সুকুমার দাস বাবু, পঞ্চগড় প্রতিনিধি (দিনাজপুর২৪.কম) পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বিয়ের দাবীতে এক কলেজ পড়–য়া তরুনী তার প্রেমীকের বাড়ীতে গত ২২ জুলাই হতে অদ্যাবধী অবস্থান করার খবর পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সর্দারপাড়া গ্রামে। গতকাল সোমবার সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ওই গ্রামের জনৈক কোকিল চন্দ্র বর্মনের মেয়ে ও আটোয়ারী মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী রীপা রানীর সাথে তাদের বাড়ি সংলগ্ন জনৈক ধনীরাম বর্মনের পুত্র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাব্য ভূষণ বর্মনের মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রীপা জানায়, প্রেমের সম্পর্কের সুত্র এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুযোগ পেলেই কাব্য প্রায়ই তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে দৈহিক মিলনে বাধ্য করত্।ো এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুলাই বিকেলে যথারীতি কাব্য মেয়েটিকে বাড়ীতে একা পেয়ে ধর্ষন করে। কাকতালীয়ভাবে এ সময় রীপার বড়ভাই দ্বীপু বর্মন হাতে-নাতে ধরে ফেলে কাব্যকে আটক করে ঘরে তালা দেয় এবং প্রতিবেশীদের ডাকতে যায়। এই ফাঁকে কাব্য কৌশলে ঘরের বেড়ার বাধন খুলে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে মেয়েটির বড়ভাই ঘরে ফিরে কাব্যকে দেখতে না পেয়ে তার বোনকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। মেয়েটি কোন উপায় না দেখে সে সোজা কাব্যর বাড়িতে গিয়ে তাদের প্রেমের সম্পর্কের বৃতান্ত তুলে ধরে এবং বিয়ের দাবীতে ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতৃার ঘরে অবস্থান নেয়। এসময় কাব্যর মা-বাবা সহ তার পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে ব্যাপক মারপিট করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়। রীপা আরো ঘোষনা দেয়, কাব্যর সাথে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত সে ঘর থেকে বের হবেনা, প্রয়োজনে তার লাশ বের হবে। পরবর্তীতে রীপার অভিভাবকরা ঘটনাটি সমাধানের লক্ষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ পুলিশের শরণাপন্ন হয়েও অদ্যাবধী কোন সমাধানের পথ খুঁজে না পেয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে রীপার পরিবার সুত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি মেয়েটির বাবা কোকিল চন্দ্র আরো জানান, ছেলেটির পক্ষে একটি প্রভাবশালী মহল আড়াল থেকে বিষয়টিকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার পায়তারা চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে কাব্যকে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল ফোনে একাধীকবার ফোন দিয়েও সে ফোন রিসিভ করেন নি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।