পঞ্চগড় প্রতিনিধি (দিনাজপুর২৪.কম)  পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাহুক নদী, গুনাগঞ্জ, কির্তন পাড়া, ভদেশ্বর, গোলাপদিগঞ্জ, সংগঠন সহ পুরো এলাকা থেকে মাটির বুক চিড়ে ড্রীল ড্রেজার বোমা মেশিন দিয়ে অবিরাম পাথর উত্তোলন চলছে। বর্তমানে এই পাথর উত্তোলনে তেঁতুলিয়া উপজেলা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে নদী এলাকার ডাহুক নদী, করতোয়া নদী ও সাও নদীতে অসংখ্য নিষিদ্ধ বোমা মেশিন দিয়ে রাতের আধারে একটি কু-চক্র মহল পাথর উত্তোলনে মরিয়া হয়ে উঠে। সেখানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টি মেশিন রাতের আধারে চলে। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনছে অন্যদিকে পাথর খেকোরা বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করে নদীর নাব্যতাকে ধ্বংশ করে দিচ্ছে। সরজমিনে গেলে এলাকাবাসীরা জানায়, প্রতিদিন রাত ১১ টা হতে সকাল ৬ টা পর্যন্ত এই বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে। একটি অসাধু চক্র এই মেশিন গুলো পরিচালনা করছে। মেশিন পরিচালনার জন্য কিছু লাইনম্যান রয়েছে। লাইনম্যানদের মেশিন প্রতি ৮ হাজার টাকা দিয়ে, এই অবৈধ মেশিন পরিচালনা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাক্তিরা বলেন, ডাহুক নদীতে মোঃ ফরিদ ও মোঃ পলাশ এবং ভজনপুর এলাকার মোঃ বক্কর ও মোঃ এশারুল এই মেশিন গুলোর লাইনম্যান। এই ৪ জন ব্যাক্তির মাধ্যমেই তেঁতুলিয়া উপজেলার হাইকোর্টের নিষিদ্ধ বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনে পরিচালনা করছে। ২০১০ সালে মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করেছে হাইকোর্ট কিন্তু পাথর খেকো চক্ররা হাইকোর্টের নিষেদ্ধাঙ্গাকে বিদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে রাতের আধারে অবাদে পাথর উত্তোলন করেই চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি রাতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে, মেশিন প্রতি ১০ থেকে ১২ ট্রলি পাথর উত্তোলন করে। যার বাজার মূল্য বর্তমান প্রতি ট্রলি ৭ হাজার ১০০ টাকা। মেশিন মালিকরা প্রতি রাতে আয় করে ৭১ হাজার টাকা থেকে ৮৫ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। দিনের বেলা মেশিন গুলো চা বাগানে অথবা নদীর চড়ের বালু দিয়ে ঢেকে রাখে। স্থানীয়রা বলে, যে ড্রীল ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দে এলাকা বাসীরা ঘুমাতে পারে না এবং গোটা তেঁতুলিয়ার আকাশ বোমা মেশিনের ধোয়ায় অন্ধকারে অন্ধকার সেই বিষয়ে তেঁতুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জহিরুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, কখন চলে, না চলে আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। ঐ এলাকায় একটা ফটকা ফুটলেও প্রশাসনের জানার কথা কিন্তু দুঃখের বিষয় ঐ এলাকায় এতো গুলো ড্রীল ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দের আওয়াজ নাকি তেঁতুলিয়া থানার ওসি মোঃ জহিরুল ইসলাম শুনতেই পাননা। এটাই এখন ভাববার বিষয়।