(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাবে বলেছেন, স্বাস্থ্যজনিত কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অ্যাবে বলেছেন, তিনি চান না সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তার অসুস্থতা বাধা হয়ে দাঁড়াক, তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

মেয়াদ পূর্ণ করতে না পারার জন্য তিনি জাপানের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাবে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই একটি রোগে ভুগছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জানিয়েছেন, আবের স্বাস্থ্য ভালো। কিন্তু দুবার হাসপাতালে যাওয়ায় গুজব সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ একবার হাসপাতালে সাড়ে ৭ ঘণ্টার বেশি সময় কাটানোর ফলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে তার রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৮ বছর দায়িত্ব পালনের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন অ্যাবে। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা নেতায় পরিণত হয়েছেন। তবে সম্প্রতি তার জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। সর্বশেষ জনমত জরিপে তা ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

গত কয়েক বছর ধরে অ্যাবে ‘আলসারেটিভ কোলাইটিস’ রোগে ভুগছেন। গত জুলাইয়ের শুরুতে তার রক্তবমি হয়েছিল। তার পর থেকে তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত এক সপ্তাহে তাকে দুবার হাসপাতালে যেতে হয়।

অ্যাবে ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো এলডিপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কোবে স্টিল কোম্পানির এক সময়ের কর্মকর্তা অ্যাবে ২০০৬ সালে দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পান এবং সে বছর কয়েক মাসের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ৫২ বছরের আবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সবচেয়ে তরুণ প্রধানমন্ত্রী হন। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্ম নেওয়া জাপানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এক বছর পর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

২০১২ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে অ্যাবের দল জয়ী হয়ার পর আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। দুই বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ‘আবেনোমিক্স’ বা ‘আবেতত্ত্ব’ দেশটির অর্থনীতিকে আরও বেশি চাঙ্গা করবে বলে ফের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন।  -ডেস্ক রিপোর্ট