সুকুমার দাস বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) পঞ্চগড়ের হাড়িভাষা গ্রামের এক বিবাহিত কলেজ পড়–য়া ছাত্রীকে বিভিন্ন প্রকার লোভ লালসা প্রলোভন, ভয়ভীতি দেখিয়ে ও কুপরামর্শ দিয়ে সরলতার সুযোগ নিয়ে মোঃ আজিজুল হকের ছেলে মোঃ মকছেদুর রহমান, মোঃ মকছেদুর রহমানের মেয়ে মোছাঃ লাবনী আক্তার লাবন্যকে মৌলভী দ্বারা মুন্সী মোহর করে সংসার করতে থাকে। মোছাঃ লাবনী আক্তার লাবন্য পঞ্চগড় জেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের আমবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও মোঃ মকছেদুর রহমান একই ইউনিয়নের জামুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মোছাঃ লাবনী আক্তার লাবন্য বৈবাহিক জীবনে ১ম স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসারে সুখেই জীবন যাপন করছিল। কিন্তু মকছেদুরের কুনজরে পড়ে যায় লাবনী। সে ওৎ পেতে বসে থাকে কিভাবে লাবনীকে বশ করা যায়। মকছেদুর লাবনীকে বিভিন্ন সময়, অসময় কুপ্রস্তাব সহ বিয়ের কথা বলে এমনকি প্রেম নিবেদন করে। এমনও বলে সে লাবন্য তোমাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে না পেলে আমি আত্মহত্যা করবো। লাবন্য তার ছলনাময়ী প্রেমের ফাঁদে পড়ে সে তার ১ম স্বামীকে তালাক দেয়। মকছেদের ১ম স্ত্রী থাকা স্বত্বেও ১ম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই লাবন্যকে মুন্সী মোহর করে বাড়িতে তুলে এবং পরবর্তীতে কাজী মোহর করবে বলে লাবনীর সাথে প্রায় ৩ বছর সংসার করতে থাকে। এ অবস্থায় লাবনী ১টি কন্যা সন্তানের জনীন হয়। বর্তমানে কন্যা সন্তানের বয়স মাত্র ১ মাস। লাবনী গর্ভবতী হলে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিভিন্ন সময় মকছেদুর নির্যাতন করতো। লাবনীকে ২য় বউ করে আনায় মকছেদের পরিবারের কেউ লাবনীকে মেনে নিতে পারেনি। মৃত. আছির উদ্দীন চন্ডিয়ার ছেলে মোঃ আজিজুল হক, মোঃ আজিজুল হকের স্ত্রী মোছাঃ হাজেরা বেগম ও মোঃ মকছেদুর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ রহিমা খাতুন তারা সকলে মিলে লাবনীকে কিভাবে বাড়ী থেকে বের করে দেয়া যায় তা নিয়ে বিভিন্ন সময় ফন্দি করতে থাকে। লাবনী গরীব পরিবারের মেয়ে হওয়ার এ সুযোগ পেয়ে মকছেদুর লাবনীকে বাবার বাড়ী থেকে যৌতুক বাবদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে আসতে বলে। লাবনী যৌতুকের ৫ লক্ষ টাকা এনে দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে গত ১৭/০১/২০১৯ইং তারিখ বিকাল ৪ টার সময় স্বামী মকছেদুর লাবনীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা শুরু করে এবং বাড়ী থেকে বের করে দেয়। লাবনী নিরুপায় হয়ে গরীব বাবার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। লাবনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাবনীকে তাৎক্ষনিক পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে ১নং ওয়ার্ডের ১০নং বেডে ভর্তি করা হয়। লাবনীর বাবা লাবনীর বিষয়টি আত্মীয় স্বজনকে জানালে মকছেদুর বিষয়টি জানতে পেরে মকছেদুর স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দ্বারা আপোষ মিমাংসা করবে বলে লাবনীর বাবাকে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু বউকে মকছেদুর ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক ছাড়া লাবনীকে ঘরে তুলে নেবে না। লাবনী এই মর্মে গত ২১/০১/২০১৯ইং তারিখ কোর্টে হাজির হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে (সংশোধিত/২০০৩ইং) ১১(গ)/৩০ ধরায় মামলা দায়ের করে। মামলাটি তদন্তের জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পঞ্চগড় এর বরাবরে প্রেরণ করেন।
ইতিপূর্বে লাবনীর মা মোছাঃ ফাতেমা বেগম, স্বামী লাল মিয়া গত ০৯/০১/১৯ইং তারিখ অনুমান বেলা ১১ ঘটিকার সময় মেয়ে ও মেয়ের সন্তানকে দেখার জন্য জামাই মকছেদুরের বাড়িতে যায়। মেয়ের নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ে মা জামাই বাড়ীতে গেলে লাবনীর মাকে মকছেদুর, মোঃ সুজন ইসলাম ও আব্দুর রাশেদ বেধড়ক লাঠি দিয়ে মারপিট করে। মোঃ আজিজুল ও মোছাঃ ফেন্সি বেগম লাবনীর মাকে চড় থাপ্পর কিলঘুষি মারতে থাকে। লাবনীর মা আশঙ্খা জনক অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয় স্বজনরা ফাতেমাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের ১নং ওয়ার্ডের ৬নং বেডে ভর্তি করে। লাবনীর মা মোছাঃ ফাতেমা বেগম নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে কোর্টে গত ২০/০১/১৯ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন বিবিধ ৬/১৯ নং মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।