(দিনাজপুর২৪.কম) নৃত্য ও অভিনয় দুই ক্ষেত্রেই সমান পারদর্শী চাঁদনী। অভিনেত্রীর চেয়ে নিজেকে নৃত্যশিল্পী হিসেবেই পরিচয় দিতে বেশি সাচ্ছ্যন্দ্যবোধ করেন তিনি। ছোটপর্দার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও রয়েছে তার বিচরণ। করেছেন একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়। এ ক্ষেত্রে সফলতাও পেয়েছেন। আর সেটা প্রমাণ মিলেছে ‘লালসালু’ ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে। জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী-নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে কথা হলো শুক্রবার দুপুরে। শুরুতেই জানতে চাওয়া হলো কেমন আছেন। কেমনইবা চলছে তার দিনকাল। চাঁদনী বললেন, ব্যস্ততার মাঝেই দিনকাল কেটে যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ আর কাজের পেছনে ছুটে চলা। আর এর মাঝেই সংসারে সময় দিচ্ছি। বেশ ভালোভাবেই কাটছে দিনগুলো। তবে একটু প্রেসার তো রয়েছেই। কি নিয়ে ব্যস্ততা এখন জানতে চাইলে চাঁদনী বলেন, নাচের পারফরম্যান্স চলছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো শো থাকছে। আজ এখানে তো কাল ওখানে। নৃত্য আর সাংসারিক কাজ ছাড়া এখন আর কোনো ব্যস্ততা নেই বললেই চলে। নাচের কারণে প্রশংসিত হলেও চাঁদনী কিন্তু অভিনয় তথা টিভিপর্দার কল্যাণেই দর্শক পরিচিতি বেশি পেয়েছেন। তবে সে ব্যস্ততা নেই কেন? চাঁদনী বলেন, আসলে শো-গুলোর কাজে বেশি প্রেসার যাচ্ছে। তাই এদিকটায় সময় দিতে হচ্ছে। এ কারণে অন্য কোনো কাজ করা হচ্ছে না। অবশ্য মাছরাঙা টেলিভিশনে ‘হাউসওয়াইভস’ নামের একটি সিরিয়াল প্রচার হচ্ছে। যেটার কাজ অনেক আগেই শেষ করেছি। চাঁদনীর কথায় মনে হলো নাট্যাঙ্গনের প্রতি কোনো ক্ষোভ কিংবা কষ্ট থেকেই অভিনয়ে অনিয়মিত তিনি। সত্যিই কি তাই? ফের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একদমই না। নাটক কিংবা নাট্যাঙ্গনের প্রতি কোনো অভিমান নেই আমার। আসলে সিরিয়ালে কাজ করতে হলে আমাকে বেশি সময় দিতে হয়। আমার তো সেই সময়টা নেই। একটার পর একটা নাচের শো লেগেই থাকে। সামনের মাসে হয়তো দেশের বাইরেও যেতে হতে পারে। তবে সেটা এখনই চূড়ান্ত নয়। ব্যস্ততার কথা তো গেল। এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসা যাক। দিন কয়েক ধরে চাঁদনীর ফেসবুক স্ট্যাটাস অনেকেই লক্ষ্য করছেন। তাতে পরকীয়া সম্পর্কিত কয়েকটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। এর ফলে নানা জল্পনার সৃষ্টি হয়। কাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন চাঁদনী? সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আসলে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। আমি বিশেষ কাউকে উদ্দেশ্য করে সেগুলো লিখিনি। তবে পরকীয়া আমাদের সমাজের একটা বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, এটা আমাদের মিডিয়াতেও দেখা যায়। সবমিলিয়েই মাঝে মাঝে কিছু ক্ষোভ ঝাড়ি। নৃত্যের সঙ্গে অনেকটা সময়ের পথচলা চাঁদনীর। একটা সময় তার কিংবা দেশীয় অনেক প্রতিথযশা শিল্পীর নাচ টিভিপর্দায় হরহামেশাই দেখা যেত। কিন্তু সে সংখ্যা এখন অনেকটা কমে এসেছে। এ নিয়ে অনেকের অভিযোগ টিভি মাধ্যমে অবহেলতি নৃত্যশিল্প। এ প্রসঙ্গে চাঁদনীর অভিমত কি? তিনি বলেন, আসলে টিভি চ্যানেলগুলোতে তো নাচের অনুষ্ঠান এখন কমে গেছে। আগে একটা সময় ছিল নিয়মিত নাচের অনুষ্ঠান হতো। কিন্তু এখন সে তুলনায় কমই বলা চলে। বিশেষ দিনগুলোতে নাচের অনুষ্ঠান প্রচার হয়। আর বিশেষ করে স্পন্সর না পাওয়ায় নৃত্যানুষ্ঠান নির্মাণ হচ্ছে না। নাচের কথা তো হলো। টিভি নাটক? সে জায়গাটি নিয়ে চাঁদনীর মন্তব্য কি? উত্তরে তিনি বলেন, আসলে আমি টিভি দেখার সময় পাই না। যতটুকু সময় পাই, সেটা সাংসারিক কাজে চলে যায়। তবে  যেটুকু বুঝি, আমার কাজ দিয়ে। আমি যে নাটকটিতে কাজ করছি সেটার গল্প ও চরিত্র মানস্মত। আর দর্শক সাড়াও পাচ্ছি বেশ। তাই এদিক থেকে বলবো নাটকের মান ভালো। আর সার্বিক অর্থে, ঈদের সময় কোনো নাটক দেখতে বসলে বোঝা যায় কোন নাটকটি ভালো কিংবা খারাপ। তখন কিছু ব্যাপার নিজেই ধরতে পারি। ধরা যাক, যে নাটকটি ঈদের মুহূর্তে প্রচার করা দরকার ছিলো সেটা করা হচ্ছে না। উল্টোটা হচ্ছে। আর সব মিলিয়ে বলতে পারি, ভালো কাজের পাশাপাশি খারাপটাও হচ্ছে। আর এখন তো চ্যানেল বেশি। সে জায়গায় প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। এত কাজের মাঝে ভালো খারাপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। -ডেস্ক