সুকুমার দাস (বাবু) আটোয়ারী, পঞ্চগড় (দিনাজপুর২৪.কম) সংবাদ দাতাঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপকরন কেনার নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন খাত দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক শিক্ষকেরা এ আত্মসাৎ করেছেন। উপকরন গুলো সংগৃহিত না হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী সুকুমার দাস (বাবু) দিনাজপুর ২৪ ডট কম আটোয়ারী প্রতিনিধি ও মোঃ শাহাজাহান আলী (মিন্টু) ভোরের বার্তা স্টাফ রিপোটার। উপজেলা শিক্ষা অফিসে সত্যতা জানার জন্য সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মাজেদুল রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমরা সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে এই ১৫-১৬ইং অর্থ বছরের কাজ গুলো সমাপ্ত করেছে বলে স্বীকার করেন। সরেরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায় তারা শুধু বিল ভাউচার সংগ্রহ করে ব্যায়ের খাত ঠিকই দেখিয়েছেন কিন্তু বাস্তবে কোন মিল নেই। জানা গেছে ২০১৫-১৬ইং অর্থ বছরের সরকারী অনুদান থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ে উপকরন কেনার বাবদ ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। আটোয়ারী উপজেলায় ১১১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৪৪,৪০,০০০ টাকা বরাদ্দ পায় উপজেলা শিক্ষা অফিস। এই সব টাকা গুলো হরিলুট হয়েছে। শিক্ষকেরা শিক্ষা অফিসের সাথে যোগসাজস করে নাম মাত্র উপকরন ক্রয় করে বাকি টাকা ভাগবাটোয়রা করেছেন বলে সরেজমিনে সত্যতা মিলে। লতিঝাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সেই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। সেই স্কুলের সহকারী শিক্ষক শ্রীঃ বঙ্কিম চন্দ্র এর কাজ থেকে তথ্য সংগ্রহ কালে সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্রীঃ দ্বিগেন চন্দ্র মুভমেন্ট খাতা ব্যবহার না করে তিনি অফিসের কাজের জন্য অফিস ত্যাগ করেন। তিনি ১৯/০৪/১৬ ইং পর্যন্ত মুভমেন্ট খাতা ব্যবহার করেছেন। এর পর থেকে তিনি মুভমেন্ট খাতা ব্যবহার করেননি। তথ্য সংগ্রকালে চোখে পড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান এর ছবি ইদুরে কাটা ও ঠোট ছিদ্র অবস্থায় দেখা যায়। যা দেখতে খুবই বিশ্রী দেখাচ্ছিল। লতিঝাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শ্রীঃ বংঙ্কিম চন্দ্র তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আামরা সহকারী প্রধান শিক্ষক দ্বিগেন চন্দ্রকে ছবিটি পরিবর্তন করার জন্য অনেকবার বলেছি কিন্তু তিনি কোন কর্ণপাত করেননি। স্লিপ বাজেটের ৪০ হাজার টাকার তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন যে আমরা শুধু নাম মাত্র স্লিপ বরাদ্দ কমিটিতে আছি। বাজেটের ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ২টি সাধারন চেয়ার ও ১টি সাধারন টেবিল তৈরী করেছেন। যার আনুমানিক খরচ করেছেন ৫ হাজার টাকা মাত্র। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে তিনি একটি মোটর সাইকেল ক্রয় করেছেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকদের সাথে কোন  বিষয়ে সহভাগীতা করতে চায় না। সহকারী প্রধান শিক্ষক সরঞ্জাম ক্রয় না করে বিল ভাউচার জমা দিয়ে জুন ক্লোজ করেন। তাই সহকারী শিক্ষক শ্রী বঙ্কিম ও দিপ্তী রানী ভিডিও ফুটেজ ধারন অবস্থায় ঘটনা সত্যতার স্বীকার করেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরজমিনে বরাদ্দ তথ্য নিতে গেলে দেখা যায়, জাতির  পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনার ছবি র‌্যাক হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখেন। এমনকি বাজেটের ৪০ হাজার টাকাও নাকি আত্মসাত করেন। তার সত্যতা স্বীকার ভিডিও ফুটেজে ধারন করা হয়।
