বি. এম. জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম. মোস্তফা কামাল বলেন, মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে এমাসের মধ্যে তালা উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ময়লা ফেলার জন্য ঝুড়ি বিতরন করা হবে। তিনি বলেন, গ্রাম ও শহর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রীন সাতক্ষীরা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি শিশু শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতার প্রতি আহবান রেখে বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য আপনার সন্তানদের মানষিক চাপ দেবেননা। জিপিএ-৫ পাওয়ার চেয়ে সন্তানদের শিক্ষিত ও সুনাহরিক হিসেবে গড়ে তোলা অধিক জরুরী।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারী) সকালে তালার শিশুতীর্থ কিন্ডারগার্টেন স্কুল পরিদর্শন শেষে স্কুল চত্বরে অনুষ্ঠিত ঝুড়ি বিতরন’র উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
“ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রীন সাতক্ষীরা” কর্মসূচী তালা উপজেলায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিশু তীর্থ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন। অধ্যাপক রেজাউল করিম’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এনামুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার মো. নুরুল আমিন, তালা থানার ওসি মেহেদী রাসেল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার ও সতাক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য সাংবাদিক মীর জাকির হোসেন প্রমুখ। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশুতীর্থ স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন। পরে তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে “তারুণ্যের ভাবনা” শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস. এম. মোস্তফা কামাল। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এনামুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার মো. নুরুল আমিন, তালা থানার ওসি মেহেদী রাসেল, পাটকেলঘাটা থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শিদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য সাংবাদিক মীর জাকির হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কলেজের উপাধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ মোড়ল, অধ্যাপক রেজাউল করিম ও তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক প্রনব ঘোষ বাবলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন সহ মুজিব বর্ষ ২০২০ উপলক্ষে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক এস. এম. মোস্তফা কালাম কলেজের ২০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তির চেক বিতরণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক তালা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আরো একাধিক কর্মসূচীতে অংশগ্রহ করেন।

তালার জেঠুয়া বাজারে সরকারি জমি দখল নিতে চাচার বেসামাল কান্ড
তালার জেঠুয়া বাজারে ভাইপোর দখলে থাকা পেরিফেরি ভুক্ত ১ শতক জমি জোরদখল নিতে চাচা লতিফ পাড় বেসামাল হয়ে পড়েছে। তার একের পর এক কর্মকান্ডে দিশেহারা হবার উপক্রম হয়েছে ভাতিজা বেলাল হোসেন পাড়’র। এই জমিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে চাচার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বেলাল হোসেন কথিত ডাকাতি মামলায় জেল খেটেছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে- চাচা লতিফ পাড় ওই জমি দখল নিতে ইতোমধ্যে ১৪ দলীয় জোটের অফিস, আসবাবপত্র এবং জাতীর জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর সহ লুটপাট চালিয়েছে। বর্তমানে জমি দখল নিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠা আব্দুল লতিফ পাড়ের হামলা ও হুমকির মূখে অসহায় অবস্থায় রয়েছে তার ভাতিজা বেলাল হোসেন পাড়।
ভুক্তভোগী বেলাল হোসেন জানান, উপজেলার জেঠুয়া বাজারে সরকারি ১ নং খাস খতিয়ানের ৪২২ দাগের পেরিফেরিভুক্ত ২শতক জমি তার দাদা আতাউল্যাহ পাড় বিধি মোতাবেকে ভোগদখলিকার ছিল। মৃত্যর আগে তিনি উক্ত ২ শতক জমি তার পুত্র আব্দুল লতিফ পাড় এবং এনায়েত আলী পাড়কে ভাগ করে দখল দেন। এমতাবস্থায় আব্দুল লতিফ পাড় তার প্রাপ্ত ১ শতক সরকারি জমি আহাদ আলী এবং মিজানুর রহমান নামের দুই ব্যক্তির কাছে অবৈধ ভাবে বিক্রি করে টাকা হাাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তারা ওই ১ শতক জমি তাদের নামে বন্দোবাস্ত নিয়ে সেখানে দোকান নির্মান করে ভোগদখল করছে। কিন্তু আব্দুল লতিফ পাড় তার প্রাপ্তির সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রি করে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এনায়েত আলী পাড়’র ছেলে বেলাল হোসেন’র ভোগদখলে থাকা অপর ১ শতক জমি দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে। যদিও বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানোর এক পর্যায়ে ২০১৫ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা সরদার রফিকুল ইসলাম এবং আওয়ামীলীগ নেতা রামপ্রসাদ দাস’র নামে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করে ১৪ দলীয় জোটের অফিস করার জন্য সুযোগদেন। ফলে এই অফিস থেকে একাধিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনার কাজ করা হয়। এরপরও ধূরন্তর আব্দুল লতিফ পাড় ১৪ দলীয় জোটের অফিস সহ ওই জমি কৌশলে জোর দখল নেবার জন্য অপচেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু তা না পেরে লতিফ পাড় কৌশলে একটি ডাকাতি মামলায় বেলাল হোসেনকে আসামী করিয়ে জেলে পাঠায়!
বেলাল হোসেন বলেন, ষড়যন্ত্র করে জেলে পাঠানোর পর আমাদের দখলে থাকা পেরিফেরি জমি কৌশলে দখল করতে চাচা আব্দুল লতিফ নিজ এবং তার মেয়ে বিকুলী পারভীনের নামে বন্দোবাস্ত পাবার প্রক্রিয়া শুরু করে। জেল থেকে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরা পারভীন ২৯/০৭/১৫ ইং তারিখে ৩১.৪৪.৮৭০০.০৯০.১১.০০১.১৫-৮০৪ নং যুক্ত স্মারকে উক্ত ২শতক পেরিফেরি ভুক্ত খাস জমির মধ্যে ১ শতক জমি আব্দুল লতিফ কর্তৃক হস্তান্তর এবং অপর ১ শতক জমি “আমার” ধান ব্যবসার মাধ্যমে ভোগ-দখলীয় বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সতাক্ষীরা’র নিকটে রিপোর্ট প্রেরন করেন। এরপরও ওই জমি আব্দুল লতিফ দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখায় ভুক্তভোগী বেলাল হোসেন প্রতিকার পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক’র নিকট একটি আবেদন করেন।
এবিষয়ে জেঠুয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, খেশরা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গগন মন্ডল উক্ত জমির সঠিক মালিকানা তদন্ত করতে আসবেন- বিষয়টি জানতে পেরে গত ১০ জানুয়ারী ভোররাতে লতিফ পাড়ের স্ত্রী ফাহিমা বেগম এবং মেয়ে বিকুলী পারভীন সহ দূর্বৃত্তরা বেলাল হোসেন’র দখলীয় জমিতে স্থাপিত ১৪ দলের অফিস, অফিসের আসবাবপত্র এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর সহ লুটপাট চালিয়ে ঘর দখলের চেষ্টা করে। এসময় বাজারের লোকজন এবং পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে আসলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। জমি ও ঘর দখলে ব্যর্থ হয়ে লতিফ পাড়’র স্ত্রী এবং মেয়ে প্রতিনিয়ত বেলাল হোসেন সহ তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উঠেছে। এছাড়া জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ’র সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ দাস সহ বেলাল হোসেন’র পক্ষের লোকদের সামাজিক ভাবে হেয় ও প্রশাসনিক হয়রানী করতে নানান অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী বেলাল হোসেন ন্যায় সঙ্গত বিচার পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

