(দিনাজপুর২৪.কম) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে ভোট গণনার শেষ পর্যায় ৷ ফলাফল ঘোষিত না হলেও ভোটের সমীকরণ ও ট্রেন্ডে খানিটা স্পষ্ট কে বসতে চলেছে হোয়াইট হাউসের চেয়ারে৷ হারের গন্ধ পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক অদ্ভুত দাবি তুলে তোলপাড় করছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷

তিনি কখনো বলছেন জোচ্চুরি-গণ কারচুপি হয়েছে, কখনো বলছেন ভোট গায়েব করা হয়েছে ৷ কখনো সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন তো কখনো ভোট গণনা বন্ধ করানোর জন্য ফন্দি ফিকির করছেন ৷ ট্রাম্পের এমন রূপ দেখে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পরাজিত হলে হার স্বীকার করে হোয়াইট হাউস ছাড়বেন তো ট্রাম্প?

চারটি রাজ্যের ফল ঠিক করে দেবে আগামী চার বছর মার্কিন মসনদ কার দখলে থাকবে। ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়ার দোরগোড়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ৷ আর একটি রাজ্য জিতলেই ব্যস, চুড়ান্ত ঘোষণা ৷ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে সবথেকে বেশি ভোট পেয়ে ইতিহাস গড়ে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে চলেছেন বাইডেন ৷ অন্যদিকে ট্রাম্পকে জিততে হলে বাকি থাকা চার প্রদেশেই জয় পেতে হবে ৷ ফলাফল ঘোষণা প্রাথমিক পর্বে যখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল তখন থেকেই অস্থির ট্রাম্প একের পর এক ভিত্তিহীন মন্তব্য ও কাজ করে চলেছেন ৷ ভোট কারচুপির অভিযোগ আনার পরে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ফিরিয়েছে। এদিন বাইডেনরা ভোট চুরি করছে এই অভিযোগ এনেও ট্যুইটারের কোপে পড়েছেন ট্রাম্প। জয়ের দোরগোড়ায পৌছনো বাইডেনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প আদালতের দ্বারস্থ আবারও হবেন বলে জানিয়েছেন| জো বাইডেনের জেতা সমস্ত প্রদেশের ফলকে চ্যালেঞ্জ করবেন তিনি ৷

এহেন কার্যকলাপ দেখার পর বেশির ভাগ মানুষেরই মনে হচ্ছে হার হজম করতে পারবেন না ট্রাম্প ৷ এমনকী হেরে গেলেও এত সহজে হোয়াইট হাউস ছাড়বেন না তিনি ৷ এমতাবস্থায় কী করণীয়? আমেরিকার নিয়ম নীতি বলছে দ্বিতীয়বার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ভোটে হেরে যান তাহলে তাকে ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে হোয়াইট হাউসও ছেড়ে দিতে হয় ৷ কিন্তু কেউ যদি তা করতে অস্বীকার করে তাহলে সেক্ষেত্রে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও সিক্রেট সার্ভিসের হাতেই চলে যাবে বাকিটুকু ৷ এমতাবস্থায় তারাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে ৷

নিয়ম বলছে পরাজিত হওয়ার পরও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট যদি হোয়াইট হাউস ছাড়তে নারাজ থাকেন তাহলে তাকে হোয়াইট হাউসের সীমানার বাইরে বার করার জন্য মাঠে নামবে সিক্রেট সার্ভিস ৷ তাদের এ সংক্রান্ত করণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিতে পারেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ৷

উল্লেখ্য, আজ পর্যন্ত এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি, তাই এমন পরিস্থিতির কথা ভেবে বা উল্লেখ করে আমেরিকান সংবিধানেও কোনো কথা লেখা হয়নি ৷ কোনো প্রেসিডেন্ট হারার পরও যদি পদ ও হোয়াইট হাউস ছাড়তে না চায় তাহলে কী করা হবে সেসম্পর্কে কোনো দিশা দেখানো নেই মার্কিন সংবিধানে ৷ তবে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট যেহেতু সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধীন হবেন সেক্ষেত্রে এব্যাপারে তিনিই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে মনে করছে আইনবিশেষজ্ঞরা। সূত্র : নিউজ১৮