১০৭নং মির্জাপুর সরকার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রধান শিক্ষিকাকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। স্কুলের সহকারী শিক্ষকের জানতে চাইলে তিনি বলেন উনার সন্তান অসুস্থ্য তাই বাড়ি গিয়েছেন। পরে তার শিক্ষক প্রধান শিক্ষিকাকে মুঠোফোনে বিদ্যালয়ে ডেকে আনে। রুমে প্রবেশ করেই চোখে পড়ে রুমের ভিতর জাতির পিতা ও উনার কন্যার ছবি নেই। প্রধান শিক্ষিকার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ছবি লাগানো হয়নি তবে লাগাবো। অতি দুঃখের সাথে বলতে হয় নতুন ভবন ২০১৪ সালে স্থাপিত হয়েছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সেই ছবিগুলো এখনো লাগানো হয়নি। বাজেটের ৪০ হাজার টাকার বিষয় জানতে চাইলে তিনিও নাম মাত্র খরচ করে বিল ভাউচার জমা দিয়ে অর্থ বছর ক্লোজ করেন। যার ভিডিও ফুটেজে ধারন করা হয়েছে।
৩৩নং ফুলবাড়িয়া হাট রাধানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ রুখশানারা বেগম। তিনিও নাম মাত্র সরঞ্জাম ক্রয় করে দোকান থেকে সাদা ভাউচার সংগ্রহ করে ২০১৫-১৬ অর্থ বছর ক্লোজ করে টাকা আত্মসাত করেছেন। যার ভিডিও ফুটেজে ধারন করা হয়েছে।

মোলানী সেনপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গণ মাধ্যম কর্মী প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ ফাতেমা বেগমকে সকাল ১১.০২ পর্যন্ত অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তার সহকারী শিক্ষকেরা বলেন তিনি প্রায় স্কুলে দেরি করে আসেন। উনার মধ্যে অনেক অনিয়ম রয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের মুল্যায়ন করেন না। শিক্ষকের সাথে কথা চলাকালীন প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ ফাতেমা বেগম ১১.২০ মিনিটে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। উনার সাথে পরিচয় প্রদানে তিনি ক্ষীপ্ত হয়ে অশ্লিল ভাষায় গণ মাধ্যম কর্মীকে অপমান ও লাঞ্জিত করেন। বরাদ্দের ৪০ হাজার টাকার তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন বিল ভাউচার বাড়িতে রেখে দিয়েছি। তিনি বাজেটের কপি নোটিশ বোর্ডে লাগাননি। তিনিও নাম মাত্র সরঞ্জাম ক্রয় করে সাদা ভাউচার সংগ্রহ করে ৪০ হাজার টাকার ২০১৫-১৬ অর্থ বছর ক্লোজ করে টাকা আত্মসাত করেছেন। সেই দিন সেখানে উপস্থিত থেকে মুঠো ফোনে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মাজেদুল রহমানের সাথে বিষয় গুলো তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ইতি পূর্বে মোছাঃ ফাতেমা বেগম জাতির পিতা ও তার কন্যার ছবির অবমাননার দায়ে শিক্ষা অফিস থেকে একটি শোকজ চিঠি পান। ১৭/০৭/২০১৬ইং তারিখ স্কুলে দেরিতে উপস্থিত হওয়া তিনি আরো একটি শোকজ চিঠি পান। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল প্রকার অবহেলা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের চিত্র ধরা পরে। এই সকল বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মাজেদুল রহমানের সাথে সাক্ষাতকার নিতে গেলে ফাত পেতে বসে থাকা দুর্নীতি বাজ শিক্ষকবৃন্দ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু জাফর রাফাকে গণমাধ্যম কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে কর্ন ভারি করেন।
