(দিনাজপুর২৪.কম) স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন-সংগ্রাম ও প্রতিবাদ দেশব্যাপী সাড়া ফেললেও কার্যত সড়কসংশ্লিষ্টদের বোধোদয় ঘটাতে পারেনি। থামেনি লাইসেন্সবিহীন চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালনা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভায় সড়কসংশ্লিষ্ট নতুন আইন পাস হলেও থামেনি লাইসেন্সবিহীন চালকদের দৌরাত্ম্য। অভিযান ও আইন পরিবর্তন করেও নৈরাজ্যের সড়ক নিরাপদ করতে ব্যর্থই হয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সড়ক আজও অনিরাপদ রয়েই গেছে।সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, পরিবহণ মালিক সমিতির নেতাদের ফাঁকাবুলি, সড়ক নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিআরটিএর অনিয়ম-দুর্নীতি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রীদের আইন প্রয়োগের নামে লোকদেখানো কার্যক্রম ও মনভোলানো সকল সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সড়কে সেই হ-য-ব-র-ল অবস্থা চলছেই। যেখানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় পরিবহণ মালিক সমিতির নেতারাই বলেছিলেন, সড়কে কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি নামতে দিবেন না তারা। লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতেও গাড়ি দিবেন না তারা। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে দু-একদিন পরিবহণ মালিক সমিতির নেতারা কথার বাস্তব রুপ দিলেও এখন আর সেই কথায় নেই তারা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ সমিতির নেতারাও সড়ক ছেড়ে ফিরে গেছেন। আর তাতেই আবারো সড়ক পূর্বের ন্যায় অনিয়ম-বিশৃঙ্খলের রূপ ধারণ করেছে। গেলো ঈদুল আজহার পরই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিবের মালিকাধীন এনা পরিবহণের গাড়ি বেপরোয়া চালনার ফলে দুর্ঘটনা ঘটার দৃশ্যও দেখেছে দেশবাসী। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা ও অনিয়ম বন্ধে বিআরটিএসহ আমরা অভিযান চালাচ্ছি। এ অভিযানের একটা রেজাল্ট আসবে, একটু অপেক্ষা করেন। সড়কে তার মালিকাধীন এনা পরিবহণের বেপরোয়া চলাচলে দুর্ঘটনা ঘটছে, অনেক মানুষ নিহতও হয়েছে এবং তার মালিকাধীন গাড়ির চালকরা কেন এমন বেপরোয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। ২০ লাখ টাকা খরচ করেছি তাদের প্রশিক্ষণের জন্য। এরপরও দুর্ঘটনা ঘটছে, অনেক সময় তাদের অবহেলার কারণে। তাছাড়া এসব দুর্ঘটনার তো ব্যাখা দেওয়া যাবে না কেন ঘটছে। তাছাড়া দুর্ঘটনা তো একেবারে বন্ধ করা যাবে না, কমিয়ে আনা যাবে। সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিআরটিএ, ডিএমপি ও সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির পৃথক পৃথক অভিযান, সড়কসংশ্লিষ্ট আইনের নতুনত্ব, সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান এতোসবের পরও সচেতনতা কিংবা সড়কে অনিয়ম বন্ধে কার্যকর কিছু হতে দেখা যায়নি। হাতেগোনা কয়েকদিন বিআরটিএর বিভিন্ন কার্যালয়ে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা, লাইসেন্স নবায়নসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও এখন আর তা দেখা যাচ্ছে না। সড়কে চালকদের পূর্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যাচ্ছে। কুষ্টিয়ার শিশু আকিফা নিহতের ঘটনা, নাটোরের বড়াইগ্রামের দুর্ঘটনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনা পরিবহণের সড়ক ছেড়ে খালে পড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনাই তার প্রমাণ। এছাড়াও বিআরটির বিভিন্ন অভিযানেও দেখা যাচ্ছে পূর্বের মতোই এখনো সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালাচ্ছে লাইসেন্সবিহীন চালকরা। এছাড়াও নিয়ম না মেনেই চালকরা যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। এসব অনিয়মের বিষয়ে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনিবুর রহমান বলেন, সড়ক কিংবা সড়কের নিয়মকানুনগুলো একটা নির্দিষ্ট সিস্টেমের মধ্য দিয়ে চলে। আমাদের সেই সিস্টেম পরিবর্তন করা জরুরি। তাছাড়া রুট পারমিটের ক্ষেত্রে নিয়মের কিছু নতুনত্ব আনা ছাড়াও সরকারের উচিত ব্যক্তিগত গাড়ির দিকে নজর দেওয়া। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের পরিবহণের জন্য গাড়ি দেওয়া। প্রতিটি পরিবারের একটির বেশি গাড়ির অনুমোদন না দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অনিয়ম বন্ধে বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতার বিকল্প নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তরিক হয়ে কাজ করলেই সড়কে অনিয়ম বন্ধ করে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব। এদিকে, রাজধানীতে শতকরা ৩৫ ভাগ পরিবহণ শ্রমিক মাদকাসক্ত বলে পরিবহণ মালিক সমিতির নেতারা দাবি করলেও এদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও সক্ষম নয় সংশ্লিষ্টরা। পরিবহণ মালিক সমিতির নেতাদের পক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে মাকসেবী পরিবহণ শ্রমিকদের বিষয়ে অবহিত করলেও মাদকসেবী চালকদের চিহ্নিত করতে যে যন্ত্রপাতির প্রয়োজন তা নেই ডিএমপির। এছাড়াও পরিবহণ মালিকরা চুক্তিতে গাড়ি চালাতে দেওয়াকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে জানা গেলেও তা বন্ধ করছে না পরিবহণ মালিক সমিতির নেতারা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিউর রহমানের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। -ডেস্ক