(দিনাজপুর২৪.কম) স্বপ্নের পদ্মাসেতুর ৪২টি খুঁটির সবগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মাসেতুর একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড সক্ষমতার। আর এসব খুঁটি নির্মাণে বিরল প্রকৌশল পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

খুঁটির নির্মাণে জড়িত থাকা শ্রমিকদের কাজও শেষ হওয়ায় সেতু প্রকল্প থেকে বিদায় নিয়েছেন প্রায় ৭০০ শ্রমিক। দীর্ঘদিন এই খুঁটি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকে এসব নির্মাণ শ্রমিক বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছিল।তবে তাদের দক্ষতা বিবেচনায় পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে তাদের নতুন করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের দিন পদ্মাসেতুর প্রকল্প এলাকা থেকে শেষবারের মতো বেরিয়ে যায় তারা। তবে তাদের চলতি মাসের পুরো বেতন দিয়েছে ঠিকাদার।

গতকাল সোমবার থেকে তারা প্রকল্প এলাকা থেকে বিদায় নেয়া শুরু করে। সকালের দিকে বেশিরভাগ খুঁটির শ্রমিক ট্রাকে ওঠে প্রকল্প এলাকা থেকে বেরিয়ে যায়।

এমনকি চীনের শ্রমিক দলের সঙ্গে মিশে নদীতে জটিল ২২টি পিলারের কাজও শেষ করেছিল তারা। নদীর তলদেশে কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় মাটি বদলে নতুন মাটি তৈরি করে পিলার গাঁথার ‘স্ক্রিন গ্রাউটিং’ পদ্ধতিতে কাজ করেছে এই শ্রমিক দল। এমন পদ্ধতিতে কোনো সেতুর খুঁটি নির্মাণ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এবং বিশ্বে নজিরবিহীনও।

পদ্মাসেতু প্রকল্প সূত্র জানায়, মূলসেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি-৮৬ দশমিক ৭৫ ভাগ এবং আর্থিক অগ্রগতি- ৮৩ দশমিক ৯৭ ভাগ। মূল সেতু কাজের চুক্তিমূল্য- ১২ হাজার ১৩৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা এবং এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে- ১০ হাজার ১৮৮ দশমিক ০৭ কোটি টাকা। । নদীশাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি-৭০ দশমিক ৫০ ভাগ এবং আর্থিক অগ্রগতি- ৫৫ দশমিক ০৫ভাগ।

নদীশাসন কাজের চুক্তিমূল্য- ৮ হাজার ৭০৭ দশমিক ৮১ কোটি টাকা এবং এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে- ৪ হাজার ৭৯৩ দশমিক ৯০ কোটি টাকা। সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার বাস্তব কাজের অগ্রগতি- ১০০ ভাগ। মূল সেতুতে মোট ৪২টি এবং দুইপ্রান্তের ভায়াডাক্টে ৯১ (৪৪+৪৭)টিসহ সর্বমোট ১৩৩টি পিয়ার রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো করপোরেশন। -ডেস্ক