২৪/০৭/২০১৬ইং তারিখ লতিঝাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্রী দ্বিগেন চন্দ্র বর্মন অনুপস্থিত ছিলেন। তার সহকারী শিক্ষক শ্রী দ্বিগেন চন্দ্র বর্মনকে মুঠো ফোনে গণ মাধ্যম কর্মী কথা বলেন এবং গণ মাধ্য কর্মীর সাথে কথা বললে তিনি শিক্ষা অফিসের সামনে দেখা করতে বলেন। গণ মাধ্যম কর্মীগন তথ্য সংগ্রহ শেষে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে আসেন। এসে দেখা যায় শিক্ষা অফিস বন্ধ পরে শ্রী দ্বিগেন চন্দ্র বর্মনকে শিক্ষা অফিসে না পেয়ে ফোনে কথা বলা হয়। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাস ভবন থেকে বেড়িয়ে আসেন তাকে বাজেটের ৪০ হাজার টাকার তথ্য  জানতে চাইলে তিনি বলেন সময় হলে আমি খরচ করব। তার সাথে কথা চলা কালীন তিনি বার বার নির্বাহী অফিসারের বাস ভবনের দিকে তাকান। কিছুক্ষন পরে ৩০-৩৫জন শিক্ষক শিক্ষিকা অফিসের সামনে এসে ২ (দুই) গন মাধ্যম কর্মীকে অপদস্ত, লাঞ্জনা ও মারপিট করেন। এমনকি তাদের ভুয়া সাংবাদিকের কথা বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট নিয়ে যান। নির্বাহী অফিসার দুই গন মাধ্যম কর্মীর কাছ থেকে কোন তথ্য জানার চেষ্টা করেন নি। আটোয়ারী থানা অফিস ইনচার্জ মোঃ শাহ আলমকে ফোনে ডেকে এনে ভ্রাম্য মানে চালান দেবে বলে হেনকাপ পড়িয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ ৩০-৩৫জন শিক্ষক প্রায় ২ ঘন্টা ধরে নির্বাহী অফিসারের সাথে সিদ্ধান্ত নেন। পরে সেখান থেকে থানায় গণমাধ্যম কর্মীকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাত ১২টার দিকে শিক্ষকেরা জাতির পিতা ও তার কন্যার ছবি ভাংচুর ও চাঁদা বাজির অপবাদ দিয়ে একটি মিথ্যা মালা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০৫, তারিখ ২৪/০৭/২০১৬ইং ধারা আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের ২০০২এর ৪ধারা রজু করেন। প্রাথমিক সরকারী বিদ্যালয়ের অপকর্মগুলো ফাঁস হওয়াতে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির যোগ সাজোসে মিথ্যা মামলার হয়রানির শিকার হয়েছে ২ গণমাধ্যম কর্মী। ২ গণমাধ্যম কর্মীর কাছে শিক্ষকদের জালিয়াতি, অর্থ লুটপাট, জাতির পিতা ও তার কন্যার ছবি অবমাননার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এই বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ সিদ্দিক এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন ২ গনমাধ্যম কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়ে তারা অন্যায় করেছে। যদি শিক্ষক সমিতির কেউ অন্যায়মুলক কাজ করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি বলেন আটোয়ারী উপজেলায় এত বড় ঘটনা শুনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এদিকে গন মাধ্যম কর্মী বর্তমানে জীবন নিরাপত্তায় ভুগছে। শিক্ষক সমিতির প্রশাসন ও এলাকার সুবিধাবাদি বিত্তমহল দ্বারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে। যদি তাদের অপকর্মের সত্যতা প্রকাশ বা লেখা লখি করা হয় তাহলে যে কোন কৌশলে মিথ্যা মামলায় আবার জড়িয়ে হয়রানির স্বীকার করাবে ও গণমাধ্যম কর্মীর পরিবারকে বিপদে ফেলবে। এইভাবে গনমাধ্যম কর্মীগুলোকে দেশের উন্নয়ন কাজের সমপ্রচারনে বাধাগ্রস্থ করছে।