সুকুমার দাস বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) গতকাল শনিবার মাত্র ১ ঘন্টার ব্যবধানে সড়ক দূর্ঘটনায় পৃথক পৃথক স্থানে ৪ জনের তাজা প্রাণ কেড়ে নিলো ট্রাক্টর এবং পঙ্গুত্ব হয়েছে ৫ জন। কৃষি কাজের জন্য বিশেষ সুবিধায় আমদানী করা ট্রাক্টর এখন ট্রলি লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো এখন রাস্তায় চলাচলকে বিপজ্জনক করে তুলছে। কৃষি ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্য আনা এসব ট্রাক্টরের জন্য কোন রেজিস্ট্রেশনেরও প্রয়োজন নেই। চালকদেরও দরকার হয়না ট্রাইভিং লাইসেন্স। কোন রকমে চালাতে পারলেই যে কেউ ইচ্ছে করলেই এই ট্রাক্টর দিয়ে অনায়াসে জমি চাষ করতে পারে। কিন্তু কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নিয়ে আসা এসব ট্রাক্টরে অবৈধভাবে ট্রলি লাগিয়ে নির্মাণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহণ করা হচ্ছে। পঞ্চগড় জেলা শহরে প্রতিদিন দিনরাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এমন কয়েক’শ ট্রাক্টর। এতে প্রায় সময়ে ঘটেছে দূর্ঘটনা। কিন্তু চালকদের লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন না থাকায় এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে না। আবার প্রতি সপ্তাহের রোববার ও বৃহস্পতিবার হাটের দিন থাকায় এমনিতেই জেলা শহরে মানুষ ও যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পায়। এসব যানবাহনের সাথে মালবোঝাই ট্রাক্টর অবাধে চলাচল করায় প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। জেলা শহরের বিভিন্ন সড়কে দিনের বেলা এসব ট্রলি চলাচল বন্ধ রেখে রাতে চলাচলের জন্য জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার সিদ্ধান্ত নেয় হলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ ঘটানো যায়নি। এমনিতেই পঞ্চগড় শহরে মানুষের চাপ বাড়ছে দিনদিন। সেই সাতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে অগণিত ব্যাটারি চালিত ভ্যান-অটোরিকসার সাথে ডিজেলচালিত তিন চাকার যান (পাগলু)’র পাশাপাশি জেলা শহরে ট্রাক, ট্রাক্টর, নছিমন, ভটভটি চলাচল করছে অবাধে। আগেকার দিনের পা চালিত রিকসা-ভ্যানে ব্যাটারি লাগিয়ে অটো রিকসা-ভ্যানে রূপান্তরিত করে সড়কে অবাধে চলাচল করছে। এরপর জেলা শহরে ভয়াভহ যানজটে মারাত্মক বিপজ্জনক করে তুলেছে এসব ট্রলি। পঞ্চগড়ের বিভিন্ন নদী থেকে উত্তোলন করা বালৃু ও পাথর নিয়ে শতাধিক ট্রাক্টর ট্রলি প্রতিদিন শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। এছাড়া বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী, কৃষিজাত পণ্য, কাঠ নিয়ে আরও শতাধিক ট্রলি শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নির্মাণ কাজের জন্য বোদা উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা থেকে ইট নিয়ে জেলা শহরে আসছে আরও শতাধিক ট্রলি। জেলা শহরের প্রধান সড়কসহ অলিগলি এমনকি মহাসড়কেও এসব ট্রাক্টর বড় যানবাহন চলাচলের বিঘœ সৃষ্টি করছে। অনেক সময় এসব ট্রলি মালামাল নিয়ে রাস্তার মাঝে বিকল হয়ে পড়ে থেকে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ট্র্রলি এখন পঞ্চগড় জেলা শহরের বিষফোঁড়া। এসব ট্রলির কারণেই শহরে যানজট তীব্র হচ্ছে। নির্মাণ সামগ্রীসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহণে এসব ট্রাক্টরের প্রয়োজন আছে। তবে এগুলো দিনের বেলা চলাচল না করে রাতের বেলা চলাচল করলে কারও কোন সমস্যা হয় না। দিনে বাদ দিয়ে রাতের বেলা শহরে ট্রলি চলাচল করবে এমন সিদ্ধান্ত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা না গেলে আগামীতে শহরে যানজট প্রকট আকার ধারণ করবে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় দিনের বেলা জেলা শহরে ট্রাক্টর-ট্রলির চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মুনির আহমেদ বলেন, আমরা প্রতিদিনই বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর-ট্রলির বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছি। কিন্ত সমস্যা হলো মামলা দিতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পড়ছি। মামলা না দেয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের হুমকি ধামকি ও চাপ দেয়া হয়। তবে আমাদের সদিচ্ছার অভাব নাই। একটি সিদ্ধান্ত তো আর একদিনের বাস্তবায়ন করা যায় না। এই সমস্যা সমাধানে কিছুদিন সময় লাগবে। কিন্তু দীর্ঘদিন অতীবাহিত হয়ে গেলেও বিষয়গুলোর কোনো সমাধান আনতে পারেনি প্রশাসন।