মোঃ সেলিম সোহাগ (দিনাজপুর২৪.কম) পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ৮নং বোদা সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কান্তমনি গ্রামবাসী অভিযোগ করেন যে, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ০৫ ওয়াক্ত নামাজ কান্তমনি জামে মসজিদে জামাতের সহিদ আদায় করা সম্ভব হয় না। তাই, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাদের সহিত আদায়ের সুবিধার্থে গ্রামের দু’পাশে দু’টি ওয়াক্তিয়া মসজিদের নির্মাণ করে। অন্যদিকে, প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার গ্রামের ২০৮টি পরিবারের মুসল্লি নির্ধারিত জামে মসজিদে জামাতে অংশগ্রহণ করে। এই ওয়াক্তিয়া মসজিদকে কেন্দ্র করে মসজিদ কমিটির ভিতরে কোন্দল দেখা দেয়। এরই মধ্যে একপক্ষ একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ২৩/০২/২০১৮ ইং তারিখে রেজুলেশন পাস করে, ‘২৩টি পরিবারের কেউ অত্র মসজিদে নামাজ কায়েম করতে পারবে না, এমনি ইমাম ও মুয়াজ্জিন কারো বাড়ীতে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেমন: জানাযার নামাজ, বিবাহের অনুষ্ঠান, দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করতে পারবে না, এমনকি মুষ্ঠির চাল ও বাৎসরিক চাঁদা ঐ পরিবারগুলো থেকে আদায় করা হবে না’। এদিকে গত ২৩/০৩/২০১৮ইং তারিখে ঐ ২৩টি পরিবারের মুসল্লিদের জু’মার আদায় করতে গেলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিবেশ উত্তপ্ত হলে মসজিদের পাশের মোঃ বাদশার বাড়ী থেকে লাঠি সোডা নিয়ে আসে মসজিদ প্রাঙ্গণে। মুসল্লিদের উপর আক্রমণ চালায় লাবলু (৩৫), জাহাঙ্গীর (২৬), হাসান আলী (২৯) সহ আরও অনেকে মিলে তাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে ২৩টি পরিবারের মুসল্লিসহ কোষাধ্যক্ষের ছেলে মোঃ মনিরুজ্জামানকে ধরে মারপিট করতে থাকে এবং উচ্চস্বরে বলে, তোরা আর কোন দিন এই মসজিদে আসিব না। এই ব্যাপারে মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ হাকিমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই রেজুলেশনের পক্ষে আমি নাই। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, রেজুলেশন আমি নিজেই করেছি, তা সত্য কিন্তু তা কার্যকর হয় নি। ইমাম আবুল হোসেন জানান যে, অত্র বিষয়টি একটি রেজুলেশন করা হয়েছে, তা আমি জানি। ৮নং বোদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমানের সাথে বিষয়টি কথা বললে তিনি জানান, ‘এ ব্যাপারে আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ করে নাই, লোক মুখে শুনেছি। তবে আমি আমি মিলে মিশে মুসল্লিদের ইসলামিক শরিয়াত মোতাবেক আল্লাহ্র হুকুম পালন করার জন্য দু’পক্ষের সাথে বসব’। এ বিষয়টি নিয়ে ২৩টি পরিবারের মুসল্লিগণ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, পঞ্চগড় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বোদা, অফিসার ইনচার্জ, বোদা থানার বরাবরে লিখিত ভাবে আবেদন করেছেন। উল্লেখ্য যে, গত ২০১৭ ইং সালে বোদা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডেরই ইসলামপুর জামে মসজিদকে কেন্দ্র দু’পক্ষের মারামারিতে একজন মুসল্লি প্রাণ হারায়।