সুকুমার দাস বাবু, পঞ্চগড় (দিনাজপুর২৪.কম) পঞ্চগড় শহরের হকিকুল ইসলাম হকি নামের এক আইনজীবীর বাড়িতে নুর নেহার নুরী (০৮) নামের এক শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই শিশুটিকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার মা তাহেরা বেগম। সোমবার দুপুরে ওই শিশু গৃহকর্মীর মরদেহ নিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে যান আইনজীবী হকিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। এ সময় তারা শিশুটি আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করতে থাকে।
খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ হাসপাতলে গিয়ে মরদেটির প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে ওই গৃহকর্মীর নাক, চোখ ও মুখে রক্তের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
জেলার আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের মো. নুর ইসলামের ০৮ বছরের শিশুকন্যা নুর নেহার নুরী। দেড় বছর ধরে জেলা শহরের ইসলামবাগ মহল্লায় ওই আইনজীবীর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে আসছে। কিন্তু মাঝে মধ্যে ওই আইনজীবীর স্ত্রী ব্যাংক কর্মকর্তা রওশন আক্তার লিজা কারণে অকারণে গৃহকর্মী নুর নেহারের উপর নির্যাতন করতো। এ নিয়ে গত ২০ দিন আগেও প্রতিবাদ করেছে নুর নেহারের পরিবারের লোকজন।
সোমবার দুপুরে নুর নেহারের মাকে ওই আইনজীবীর পরিবার থেকে মোবাইল ফোনে জানানো হয় তার মেয়ে অসুস্থ, তার ডায়েরিয়া হয়েছে। তাই তারা যেন হাসপাতাল থেকে তাকে নিয়ে যায়। মেয়ের অসুস্থতার কথা শুনে বিকালে সামান্য কিছু টাকা হাতে নিয়ে তিনি মেয়েকে দেখার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের রক্তমাখা মুখ সহ মৃতদেহ দেখে বারবার মুর্ছা যান শিশুটির মা তাহেরা খাতুন।
তাহেরা খাতুন বলেন, আমার মেয়ের অসুখ-বিসুখ কিছুই হয়নি, তাকে কিছু না করলে সে মারা যেতনা। আমি থানায় যাব, আমি এর বিচার চাই।
তিনি বলেন, মাঝে মাঝেই ঝগড়া হতো এইতো কয়েকদিন আগে এসে মিটমাট করে গেলাম। ওই বাড়ির মানুষটা ভালো (গৃহকর্তা) কিন্তু তার বৌটা ভালো না।
এ বিষয়ে আইনজীবী হকিকুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আক্তার লিজা জানান, আমরা দুপুরে অফিস থেকে ফিরে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে নুর নেহারকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাই। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
পঞ্চগড় সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় বলেন, পঞ্চগড় শহরের এক আইনজীবীর বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু গৃহকর্মীর মৃতদেহটি আমরা দেখেছি। এ বিষয়ে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়না তদন্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।