হাফিজুর রহমান (৪০), সুরেশ (৫০), চয়ন (৮), সিরাজগঞ্জের বাদশাহ (৩৫), টাঙ্গাইলের আবু সাঈদ (৩৫), তেঁতুলিয়ার আশরাফুল (৩৫), দিনাজপুরের নাঈম ইসলাম (৩৫) ও যশোরের আলী হোসেন (৩৫)।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি গুরুতর আহত সবাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঢাকা থেকে রানীশংকৈলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আলম এন্টারপ্রাইজের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৬৪২২) অতিরিক্ত যাত্রীবাহী কোচটি পলাশবাড়ী সদরের উত্তরাংশে ব্র্যাক মোড়ের অদূরে বাঁশকাটা (গরুরহাট) নামক স্থানে রংপুর-বগুড়া জাতীয় মহাসড়কে শনিবার ভোরে  এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত যাত্রীদের অনেকেই জানান, কোচ চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বাম পাশে একটি রেন্ট্রি কড়ই গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এ সময় কোচটির উপরাংশের ছাদ ও সম্মুখ-ভাগসহ গোটা বডি প্রায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টিম ভোর ৫টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, হাইওয়ে ও থানা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা স্থানীয়দের সার্বিক সহায়তায় সামগ্রিক উদ্ধার তৎপরতা চালান। ঘটনাস্থল থেকে সাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার এবং গুরুতর আহত ৪০ যাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পলাশবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দুর্ঘটনাকবলিত কোচ থেকে যাত্রীদের উদ্ধার তৎপরতায় নামে স্থানীয়রা। এ সময় গুরুতর আহত এবং মৃত যাত্রীদের ব্যাগ-ল্যাগেজে থাকা টাকা-পয়সা, পোশাক-পরিচ্ছদ, মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর পরই পর্যায়ক্রমে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া, হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আরিফ হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম, উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার (পিআইও) শাহীনুর আলম এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সাব-ইনচার্জ আব্দুল হামিদ ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং দেখভালসহ সার্বিক খোঁজ-খবর নেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি মরদেহ সৎকারে প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন। নিহতের পরিচয় শনাক্ত সাপেক্ষ স্বজনদের হাতে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে জানা যায়। -ডেস্ক