তালায় ডিজিটাল হাজিরা মেশিন দূর্নীতি : সহকারী শিক্ষা অফিসার শচীন্দ্র নাথ বদলি

তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অধিন শালিখা ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার শচীন্দ্র নাথ বিশ^াসকে অবশেষে ক্লাস্টার বদলি করা হয়েছে। তালা উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মুস্তাফিজুর রহমান তাকে ক্লাস্টার বদলির আদেশ দেন।
সূত্রে জানাগেছে, উপজলার শালিখা ক্লাস্টারের দায়িত্ব পালনকালে সহকারি শিক্ষা অফিসার শচীন্দ্র নাথ বিশ^াস তাঁর অধিন সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ের জন্য চাঁপ প্রয়োগ করেন। অভিযোগ উঠেছিল- নি¤œ মানের ওই কোম্পানির ডিজিটাল হাজিরা মেশিন বিদ্যালয়গুলোতে বিক্রি করতে পারলে তিনি মেশিন প্রতি কমিশন প্রাপ্ত হতেন। এনিয়ে শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং এবিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এবিষয়ে তালা উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিস সহকারি শিক্ষা অফিসার শচীন্দ্র নাথ বিশ^াসের বিরুদ্ধে তদন্ত করেন। এমতাবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় গত ১৩/০১/২০ তারিখে ৫৭ নং স্মারকে তাকে উপজেলার খলিলনগর ক্লাস্টারে বদলি করা হয়েছে এবং খলিলনগর ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার ন¤্র কুমার মন্ডলকে শালিখা ক্লাস্টারে বদলি করা হয়েছে। আগামী ২০/০১/২০২০ তারিখ থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে বলে শিক্ষা অফিসার শেখ মুস্তাফিজুর রহমান’র এক অফিস আদেশ এতথ্য জানা গেছে।
এদিকে, ডিজিটাল হাাজিরা মেশিন ক্রয়ে দূর্নীতির অভিযোগে বদলি হওয়া সহকারি শিক্ষা অফিসার শচীন্দ্র নাথ বিশ^াস তার বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাপ শুরু করেছে। এমনকি তার বদলি ঠেকাতে নি¤œমানের সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কোম্পানির এক প্রতিনিধি রাজনৈতিক মহলে তদ্বির শুরু করেছে।