এএসপি সুমিত চৌধুরী। -পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) ড. লুৎফর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অপরাধে নৌ পুলিশের (ফরিদপুর অঞ্চল) এএসপি সুমিত চৌধুরীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির পক্ষে সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘জনাব সুমিত চৌধুরী (বিপি-৭৪০৬১১৯৭৪৪) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নৌ পুলিশ ফরিদপুর অঞ্চলকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ১২(১) অনুযায়ী চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা সমীচীন মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় এতদ্বারা তাকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’

গত মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট ১ নম্বর সড়ক সংলগ্ন পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হঠাৎ প্রবেশ করে প্রথমে কর্তব্যরত হিসাবরক্ষণ হানিফ মো. উজ্জলকে গালিগালাজ করে ও চড়-থাপ্পড় মারেন। তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক তুহিন আলম ও সদ্য যোগদান করা সহকারী পরিচালক গীতা রানী দাসকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান সুমিত চৌধুরীকে বাধা দিতে এলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং সিসিটিভির ফুটেজসহ অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করার চেষ্টা চালান।

এরপর ড. লুৎফর রহমান অফিস থেকে বের হয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামানের কাছে অভিযোগ করেন। পরে এএসপি সুমিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুর নৌ পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আরিফ বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, তার শাস্তি হতে হবে। তা না হলে সমাজে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাবে। এখন তদন্ত হবে, তদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।’ -ডেস্ক